| |

এডভোকেট ওয়াজেদুল ইসলামের কর্মময় জীবন

আপডেটঃ 10:53 pm | July 25, 2020

Ad

এডভোকেট পীযুষ কান্তি সরকার ॥ সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে না ফেরার দেশে চলে গেলেন পরম শ্রদ্ধেয় ওয়াজেদুল ইসলাম স্যার। তিনি জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছিলেন। উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন আত্মপ্রত্যয়ী দক্ষ সংগঠক একজন প্রথিতযশা আইনজীবী, বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ছিল উনার সফলতা। রাজনৈতিক কারণে আমি ছাত্রলীগের একজন কর্মীহিসেবে উনার সাথে আমার প্রথম পরিচয়। পরবর্তীতে আইনজীবী হিসেবে জেলা বারে যোগদানের জন্য শ্রদ্ধাভাজন এম,জোবেদআলী স্যারের সিদ্ধান্তে ওয়াজেদুল ইসলাম স্যারের সাথে জুনিয়র হিসেবে কাজ করে উনার সানিধ্যলাভের সুযোগ হয়। সেই থেকেই আমাকে উনার পরিবারের একজন সদস্যরূপে গন্য করতেন। একজন ফৌজদারী আইনবিশেষজ্ঞ হিসেবে আইনঅঙ্গনে উনার বিচরণ ছিল অবাধ। তিনি রেডক্রস্ সোসাইটি ময়মনসিংহ শাখায় সভাপতি হিসেবে স্বাধীনতা উত্তরকালে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিষ্ঠাকরেছেন প্রতিবন্দী বাচ্চাদের জন্য একটি বিদ্যালয়। দায়িত্বপালন করছেন ময়মনসিংহ রাইফেলস্ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সুদীর্ঘকাল। লায়ন্স ক্লাবের ডিরেক্টর ছিলেন তিনি। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ছিলেন। ময়মনসিংহ ক্লাব লিমিটেডের সহসভাপতিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কমিটিতে থেকে যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৯৫ সালে অন্তরদলীয় কোন্দলের কারণে ছাত্রলীগের দুইজন নেতা নিহত হওয়ার প্রেক্ষিতে তৎকালীন জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি ভেঙে দেয়া হয় এবং এডভোকেট ওয়াজেদুল ইসলাম স্যারকে আহ্বায়ক ও জনাব নাজিম উদ্দিন আহমেদ ও এহেতেশামুল আলমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে জননেত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠণ করেন। দলের সেই দুঃসময়ে দলকে সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করে খালেদাজিয়া বিরোধী আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালণ করেন এবং ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন না পাওয়া সত্ত্বেও ময়মনসিংহের ১১ টি আসনে দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করেছেন, যার ফলশ্রুতিতে ময়মনসিংহ আটটি আসনে আওয়ামীলীগ জয়লাভ করে। দলীয় নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা সমূহ তিনি বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালনা করেছেন। সর্বশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দক্ষতার সাথে মৃত্যুর আগপর্যন্ত দায়িত্বপালন করে গেছেন। তিনি ছিলন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী একনিষ্ঠ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার একান্ত অনুগত মানুষ। জেলাবারের দুইবার সাধারন সম্পাদক ও দুইবার সভাপতি হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্বপালন করেছেন। উনার দায়িত্বকালীন সময়ে জেলা আইনজীবী সমিতির প্রভূত উন্নয়নসাধিত হয়েছে। কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। একজন সফল সংগঠক ও দক্ষ আইনজীবী হিসেবে তার অবদান অবিস্মরনীয়। তাঁর এই অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে আমরা হারালাম সদালাপী এবং সফল সংগঠক ও দক্ষ আইনজীবীকে। আর ব্যক্তিগতভাবে আমি হারালাম একজন অভিবাবককে। মৃত্যুকালে তিনি রেখেগেছেন স্ত্রী,কন্যা,দুই পুত্র সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী। স্যারের বিদেহী আত্মার চীর শান্তি কামনা করি। ওপারে ভাল থাকবেন স্যার।

ব্রেকিং নিউজঃ