| |

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বেচ্ছাসেবী কৃষি শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে ধানের উৎপাদন খরচ কমানোর প্রস্তাব দাখিল

আপডেটঃ 11:40 pm | May 17, 2020

Ad
আব্দুল কদ্দুছ মাখন ॥
কৃষি এবং কৃষকের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ ও জাতির উন্নতি সাধনের নিমিত্তে বোর ধানের মৌসুমে কৃষি শ্রমিক সঙ্কট নিরসনের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবী কৃষি শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে ধানের উৎপাদন খরচ কমানো সহ সরাসরি কৃষকের নিকট থেকে ধান ও চাউল সংগ্রহের প্রস্তাব দাখিল করেছেন কৃষি ও কৃষকের কল্যানে মাঠে ময়দানে কাজ করা সমাজ কর্মী, বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ ময়মনসিংহ জেলা শাখার সহ সভাপতি আবদুল কুদ্দুছ মাখন।
বাংলাদেশের প্রধান ফসল ও খাদ্য যথাক্রমে ধান ও চাউল। ধানের প্রধান মৌসুম বোর আবাদ। মূলত দেশের শতকরা ৭০ ভাগের উপর খাদ্য উৎপাদিত হয় বোর মৌসুমে। বোর ধানে উৎপাদন বেশী খরচও বেশী। একক ভাবে চিন্তা করলে সব থেকে বেশী খরচ হয় ধান কাটার সময় শ্রমিক বাবদ।
আবহমান কাল থেকে বোর ধান কাটার সময় কৃষি শ্রমিকের সঙ্কট চলমান। গত যুগে শিল্পের উন্নতি হওয়ায় বিপুল সংখ্যক কৃষি শ্রমিক তাদের পেশা পরিবর্তন করায় কৃষি শ্রমিক আরো হ্রাস পেয়েছ। সম্প্রতি দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস জনিত লক ডাউনের কারণে শ্রমিক সঙ্কট ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সারা দেশজুড়ে প্রায় একসাথে বোর ধান কাটার মৌসুম শুরু হওয়ায় এবার কৃষক গন শ্রমিকের অভাবে দিশেহারা। প্রতি একর জমির ধানকাটার পারিশ্রমিক ৯০০০/= টাকা থেকে ১২০০০/= টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এতে মনপ্রতি কৃষকের উৎপাদন খরচ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে ১০০/= টাকার উপরে। এই উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির দরুন ধানের মূল্য বৃদ্ধি পায়, ধানের মূল্য বৃদ্ধির কারনে চালের মূল্য বৃদ্ধি পায়। দেশবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সমাজসেবক আবদুল কুদ্দুছ মাখনের প্রস্তাব অনুযায়ী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন করা হলে ধানের উৎপাদন খরচ কমতে বাধ্য। উনি তার প্রস্তাবে, প্রথমত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের স্বেচ্ছাসেবী শ্রমিক হিসাবে নিয়োগের প্রস্তাব দাখিল করেছেন। স্বেচ্ছাসেবী শ্রমিক হিসাবে অংশ নেয়া ছাত্রদের জন্য ধানকাটা শেষে সনদপত্র প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সনদ পত্র দ্বারা ভবিষ্যতে ছাত্রদের বিভিন্ন উচ্চতর ক্লাশে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বা উচ্চ শিক্ষায় ভর্তিতে অগ্রাধিকারের ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ রয়েছে। যদি কোন ছাত্র স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন কালে উক্ত সনদপত্র অর্জন করে তবে তাকে সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে চাকুরীতে অগ্রাধিকার প্রদানের বা কোটা প্রবর্তনের আহবান জানানো হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী শ্রমিক হিসাবে নিয়োগ দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে আর্মি, বিজিবি, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ও আনসারদের। তাদেরকেও সনদপত্র প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। উক্ত সংস্থাসমূহে কর্মরত কোন সদস্য যদি পরপর তিন বৎসর ধান কাটায় অংশ গ্রহন করে তবে তাদের জাতিসংঘের বিদেশি মিশনে ডেপুটেশনে নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে।
যে সব সংস্থায় উদ্ধৃত জনবল আছে সেখান থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগ্রহের নিবেদন জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে কৃষি মন্ত্রণালয় সহ বড়বড় মন্ত্রণালয় থেকে রেশনিং -এর মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী শ্রমিক সংগ্রহের প্রস্তাব আছে। বোর ধানকাটার মৌসুমকে গ্রীষ্মকালীন ছুটির আওতায় এনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের নিয়োগ দেয়ার পরামর্শ রয়েছে দাখিল কৃত প্রস্তাবে।
কিভাবে উৎপাদন খরচ করবে এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল কুদ্দুছ মাখন জানান, একর প্রতি কৃষি শ্রমিকের সর্বনিম্ন শ্রমমূল্য ৯০০০/টাকা। স্বেচ্ছাসেবী শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হলে তাদের খাদ্য বাবদ সর্বোচ্চ খরচ হবে ৩০০০/টাকা, সঞ্চয় ৬০০০/ টাকা। একর প্রতি বোর ধানের উৎপাদন ৬০ মন। সুতরাং মনপ্রতি উৎপাদন খরচ কমবে ১০০/টাকা। মোট উৎপাদিত ধানের উপর এই খরচ কমবে কয়েকশত কোটি টাকা।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় জানা যায় সরকার কৃষিকে যান্ত্রিকী করনের জন্য এবার তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় যান্ত্রিকী করনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মাখন সাহেব বলেন, তিন হাজার কোটি টাকায় শতভাগ যান্ত্রিকী করন সম্ভব না। উক্ত টাকায় মাত্র ৭/৮ ভাগ সম্ভব হতে পারে। প্রতিবৎসর উক্ত পরিমাণ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও আনুষঙ্গিক অন্যান্য কারনে আগামী ত্রিশ বছরেও শতভাগ যান্ত্রিকী করন সম্ভব হবে না। সেজন্যে যান্ত্রিকী করনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী কৃষি শ্রমিক জরুরী। আবদুল কুদ্দুছ মাখনের প্রস্তাবে প্রতিগ্রাম থেকে গড়ে ৩০জন করে স্বেচ্ছাসেবী শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হলে ৬৮০০০ গ্রাম থেকে ২০৪০০০০ (বিশ লক্ষ চল্লিশ) হাজার শ্রমিক নিয়োগ দেয়া সম্ভব। সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে এমন আরো পাঁচ লক্ষ শ্রমিক সংগ্রহ করা সম্ভব।
২০৪০০০০ ছাত্রকে স্কুল বা কলেজ ড্রেস বাবদ এককালীন ১৫০০/ অনুদান দেয়া হলে খরচ হবে তিনশত ছয় কোটি টাকা। যার পুরোটাই উৎপাদন খরচ কমে গেলে উঠে আসবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের মূলত লোকসান হবে না কিন্তু চিরস্থায়ী লাভ হবে। এই প্রক্রিয়ার কারনে চালের দাম স্থিতিশীল থাকবে, দেশ জনতা এর সুফল ভোগ করবে। এটা এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা, কৃষি, কৃষক,ভোক্তা ও দেশ জাতি উপকৃত হবে।
প্রস্তাবে কৃষকের নিকট থেকে সরাসরি ধান চাল ক্রয়ের কার্যকর পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাঠে সরাসরি কাজ করে সেই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ দেখানো হয়েছে।
আবদুল কুদ্দুছ মাখন প্রস্তাবটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রথম জমা দিয়েছিলেন ২৬/০৮/২০১৯ তারিখ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক পিএস ও সাবেক সচিব বর্তমানে শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি যাদুঘরের কিউরেটর জনাব নজরুল ইসলাম খনের মাধ্যমে। করোনা কালীন লক ডাউনের কারণে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় মৌসুম শুরুর পর পূনরায় জমা দিয়েছেন মাননীয় কৃষি মন্ত্রীর মাধ্যমে।
দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হলে এখনো জনতার শতশত কোটি টাকা লোকসান থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

ব্রেকিং নিউজঃ