| |

নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ না দিলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আপডেটঃ 8:13 pm | February 29, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ : নতুন নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সহযোগিতা না করলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এমনটিই বলেন তিনি।

রোববার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বারের অডিটরিয়ামে নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে গভর্নর এ কথা জানান।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে নারী উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেন, দেশের ব্যাংকগুলোকে লোন দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা থাকলেও ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রকৃত নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয়া হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তারা ঋণ দেয়ার নামে কালক্ষেপণও করছে। এছাড়া বিনাজামানতে ঋণ দিচ্ছে না ব্যাংকগুলো। সেই সঙ্গে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা ও বাড়ি বা জমি জামিনদার (গ্যারান্টি) হিসেবে চায়।

তারা বলেন, আমরা নতুন উদ্যোক্তা, আমরা গ্যারান্টর পাবো কোথায়? সেই সঙ্গে আমাদেরকে কোন সরকারি কর্মকর্তা গ্যারান্ট্রি দেবে?

তারা আরো বলেন, ব্যাংকগুলো যেসব উদ্যোক্তাদের ঋণ দিচ্ছে তাও উৎপাদন খাতে কাজে আসছে না। বরং ঋণ গ্রহিতারা পারিবারিক কাজে এসব অর্থ ব্যয় করছে। এ সময় তারা সহজ শর্তে বিনাজামানত ও বিনাগ্যারান্টিতে ঋণ প্রদানের দাবি জানান। একই সঙ্গে নারীবান্ধব ব্যবসায়িক নীতিমালারও দাবি জানান উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্লট বরাদ্দেরও দাবি জানানো হয়।

উদ্যোক্তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর বলেন, ‘নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে নারী বান্ধব ঋণ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ১০০ কোটি টাকা রয়েছে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে দেশে ১০ হাজার নারী উদ্যোক্তা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দেশের নারী সমাজ এর সুফল ভোগ করতে পারবে। এসব ডিসিসিআই ব্রিজ হিসেবে কাজ করবে বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’

সব ধরনের যোগ্যতা থাকার পরও কোনো নারী উদ্যোক্তা যদি ঋণ সহায়তা না পায় তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হট লাইন ১৬২৩৬ নম্বরে অভিযোগ করার পরামর্শ দেন গভর্নর। সেই সঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের সমস্যাগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে লিখে জানানোর জন্যও আহ্বান জানান তিনি। তাতেও যদিও সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে চিঠি আকারেও উদ্যোক্তাদের সমস্যা লিখে পাঠাতে বলেন গভর্নর। তিনি বলেন, ‘এসবর পরও যদি সমস্যা সমাধান না হয় তাহলে সরাসরি আমার কাছে চিঠি লিখুন। আমি আপনাদের সমস্যা জেনে সরাসরি সমাধানের চেষ্টা করবো।’

ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে ডিসিসিআই সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ, পিস ফাউন্ডেশনের আফজাল হোসেনসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেকিং নিউজঃ