| |

মাতৃভাষায় শিক্ষার মাধ্যমে আদিবাসীদের মূলস্রোতে যুক্ত করতে হবে

আপডেটঃ 8:10 pm | February 29, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ : প্রাক-প্রাইমারি পর্যায়ে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করে প্রাইমারি থেকে বাংলা ভাষার মূলস্রোতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সসদ্য ফজলে হোসেন বাদশা।

সোমবার সকালে ইউসেপ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‌মাতৃভাষা ভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষার গবেষণা প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বাংলাভাষার গুরুত্ব তুলে তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে টিকে থাকার জন্য ইংরেজি যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে উন্নয়নের মূলস্রোতে অবস্থানের জন্য বাংলা ভাষা অপরিহার্য। তাই আদিবাসীদের তাদের মাতৃভাষায় পাঠদানের উদ্দেশ্য থাকবে তারা যেন বাংলা ভাষায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আদিবাসীরা শিক্ষাজীবনের শুরুতে তাদের মাতৃভাষায় পাঠগ্রহণ করে নিজেদের বর্ণমালা, ভাষা, আচার, আচরণ, সংস্কৃতি জানার পাশাপাশি ভাষাজ্ঞানের উপর দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। যা পরবর্তীতে বাংলা ভাষা শেখার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কারণ প্রত্যেকটি ভাষার মধ্যে একটি অন্তর্নিহিত সম্পর্ক বিদ্যমান। আর বাংলা ভাষায় প্রচুর আদিবাসী শব্দ আছে যা তাদেরকে বাংলা শিখতে আরো অনুপ্রাণিত করবে।’

আদিবাসীদের জন্য পরকিল্পনা করা উচিৎ মন্তব্য করে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘পাহাড়-সমতলে যত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, আদিবাসী আছে তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আলাদা আলাদা পরিকল্পনা করা উচিৎ।’ এসময় তিনি কারো উপরে ভাষা চাপিয়ে দেয়া অন্যায় বলেও মন্তব্য করেন।

যারা মাতৃভাষার জন্য যুদ্ধ করেছে তারা কখনো কারো ভাষাকে হত্যা করতে পারে না উল্লেখ করে অতিথির বক্তৃতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘যারা মায়ের ভাষার জন্য যুদ্ধ করে জীবন উৎসর্গ করেছেন তারা অন্যের ভাষাকে হত্যা করতে পারে না। অন্যের ভাষাকে হত্যা করা এ গর্বিত জাতির জন্য লজ্জার।’

মাতৃভাষায় আদিবাসীদের শিক্ষাগ্রহণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে গবেষণাটি উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেন শিক্ষা বিভাগের শিশুর ক্ষমতায়ন-এমএলই প্রকল্পের পরিচালক মেহেরুন্নাহার স্বপ্না। গবেষণায় মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের গুরুত্ব এবং তার তাৎপর্য তুলে ধরেন তিনি।

গবষেণাটির সমালোচনা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘মাতৃভাষায় শিক্ষাপ্রদানের গুরুত্ব অনুধাবন করেই ২০১০ সালের শিক্ষানীতিতে এর অন্তর্ভুক্তি ঘটে। আজ ২০১৬ সালে এসে আপনারা এর প্রয়োজনীয়তার উপর গবেষণা উপস্থাপন করছেন। এটা খুবই হতাশাজনক। আপনাদের উচিৎ ছিলো আজকে বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরা। বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কি কি সমস্যা হচ্ছে, কতোটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, সে বিষয়গুলোর উপর গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা। শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করতে কোথায় আপনারা সমস্যায় পতিত হচ্ছেন এগুলো তুলে ধরলে আলোচনা- গবেষণা ফলপ্রসু হতো। অথচ এখনও আপনারা প্রয়োজনীয়তা প্রমাণের চেষ্টা করছেন।’

তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়ন করতে হবে একথা কেন বলতে হচ্ছে? তাহলে ছয় বছরে হলোটা কি?’

এসময় তিনি আরো বলেন, ‘মাতৃভাষার মাধ্যমে তাদের বাংলা শেখাতে হবে ইংরেজি শেখাতে হবে। তা না হলে শুধু মাতৃভাষায় কয়েক ক্লাস পড়ে তারা হারিয়ে যাবে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য তাদের মূলস্রোতে তুলে আনা। সে উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা সাজাতে হবে।’

নৃ-জাতি গোষ্ঠীকে এদেশের অলংকার আখ্যা দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আহম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘মাতৃভাষায় পাঠদানের বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কারণ নৃ-গোষ্ঠীরা আমাদের অলঙ্কার। আমরা মুখে অনেক কথা বললেও কাজে কিন্তু করি না। ২০১০ সালের শিক্ষানীতি বাস্তবায়নরে মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীকে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।’

মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। তারা তাদের বক্তৃতায় আদিবাসীদের মাতৃভাষার পাশাপাশি বাংলা শেখানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ