| |

হারুণ টাওয়ারের মালিক-ব্যবসায়ী দ্বন্ধে মার্কেটে তালা, পর পর ২টি ককটেল বিস্ফোরণে স্তব্ধ সিকে ঘোষরোড

আপডেটঃ 6:28 pm | August 27, 2020

Ad

২৭ আগষ্ট আনুমানিক ১২.৫৫ মিনিট হারুণ টাওয়ারের সামনে পর পর ২টি ককটেল বিস্ফোরণ, মূহুর্তেই থমকে যায় সিকে ঘোষরোড এলাকা। দুই পাশের দোকান গুলি বিকট শব্দে সাটার নামাতে থাকে। মূহুর্তেই টহলরত পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, হারুণ টাওয়ারের মালিক গোলাম আম্বিয়া হারুণ ও প্রতিপক্ষ দোকান ব্যবসায়ীদের মাঝে দীর্ঘদ্বন্দের প্রতিফলন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি প্রশংসাজনক।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, মোবাইল  মার্কেটের  ব্যবসায়ীরা  দীর্ঘদিন  ধরে  মালিকের নির্যাতন ও হয়রানিসহ  নানা ভাবে হেনস্তার শিকার হয়ে আসলেও কোন প্রতিকার মিলছে না। জোর করে কিছু ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করতে বিভিন্নভাবে চাপ ও ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। দ্বন্দের জেড়ে মোবাইল মার্কেটে অনির্দিষ্ট দিনের জন্য তালা ঝুলছে।

অভিযোগ রয়েছে গত বছর মার্চের দিকেও এমন ঘটনা ঘটিয়েছিল।   অভিযোগ শর্ত ভেঙ্গে ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদ করলেই ব্যবসায়ীদের মারধর থেকে শুরু করে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হচ্ছে মার্কেট থেকে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী সমাজ মার্কেট মালিক গোলাম আম্বিয়া হারুনের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধনসহ আন্দোলনে নেমেছেন।

মার্কেট মালিক গোলাম আম্বিয়া হারুণ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, চুক্তিপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদ করেছিলেন হারুন টাওয়ার মোবাইল মার্কেটের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান। এর জের ধরে দোকানে তালা দিয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানকে ভাড়া করা গু-া মাস্তানের সহযোগিতায় মার্কেটের পাশ থেকে তুলে নিয়ে মারধর করেন মার্কেটের মালিক গোলাম আম্বিয়া হারুন। এ সময় আব্দুর রহমানকে দোকান লিখে দিতে চাপ দেয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে হারুনের বাসার ভেতর থেকে উদ্ধার করে আব্দুর রহমানকে। মার্কেটে আব্দুর রহমানের দোকান রয়েছে। চুক্তিপত্রের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না হওয়ায় মার্কেট মালিক গোলাম আম্বিয়া হারুন দোকানের পেছন দিক থেকে ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে সামনের দিকে দেয়াল নির্মাণ করেন। ফলে বাইরে থেকে সাটার খুলে দোকানে ঢুকতে পারছিলেন না আব্দুর রহমান। এসব ঘটনায় গোলাম আম্বিয়া হারুন ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করার পর নতুন করে হামলা ও গুমের আশঙ্কা বেড়ে গিয়ে ছিলো আব্দুর রহমানের। নগরীর আকুয়া চুকাইতলা এলাকার ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের কাহিনী ভিন্ন।

গত ২০০২ সালে সারা জীবনের সঞ্চয় নগদ ৬ লাখ টাকা জামানত দিয়ে মার্কেটের একটি দোকান নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এক বছর পার হতেই তালা দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেয়া হয় তাকে। এ সময় জামানতের টাকাও ফেরত দেয়া হয়নি। এর আগে কাশেমের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয় দোকানের চুক্তিপত্রের মূল কপি। নানা মহলে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি আবুল কাশেম। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ মামলা দায়েরের পর থেকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হয়েছিলো।

গত এক দশকে মার্কেটের এক ডজনের বেশি ব্যবসায়ী মার্কেট মালিকের অবিচার ও হয়রানির প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, এর আগে কয়েকবার ককটেল বিস্ফোরণ করেছিলেন। মাদক ও নারী কেলেঙ্কারীতে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছিলেন মার্কেট মালিক গোলাম আম্বিয়া হারুণ ।

ব্রেকিং নিউজঃ