| |

লাইলাতুল কদর আরবী শব্দ

আপডেটঃ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ | মে ২১, ২০২০

Ad
আব্দুল কদ্দুছ মাখন :
লাইলাতুল কদর আরবী শব্দ।
এর বাংলা অর্থ অতিব সম্মানিত বা মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী। আরবি ভাষায় ‘লাইলাতুল’ অর্থ হলো রজনী বা রাত্রি আর ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, মহাসম্মান। বাংলাদেশে এটা শবে কদর নামে পরিচিত। ইসলাম ধর্ম অনুসারে, এ রাতে ইসলামের সর্বশেষ নবী, হযরত মুহাম্মদ (সঃ)- এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত পুণ্যময় ও মহাসম্মানিত হিসেবে পরিগণিত।
কুরানের বর্ণনা অনুসারে, আল্লাহ এই রাত্রিকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই রজনী বা রাত্রির ইবাদতকে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিবছর মাহে রমজানে এই মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর মুসলিম সমাজ গুরুত্বের সাথে পালন করে।
শবে কদরের ইতিহাস ও গুরুত্বঃ
৬১০ সালে শবে কদরের রাতে মক্কার নূর পর্বতের হেরা গুহায় ধ্যানরত ইসলাম ধর্মের শেষ নবী মহামানব, হযরত মুহাম্মদের (সঃ) নিকট সর্বপ্রথম কোরআন নাজিল হয়। মতান্তরে তার নিকট প্রথম সূরা আলাক্বের প্রথম পাঁচটি আয়াত নাজিল হয়। অনেকের মতে এ রাতে ফেরেশতা জীবরাইল এর নিকট সম্পূর্ন কোরআন অবতীর্ণ হয় যা পরবর্তিতে ২৩ বছর ধরে হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর নিকটে তার বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তা এবং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট আয়াত আকারে নাজিল করা হয়।
মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন এই রাত সর্ম্পকে হাদিস শরীফে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। এমনকি মুসলমানদের প্রধান ধর্ম গ্রন্থ আল কোরআনে সূরা ক্বদর নামে স্বতন্ত্র একটি পূর্ণ সুরা নাজিল হয়েছে। এই সুরায় শবে কদরের ইবাদতকে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলাম ধর্মানুসারীদের মতে, মুহাম্মদ (সঃ)- এর পূর্ববর্তী নবী এবং তাদের উম্মতগণ দীর্ঘায়ু লাভ করার কারণে বহু বছর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইবাদাত করার সুযোগ লাভ করতেন। কোরান ও হাদীসের বর্ণনায় জানা যায়, ইসলামের চার জন নবী যথা আইয়ুব, জাকরিয়া , হিযকীল ও ইউশা ইবনে নূন প্রত্যেকেই পাপ কাজ ব্যাতীত আশি বছর মহান আল্লার ইবাদত করেন।
কিন্তু মুহাম্মদ (সঃ) থেকে শুরু করে তার পরবর্তী অনুসারীগণের আয়ু অনেক কমে যাওয়ায়, তাদের পক্ষে মহান আল্লার ইবাদত করে পূর্ববর্তীতের সমকক্ষ হওয়া কিছুতেই সম্ভব নয় বলে, তাদের আক্ষেপ ও চিন্তা দূরীকরণের লক্ষ্যে সুরা ক্বদর নাজিল করা হয় বলে হাদিসের ব্যাখ্যায় জানা যায়।
হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, শবে কদরে হজরত জিবরাঈল (আ.) ফেরেশতাদের বিরাট একটি দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং যত নারী-পুরুষ মহান আল্লাকে সন্তুষ্ট করার জন্য নামাজ,জিকির সহ অন্যান্য ইবাদতে মশগুল থাকে তাঁদের জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকে।
মুসলমানদের কাছে কদরের রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। কোরানের সুরা কদরে উল্লেখ আছে লাইলাতুল কদরের রাতে সৎ এবং ধার্মিক মুসলমানদের ওপর আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। লাইলাতুল কদরে মুসলিমরা আল্লাহর কাছে মাগফিরাত, নাজাত ও ক্ষমা পাওয়ার পরম সুযোগ লাভ করে।
লাইলাতুল কদর সম্পর্কে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) বলেন, যে ব্যক্তি এ রাত ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করবে, আল্লাহ তাঁর পূর্বেকার সব গুনাহখাতা মাফ করে দেবেন। (বুখারি)
হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী, লাইলাতুল কদরের রজনীতে যে বা যারা আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকবে, আল্লাহ তার ওপর থেকে দোজখের আগুন হারাম করে দেবেন। এ সম্পর্কিত হাদীসটি হল, সমস্ত রজনী আল্লাহ তাআলা লাইলাতুল কদর দ্বারাই সৌন্দর্য ও মোহনীয় করে দিয়েছেন, অতএব তোমরা এ বরকতময় রজনীতে বেশি বেশি তাসবিহ-তাহলিল ও ইবাদত-বন্দেগিতে রত থাকো। অন্য হাদিসে তিনি বলেছেন, তোমরা তোমাদের কবরকে আলোকিত পেতে চাইলে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদরে জেগে রাতব্যাপী ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দাও।
লাইলাতুল কদরে মহাগ্রন্থ আল-কোরান নাজিল হয়েছে। আল কোরান ইসলাম ধর্মানুসারীদের শান্তি কল্যান, সমৃদ্ধি ও মুক্তির পথ দেখায়।
শবে কদর মহান আল্লার অশেষ রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের অশেষ সুযোগ করে দেয়।
বিভিন্ন দেশের মুসলিম গন ইবাদত বন্দেগী ছাড়াও জনকল্যাণ মূলক কাজের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর পালন করে থাকে। যেমনঃ- বাচ্চাদের প্রথম রোজা রাখায় উদ্ভুদ্ধ করা, তাদের নতুন পোষাক কিনে দেয়, মেহেদী দ্বারা তাদের হাত রাঙ্গিয়ে দেয়, গন বিবাহের আয়োজন করে, ভালো খাবার রান্না করে গরীব দুঃখীদের মাঝে বিতরণ ও অর্থ দান করে।
মহিমান্বিত রজনী শবে কদরে বিশ্ববাসীর জন্য রোগ মুক্ত জীবন এবং সর্ব প্রকার সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি।

ব্রেকিং নিউজঃ