| |

না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন মহিয়ষী নারী এমপি ধনুর রত্নগর্ভা মা বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুন নেছা আফসার

আপডেটঃ ৩:১৫ অপরাহ্ণ | জুন ২৫, ২০২০

Ad

সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন মহিয়ষী নারী ময়মনসিংহের ভালুকা আসনের এমপি আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনুর রত্নগর্ভা মা বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুন নেছা আফসার (৯৮)। ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আজ ২৫-০৬-২০২০ তারিখ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ছেলে, মেয়ে, নাতী, নাতনীসহ বহু আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী এবং শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন। আজ বাদ আসর ভালুকা ডিগ্রি কলেজ মাঠে মরহুমার জানাযা নামাজ শেষে উপজেলা সদরের মেজর ভিটায় পারিবারিক গোরস্তানে স্বামী মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কিংবদন্তি মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদ-এর পাশেই দাফন করা হবে।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সবাইকে প্রিয় রত্নগর্ভা মার জানাযায় উপস্থিত হওয়ার জন্য এমপি আলহাজ্ব কাজিম উদ্দন আহম্মেদ ধনু বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। মরহুমার মৃত্যুকে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, দেশের বিভিন্ন আসনের এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতা, পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগ, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠন ছাড়াও সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠনের নেতা এবং আলেম-ওলামারা। বয়সের ভারে নুব্জ্য রত্নগর্ভা মা খায়রুন নেছা আফসার ১০ জুন অসুস্থ হন। ভালুকা এবং ঢাকার বাসায় চিকিৎসা করানোর পর ১৫ জুন তাকে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে ১৪ জুন তার করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। উন্নত চিকিৎসার পর ২৩ জুন পরীক্ষার তার করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছিলো। কিছুটা সুস্থ হওয়ার ৪০ ঘণ্টার মাথায় তিনি মারা গেলেন।
মেজর আফসার দম্পতির সুযোগ্য সন্তান এমপি আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু করোনা যুদ্ধের অন্যতম অগ্রনায়ক। বাংলাদেশে করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে তিনি ভারত থেকে দেশে ফিরেন। ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষে ভালুকাবাসীর কথা চিন্তা করে আক্রান্তের ঝুঁকি থাকার পরও এলাকায় যান। মানবিকতার প্রশ্নে তিনি মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়ন করছেন। যেক’জন এমপি ঝুঁকি নিয়ে এলাকায় অবস্থান করছেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা এবং অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিতরণ করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। ঝুঁকির কারণে ভালুকাবাসী তাকে করোনা যুদ্ধের অগ্রনায়ক বলছেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে তদারকি করেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার ত্রাণ বিতরণ এবং নিজ উদ্যোগের খাদ্যপণ্য সহযোগীতা কার্যক্রম।
মহিয়ষী নারী ও রত্নগর্ভা মরহুমা খায়রুন নেছা বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ অনুসারী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কিংবদন্তি মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদ-এর স্ত্রী। মেজর আফসার মুক্তিযুদ্ধের অনিয়মিত ৩টি বাহিনীর অন্যতম ‘আফসার বাহিনী’র প্রধান ছিলেন। পরে তিনি ১১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত হন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে এপ্রিলের প্রথম দিকে নিজ উদ্যোগে ‘আফসার বাহিনী’ গঠন করেন। ভারত সরকারের কোনো প্রকার সহযোগিতা ছাড়াই ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়ার ঢালুয়া থেকে ৫ সহস্রাধিক সদস্যের সমন্বয়ে ৭৬৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে রেখে যুদ্ধ চালিয়ে যান। নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে ভারত সরকার এ বাহিনীকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ ৮ মাসের টানা যুদ্ধে মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদ-এর ছেলে নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ও শ্যালক মতিউর রহমানসহ ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ইতিহাসে অম্লান হয়ে আছে আফসার বাহিনীর দেড় শতাধিক উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ। এর মধ্যে ২৫ জুন ভালুকার ভাওয়ালিয়া বাজু শিমুলীয়া নদীর পাড়ের সম্মুখ যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত। দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টার যুদ্ধে ১৯৫ জন পাক সেনা নিহত এবং আব্দুল মান্নান নামের একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ২৫ জুন শুক্রবার সকালে ভালুকা আক্রমণ ও ক্যাম্প করার জন্য দেড় হাজার পাক সেনা গফরগাঁও থেকে ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে শিমুলীয়া ঘাট দিয়ে ভালুকা প্রবেশের চেষ্টা চালায়।
খবর পেয়ে মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ। সর্ব প্রথম তিনি এলএমজি দিয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করেন। দেশ মাতৃকার টান, স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতা করার জন্য আফসার উদ্দিন আহম্মেদ-এর স্ত্রী খায়রুন নেছা আফসারও অংশ নিয়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন। মাঝে মধ্যেই স্মৃতিচারণ করতেন একাত্তরের বিভিষিকাময় দিনগুলোর। একই পরিবারে নারীসহ ১৯ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকার বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত। মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ভালুকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর সময় পর্যন্ত তিনি ময়মনসিংহ জেলা ও ভালুকা উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

ব্রেকিং নিউজঃ