| |

সার্কিট হাউজ মাঠ নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করুন

আপডেটঃ 10:36 pm | June 03, 2020

Ad

রবীন্দ্র নাথ পালঃ সার্কিট হাউজ মাঠ নিয়ে পক্ষে – বিপক্ষে অনেক কথা হচ্ছে। হঠাৎ করে এতবড় একটা কর্মযক্ষ হচ্ছে, যা ময়মনসিংহবাসী জানেনা। অামরা প্রশাসনের কাছে বিজ্ঞপ্তি অাকারে বিস্তারিত জানতে চাই।
গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এক সভা তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সুত্র জানায় ঐ সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান,জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, জেলা অাওয়ামীলীগের সভাপতি এড,জহিরুল হক খোকা, সিনিয়র সহ সভাপতি অামিনুল হক শামীম, জেলা অাওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এড,মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর অাওয়ামীলীগের সভাপতি এহতেশামুল অালম,প্রেসক্লাব সেক্রটারী অমিত রায় সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সুত্রজানায়, ঐ সভায় বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সার্কিট হাউস মাঠের চারিদিকে তিনফুট উচু দেয়াল ও তার উপর তিনফুট উচু রেলিং নির্মান করে মাঠের মধ্যে গরুছাগলের অবাধ চলাচল, রাতে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধও নেশাখোরদের অাড্ডা বন্ধ করে চারিদিকে ওয়াকওয়ে,লাইটিং, দর্শকদের বসার স্থান নির্মান সহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সকলের ম্যুরাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় অারো জানানো হয়, এ প্রকল্পের ব্যয় হবে প্রায় সাত কোটি টাকা। এরমধ্যে এখন পাওয়া গেছে ৫৫ লাখ টাকা। সভায় সার্কিট হাউজ মাঠ চারিদিকে দেয়াল দিয়ে ঘেরাও দেয়ার বিপক্ষে মত দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান। বাকী সবাই প্রকল্পের স্বপক্ষে মতামত দেন।
সার্কিট হাউজ মাঠটি ময়মনসিংহ নগরের ফুসফুস। সকাল সন্ধা ছেলে থেকে বুড়োরা এখানে হাটাহাটি ও খেলাধুলা করে। ঘেরা দেয়া দেয়ালের মাঝে বেশ কটি গ্যাট থাকবে। এভাবে সার্কিট হাউজ মাঠটি বন্ধ করে দেয়া হলে নগর ও বাইরে থেকে অাসা ছেলে মেয়েরা ফুটবল,ক্রিকেট,ভলিবল,দৌড় সহ নানা খেলা ধুলায় বিঘ্ন ঘটবে।
জেলার সুধী সমাজের সাথে মতবিনিময় না করে এমন একটি প্রকল্প নেয়ায় ফুঁসে উঠেছে ক্রীড়ামোদী সহ সাধারন মানুষ। জাতির জনক ও তার পরিবারের ম্যুরাল নির্মিত হোক সেটা সবাই চায়৷ এই মাঠটি ঐতিহাসিক মাঠ।এখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, হোসেন সোরওয়াদী,পাক অামলে ফাতেমা জিন্নাহ, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রমুখ লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখেছেন। এই সবুজ মাঠটি নগরবাসীর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। সুতরাং এই মাঠটি ঘিরে যে প্রকল্পই নেয়া হোক,সেখানে নগরের সুধী সমাজের মতামত নেয়া ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলার গৃহায়ন ও গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ অাহমেদ,স্থানীয় সংসদ সদস সহ সিটি করপোরেশনের জনপ্রিয় মেয়র ইকরামুল হক টিটু ও এ প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত নয় বলে জানা গেছে।
অামাদের প্রত্যাশা বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জনসাধারনের কৌতুহল বিষয়ে অবগতি করবেন। যাতে মানুষ বিস্তারিত জানতে পারে। তা না হলে বহ্মপুত্র নদের অপরপাড়ে বিভাগীয় শহর গড়ার মত প্রত্যাশা বিনষ্ট হতে পারে। যা অামাদের কাম্য নয়।

ব্রেকিং নিউজঃ