| |

ধোবাউড়ায় উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ দূর্নীতির তথ্য ফাঁস! এসিল্যান্ডের নির্দেশে প্রায় ৫ ঘন্টা অবরুদ্ধ দুই ব্যাক্তি

আপডেটঃ 9:48 pm | September 01, 2020

Ad

ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা ভূমি অফিসে অনিয়ম দুর্নীতি যেন নিয়মে পরিণত হয়ে আছে। অতিরিক্ত টাকা না দিলে নিয়ম হয়ে যায় অনিয়ম আর অনিয়ম হয়ে যায় নিয়ম। সারাদেশের মতো ভূমি অফিসে জমির খারিজ বা নামজারি করতে সরকার নির্ধারিত ফি সাড়ে ১১শ’ টাকা। অথচ ৪০ শতাংশ ভুমির খারিজ করতে নেওয়া হয়েছে ২২হাজার ৫০০টাকা। ভূমির যাবতীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলেও উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মচারীকে অতিরিক্ত টাকা না দিলে খারিজ বা নামজারি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। আজ নয় কাল কাল নয় পরশু। এভাবে ঘুরে ঘুরে হয়রানির শিকার হয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে উপজেলার সাধারণ মানুষদের। এ সংক্রান্ত কিছু ভিডিও চিত্র সাংবাদিকদের হাতে পৌছলে উক্ত ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে মাঠে নামে ধোবাউড়া উপজেলার দুইটি প্রেসক্লাবের কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার কামালপুর গ্রামের মৃত বিল্লাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে অশিক্ষিত দরিদ্র রিক্সা চালক জামাল উদ্দিনের ৪০ শতাংশ ভূমি খারিজ/নামজারী করার জন্য জামাল উদ্দিন চট্টগ্রাম থাকায় তার পক্ষে সহোদর ভাগিনা রাউতি গ্রামের আবু সাঈদ খান এর কাছ থেকে কয়েক দফায় ঘুষ লেনদেনের চিত্র ফুটে ওঠে। ভিডিও চিত্র ও লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ভূমি অফিসের নাজির হাসমত উল্লাহ সুমন খারিজের জন্য ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে আবু সাঈদ খানকে পাঠিয়ে দেন অফিস সহকারী আনিস মিয়ার কাছে। নাজির হাসমত উল্লাহ সুমনের চুক্তিকৃত ১২ হাজার টাকার রফা দফা না মেনে দলিলে নামে সমস্যা আছে একথা জানিয়ে আরো ১০৫০০(দশ হাজার পাঁচশত) টাকা লাগবে! ভুক্তভোগী টাকা কম নেওয়ার জন্য অনেক আকুতি মিনতি করলেও চুর না শুনে ধর্মের কাহিনী! সর্বমোট ২২,৫০০ টাকা ব্যতীত খারিজ হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন অফিস সহকারী আনিস মিয়া এবং বলে যে, এ টাকা থেকে ১টাকাও সে খাবে না। অতিপ্রয়োজনীয় খারিজ দ্রæত পাওয়ার আশায় আবু সাঈদ খান রাজি হয় অতিরিক্ত টাকার চুক্তিতে। অফিস থেকে বলা হয় অনলাইনে আবেদন করার কথা। অলনাইনে আবেদন শেষে উপজেলা ভূমি অফিসে আনিসের কাছে গেলে আবু সাঈদ খানকে ১০০০০(দশ হাজার) টাকা দিতে বলে অফিস সহকারী আনিস মিয়া। দেওয়া হয় প্রথম কিস্তিতে ৬৫০০(ছয় হাজার পাঁচশত) টাকা। প্রথম কিস্তি দেওয়ার পর অতিবাহিত হলো ৮ দিন। মুঠোফোনে ডাকা হয় আবু সাঈদ খানকে। বলা হয় নাইবের কাছ থেকে প্রস্তাব করাতে হবে, টাকা লাগবে আরো ১০০০০ হাজার। দ্বিতীয় কিস্তিতে ৫৫০০(পাঁচ হাজার পাঁচশত) টাকা দেওয়ার পর, আরও চার মাস অতিবাহিত হলে বলা হয় খারিজের কাজ প্রায় সম্পন্ন। খারিজ নিতে আরো টাকা লাগবে ১০৫০০(দশ হাজার পাঁচশত) টাকা। শেষ কিস্তি দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেও খারিজ না দেওয়ার হুমকি দেয় অফিস সহকারী আনিস মিয়া! দেখানো হয় ক্ষমতার দাপট। আনিসের অবৈধ ক্ষমতার দাপটে আবু সাঈদ খান অসহায় হয়ে দুদিন পর টাকা নিয়ে অফিসে এসে দেওয়া হয় তৃতীয় কিস্তি। পরবর্তীতে ৪ মাস পর আবু সাঈদ খানকে অফিসে ডেকে এনে খারিজটি বুঝিয়ে দেয় অফিস সহকারী আনিস মিয়া। সাংবাদিকদের হাতে ভিডিও চিত্র থাকার খবরে উত্তেজিত হয়ে প্রথম পক্ষ কোন অভিযোগ না করলেও বিগত ২৪ আগষ্ট ২০২০ খ্রীঃ তারিখে উক্ত খারিজটি বাতিলের জন্য মিস মোকদ্দমা নং-০২(ঢওওও)/২০২০-২১ মূলে আবু সাঈদ খানের সহোদর মামা জামাল উদ্দিনকে নোটিশ প্রদান করে এবং ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় জমি ও খারিজের মূল কাগজপত্রসহ এসিল্যান্ড অফিসে শুনানিতে অংশ গ্রহন করতে বলে। জামাল উদ্দিন চট্টগ্রামে রিক্সা চালায় বিধায় সহোদর ভাগিনা আবু সাঈদ খান শুনানিতে অংশ গ্রহন করলে এসিল্যান্ড তার হাত থেকে মুল কাগজপত্রগুলো নিয়ে সার্ভেয়ার সরদার জাহাঙ্গীর হোসেনকে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথমপক্ষের মৃত সমচানের পুত্র মতিউর রহমান (৫০) ও আবু সাঈদ খানকে সকাল ১১.২০ থেকে বিকাল ০৩.৩০ পর্যন্ত ভুমি অফিসের নৈশপ্রহরীর কক্ষে ক্ষুধার্তবস্থায় তালাবদ্ধ করে রাখে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে মতিউর রহমানকে ছেড়ে দিয়ে এসিল্যান্ড কাবেরী জালাল আবু সাঈদ খানকে পুলিশ ডেকে ধোবাউড়া থানায় পাঠিয়ে দেন। তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকায় সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয় থানা পুলিশ। উল্লেখ্য যে, মিস কেস মোকদ্দমায় উল্লেখিত প্রথম পক্ষের সমচান প্রায় পঁচিশ বছর আগে ও সুরুজ আলী প্রায় দশ বছর আগে মারা গেছেন। এ ব্যপারে ধোবাউড়া থানা পুলিশ জানায়, আমাদেরকে এসিল্যান্ড স্যার ফোন করে আমাদেরকে নিয়ে সাঈদ নামের ছেলেটিকে আমাদের হাতে তুলে দেয়। কোন অভিযোগ না থাকায় তার অবিভবাককে ডেকে আমরা তাকে ছেড়ে দেই। এ নিয়ে নাজির হাসমত উল্লাহ সুমনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, খারিজে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার ব্যপারে আমি কিছুই জানি না। এ ঘটনায় অফিস সহকারী আনিস মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি খারিজের জন্য কোন টাকা নেইনি। এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ