| |

জুয়াড় মামলায় সুবিধা না পেয়ে কেন্দুয়া থানার ওসির বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত একটি মহল !

আপডেটঃ 10:48 am | June 13, 2020

Ad

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ সম্প্রতি গত ৪ জুন রাতে পুলিশ এক অভিযান চালিয়ে নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানা পৌর শহরের সাউদপাড়া এলাকা থেকে দুই পৌর কাউন্সিলর ও এক ইউপি সদস্যসহ ৯ জুয়াড়িকে গ্রেফতার করে, আদালতে পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান বলেন পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং সাজানো নাটক। তিনি আরো বলেন-স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল থানায় তাদের ইচ্ছে মাফিক সুবিধা না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে নানা রকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলেও জানান ওসি।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, গত ৪ জুন রাতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে কেন্দুয়া পৌর শহরের সাউদপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে ৮নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর আব্দুল কাইয়ূম ভূইয়া, ৫নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর আনিসুর রহমান রতন, কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য আবু হারেছ, চিরাং ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফাসহ ৯ জুয়াড়িকে জুয়াখেলা অবস্থায় আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় পুলিশ জুয়া খেলার সরঞ্জামাদিসহ নগদ দেড় লক্ষাধিক টাকাও জব্দ করে। পরে আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদেরকে সুস্থ্য অবস্থায় নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়।
এদিকে আসামীরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর গোলাম মোস্তফার স্ত্রী তার স্বামীকে কেন্দুয়া থানার ওসি অমানবিক নির্যাতন করেছে উল্লেখ করে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওসির বিরুদ্ধে একটি মামলায় সাক্ষী দেয়ার জের ধরে ওসি গোলাম মোস্তফাকে ধরে নিয়ে তার পায়ুপথে মরিচগুঁড়া দেয়াসহ এ নির্যাতন করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
নির্যাতনের অভিযোগ মিথ্যা ও সাজানো জানিয়ে ওসি বলেন, পায়ুপথে মরিচ গুঁড়া দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাকে কোনো নির্যাতনও করা হয়নি। তবে জুয়াড়িদের আটকের সময় দস্তাদস্তি হলে গোলাম মোস্তফা কিছুটা ব্যথা পান। এ জন্য তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাও করায় পুলিশ। ওসি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত জুয়াড়িদের মধ্যে পৌর কাউন্সিলর আব্দুল কাইয়ুম ভূঞা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়ার ছোট ভাই। গত কয়েক মাস পূর্বে উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংকের সামনে মোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়ার চেম্বারের পেছনে একটি ঘরে নিয়মিত জুয়া খেলা চলে আসছিল। সেখান থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ জনকে আটক করে। ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া তাদেরকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে এসেছিলেন। তার কথামত জুয়াড়িদের ছেড়ে না দেওয়ায় তিনি আমার বিরুদ্ধে নিজে এবং বিভিন্ন লোক দিয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিক মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করছেন। গোলাম মোস্তফার পায়ুপথে মরিচের গুড়া দেয়া এবং নির্যাতনের অভিযোগটি মিথ্যা এবং সাজানো। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়ার সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ওসি রাশেদুজ্জামানের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করার পর থেকেই তিনি আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে নাজেহাল করছেন। আমি এসবের সুষ্ঠু তদন্ত চাই। এদিকে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মোস্তাফিজউর রহমান বিপুল বলেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল কালোবাজারে বিক্রিসহ জুয়া খেলায় অংশ নিয়ে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য জেলা যুবলীগ বরাবর চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আব্দুল কাদির ভূঞা সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ওসি রাশেদুজ্জামান কেন্দুয়া থানায় যোগদান করার পর থেকেই মাদক জুয়াকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়ে সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন। জুয়াড়িরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওসির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সাজিয়ে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি মহল। আমরাও দলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করছি।

ব্রেকিং নিউজঃ