| |

আমরা এখন কী করব ?

আপডেটঃ 11:40 am | May 29, 2020

Ad

এডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু :
করোনা পজিটিভ, নিগেটিভ নাকি সাসপেক্টেড- এটি এখন নাগরিক জীবনের অপরিহার্য অনুসঙ্গ। বিশ্বব্যাপী নাম্বার ওয়ান পদ মর্যাদায় আসীন হলেও বাংলাদেশের নাগিরক জীবনে এটি তেমন একটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। সাধারণ ছুটি, লক ডাউন, কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন, পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী, মোবাইল কোর্ট- সরকারের এ জাতীয় বহুমুখী পদক্ষেপ না থাকলে এদেশে নাগরিক করুণা ছাড়া করোনা নিজেই অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যেতো। এর প্রধান কারন, জীবন ও মৃত্যুকে আমরা সহজেই মেনে নিতে পারি। হয়তো এ জন্যই পৃথিবীর অন্যতম সুখী নাগরিকের তালিকায় স্হান করে নিতে পেরেছি।
ভয় কিংবা আতঙ্ক নয়; সাহস দিয়ে করোনাকে মোকাবেলা করতে বলা হয়েছে- হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বীরের এ জাতি তা পালন করছে অক্ষরে অক্ষরে।
#৮মার্চ_১জন_দিয়ে_গননা_শুরু_৮১তম_দিনে_২০২৯_আর_৮১_দিনে_মোট_৪০৩২১!!!!
২৬ মার্চ থেকে লক ডাউন শুরু, ২৭ মার্চ থেকেই আমরা নেমে পড়লাম ত্রাণ নিয়ে। রাষ্ট্র ও সরকারের সক্ষমতাকে নিলামে তুললাম জ্ঞাতে কিংবা অজ্ঞাতে। সরকার বলছে ঘরে থাকুন; আর ত্রাণ দেয়ার নামে লোকজনকে ঘর থেকে নিয়ে এলাম বাইরে।
বলা হলো, সরকারী কোষাগারের টাকায় দেয়া ত্রাণ গ্রহণ লজ্জার নয়- এটি আপনার অধিকার। আমরাও শুরু করে দিলাম অধিকার প্রয়োগ। খাটের তলায়- ঘরের মেঝে মজুদ করতে শুরু করলাম ত্রাণের চাল আর তেল। এক পরিবারের এক ব্যাক্তির জন্য এক মোবাইল নাম্বারে আড়াই হাজার টাকার ঘোষণা পেয়ে একটি নাম্বারে ৮০ নামের তালিকা তৈরি করলাম। এ পর্যন্ত বরখাস্তকৃত জনপ্রতিনিধির সংখ্যাটা ৭১ এ-ই থমকে দাঁড়াবে কিনা নিশ্চিৎ নয়।
ত্রাণ বিতরণ কাজে নিশ্চয়ই মানবিক কারনে খিচুরিসহ রান্না করা খাবার বিলাতে লাগলাম; ছবিও তুলে রাখলাম। ফলাও করে মিডিয়ায় প্রচারের ব্যবস্হাও করলাম। সময়-সুযোগে এই ছবিগুলোই ব্যবহার করে বলতে পারবো ‘৭৪ এর মত ২০২০ সালেও দেশে লঙ্গরখানা চালু হয়েছিল।
সীমিত আকারে দোকান খোলার অনুমতি পেয়ে ঈদের কেনাকাটার জন্য যেভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়লাম তাতে কি বুঝার সাধ্যি ছিল যে লকডাউন আমাদের পকেটে কোন প্রভাব ফেলতে পেড়েছে?
লকডাউন নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে টম এন্ড জেরী খেলার পারদর্শীতায়ও অনন্য হলাম।
অবশেষে, সদাশয় সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া শর্ত জুড়ে উন্মুক্ত করে দিল সবকিছু। ভাল কি মন্দ হয়েছে তা সময়ই মুল্যায়ন করবে। তবে সংখ্যাটা ‘লক্ষ’ অর্জনে কত সময় নিবে হয়তো তা প্রত্যক্ষ করতে দীর্ঘ অপেক্ষার দরকার পড়বে না।
কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, ‘জীবন’ না ‘জীবিকা’ কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? আসলে এটি তুলনার বিষয় নয়। জীবন ও জীবিকা হলো এক ব্রেইন ও এক হার্ট বিশিষ্ট জমজ শিশু। এদের বিচ্ছিন্ন করে সুস্হ রাখা সম্ভব নয়। কাজেই অনির্দিষ্টকাল জীবিকা অন্বেষণ বন্ধ করে রাখা যায় না- এটিই সত্য।
তাহলে আমরা কী করব?
এর কোন সহজ উত্তর নেই।
সরকার বলছে ‘সীমিত আকার’ ও ‘স্বাস্হ্য বিধি’ মেনে চলতে, নইলে কঠোর ব্যবস্হা। এ রকম বিষয়ের সঙ্গে আমরা অনেকটা পরিচিত। মোবাইল কোর্টে দু’একটা অর্থদন্ড!
অদক্ষতা, অব্যবস্হাপনা, সমন্বয়হীনতাসহ আমাদের দিক থেকে নানান অভিযোগে অভিযুক্ত সরকারের কাজ সরকার করবে, জীবনটা কিন্তু একান্তই আমার। ‘লক্ষ’ অর্জনে নিজের জীবনটা চলমান গননায় যুক্ত করবো কি করবো না সে সিদ্ধান্তও একান্তই আমার।

ব্রেকিং নিউজঃ