| |

রাহাত খান আর নেই জাতীয় প্রেসক্লাবে জানাজা ১১টায়

আপডেটঃ 10:47 pm | August 28, 2020

Ad

বৃহত্তর ময়মমনসিংহের কৃতিসন্তান প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কথাশিল্পী রাহাত খান অার নেই…প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কথাশিল্পী রাহাত খান অাজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮ টায় তাঁর ইস্কাটন গার্ডেনে নিজ বাসায় প্রয়াত হন।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে ভুগছিলেন। রাহাত খান ১৯৪০ সালের ১৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার পূর্ব জাওয়ার গ্রামের খান পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। কথাসাহিত্যিক হিসেবে সমাদৃত হলেও কর্মসূত্রে রাহাত খান আপাদমস্তক সাংবাদিক।তিনি ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা জীবন শেষ করে রাহাত খান কিছুদিন জোট পারচেজ ও বীমা কোম্পানিতে চাকরি করে ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তারপর একে একে সরকারি জগন্নাথ কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেছেন তিনি।১৯৬৯ সালে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় তার সাংবাদিকতা জীবনের হাতেখড়ি। পরে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সহকারী ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় দৈনিক বর্তমান পত্রিকা। বর্তমানে তিনি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।রাহাত খান ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন। বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবনে রাহাত খান কথাশিল্প, ছোটগল্প, প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও উপন্যাসের নিপুণ কারিগর হয়ে উঠেছেন। ১৯৭২ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ অনিশ্চিত লোকালয় প্রকাশিত হয়। তার পরবর্তী উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে অমল ধবল চাকরি, ছায়াদম্পতি, শহর, হে শূন্যতা, হে অনন্তের পাখি, মধ্য মাঠের খেলোয়াড়, এক প্রিয়দর্শিনী, মন্ত্রিসভার পতন, দুই নারী, কোলাহল ইত্যাদি।ইতিমধ্যে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৩), সুহৃদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৫), সুফী মোতাহার হোসেন পুরস্কার (১৯৭৯), আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮০), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮২), ত্রয়ী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮) এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় একুশে পদক (১৯৯৬) পেয়েছেন।

খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক-সাংবাদিক রাহাত খান আর নেই। ইন্না… রাজেউন। আজ শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ তিনি তাঁর ইস্কাটন গার্ডেনের বাসায় প্রয়াত হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। বারডেমের হিমঘরে তাঁর মরদেহ রাখা হবে। আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে তাঁর নামাজে জানাজা শেষে প্রয়াতের শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। এই খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক-সাংবাদিকের মৃত্যুতে ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও সাজ্জাদ আলম খান তপু গভীর শোক জানিয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ