| |

চট্টগ্রামে প্রবর্তক সংঘের ইন্ধনে সংগীত ভবনে হামলা, ভাংচুর

আপডেটঃ 9:46 pm | July 17, 2020

Ad

প্রবর্তক সংঘের ইন্ধনে চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক পাহাড়ের পাদদেশে স্থাপিত সঙ্গীত ভবনে হামলা, ভাংচুর চালিয়েছে। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রবর্তক সংঘের ৩০/৪০ অনাথ শিশু একত্রিত হয়ে সুগন্ধা ১ নং গেইট সংলগ্ন সংগীত ভবনের আশ-পাশে দেয়া কাঁটাতার ও বাঁশের বেড়া ভেঙে সংগীত ভবনের ভেতরে তান্ডব চালায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার আগ থেকে প্রবর্তক সংঘের পাশ্ববর্তী একটা অংশ ভোগদখল করে আসছিলেন সংগীত শিল্পীরা। পরবর্তীতে সংগীত শিল্পীদের বসবাস ও কার্যক্রমস্থল উচ্ছেদ করতে চেষ্টা চালায় প্রবর্তক সংঘ।

যার কারণে বছর তিনেক আগে এ নিয়ে প্রবর্তক সংঘের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল সংগীত ভবন কর্তৃপক্ষ। এতদিন বিষয়টি স্থবির থাকলেও হঠাৎ গত শুক্রবার ফের বিবাদ সৃষ্টি হয়। কিন্তু আজ সকালে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই একদল অনাথ শিশু এসে কাঁটাতার ও বাঁশের বেড়া ভেঙে দিয়ে চলে যায়। এসময় তাদের নিবৃত্ত করতে কেউ এগিয়ে আসেনি।

এ নিয়ে সঙ্গীত ভবন প্রতিষ্ঠাতা প্রিয়দারঞ্জন সেনগুপ্ত এর একমাত্র উত্তরাধিকারী ও মেয়ে তিষন সেনগুপ্ত বলেন, যুদ্ধের আগে গড়া বাবার ৫৪ বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটা ভেঙ্গেচুরে তছনছ করে দিয়েছে । সামনের বেড়া ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে হারমোনিয়াম-তবলাসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করে গেছে ওরা।

ওরা এখানে সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চায় না, জায়গা বিক্রি করে টাকা আয় করতে চায়। তিনি বলেন, প্রায় আট গণ্ডা জমিতে স্থাপিত সঙ্গীত ভবনটির ভাড়া প্রথম থেকে পরিশোধ করা হতো প্রবর্তক সংঘের কাছে। পরবর্তীতে তারা এভাবে ভাড়া নিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ডাক বিভাগের মাধ্যমে দুই মাস ও পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করে আসছি।

কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে ভবনের সংস্কার কাজ করার সময় বাধা দেওয়া হয়। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে উভয়পক্ষকে শান্ত থাকতে বলা হয়। এরপর সেখানে পুলিশ পাহারাও দেওয়া হয়। আজ সকালে হঠাৎ পুলিশের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়।‘অশুভ শক্তির দাপটে গত তিন বছর ধরে পরিচিতি ফলকটিও স্থাপন করা যায় নি।

জীর্ণ ভবনের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। বর্ষায় ছাদ চুইয়ে পড়া পানিতে নষ্ট হয়ে যায় বাদ্যযন্ত্রসহ আসবাবপত্র। সবকিছু নিজেরাই সংস্কার করেছি। তিষন সেনগুপ্ত এক পর্যায়ে অশ্রুকন্ঠে বলেন, যে সংগীত আমাদের স্বাধীনতা এনে দেওয়ার জন্য উজ্জীবিত করেছিল, যে প্রতিষ্ঠান জন্ম দিয়েছে অনেক গুণী শিল্পীর, সেই সঙ্গীত ভবন আজ দখলের পাঁয়তারা চলছে।

একই সাথে নির্দেশ দাতা এবং এই নিমর্ম ঘঠনার সাথে জড়িত সবাইকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের নিকট জোরদাবী জানান তিনি।

এ নিয়ে প্রবর্তক সংঘ (বাংলাদেশ)-এর সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সঙ্গীত ভবন ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে কাবেরী সেনগুপ্তার বাবা প্রিয়দারঞ্জন সেনগুপ্ত’র সঙ্গে প্রবর্তক সঙ্গের চুক্তি হয়েছিল। তিনি মৃত্যুবরণ করার পর তার পরিবারের সদস্যদের আমাদের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করার কথা বলা হয়েছিল।

কিন্তু তারা তা মানেনি। উল্টো জোরপূর্বক জায়গা দখলে রেখেছে। তারা ভবনটি সংস্কার করতে চাইলে আদালতের কোনও আদেশ দেখাতে পারেনি। এ অবস্থায় শুক্রবার আবারও ভবনের দরজা-জানালা মেরামত করতে গেলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। পাঁচলাইশ থানা পুলিশ জানান , প্রবর্তক পাহাড়ের সঙ্গীত ভবন সংস্কার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে আগ থেকে ঝামেলা চলছিল। শুক্রবার সকালে ওই ভবনে ভাংচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।

এখনকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোন হতাহত হয়নি। প্রসঙ্গত,১৯৬৬ সালে সঙ্গীত ভবনের স্থান হয় প্রবর্তক পাহাড়ের পাদদেশে। মেহেদীবাগে থাকাকালীন সময়ে প্রবর্তক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা বীরেন্দ্র লাল চৌধুরীর অনুরোধে ওস্তাদ প্রিয়দারঞ্জন এখানে এসে শুরু করেন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। প্রিয়দারঞ্জন সেনগুপ্ত ও বনবীথি সেনগুপ্তার হাত ধরে শাস্ত্রীয়সহ সংগীতের নানান ক্ষেত্রে তৈরি করেছে অসংখ্য গুণী শিল্পী।

ব্রেকিং নিউজঃ