| |

পাপুয়া নিউগিনি প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আলহাজ¦ এম এ ওয়াহেদের ভিসা কার্ড জালিয়াতি করে সাড়ে তিন কোটি টাকা জালিয়াতি

আপডেটঃ 10:26 pm | September 03, 2020

Ad

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের ওয়েবসাইট পেখম ডটকম ছাড়াও অনেক ডিজিটাল সেবা এসেছে নাজমুস সাকেব নাঈমের হাত ধরে, বিভিন্ন ব্যাংকের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেম আপডেট করার কাজেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। প্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর আন্তর্জাতিক ভিসা কার্ড হ্যাক করে সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নাজমুস সাকেব নাঈম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকেও কাজ করছিলেন। পুলিশের ভাষ্য মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করে আসা সাকেবের তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে ‘বিস্তর জ্ঞান’। বাংলাদেশে অনলাইনে হোটেল বুকিংয়ের ওয়েবসাইট পেখম ডটকম ছাড়াও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা তার হাত দিয়ে এসেছে। গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত সাকেব বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেম আপডেট করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। লন্ডন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ৮-৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি বক্তা তিনি। বাংলাদেশের কয়েকটি নামকরা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদেও আছেন সাকেব। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশিদ বুধবার বলেন, “২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে অর্থপাচারের ঘটনা ঘটেছে সেটার বিষয়ে সে নিজস্ব পদ্ধতিতে তদন্ত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সিস্টেম আপডেট করার কাজে নিয়োজিত ছিল। আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। “আন্তর্জাতিক মানের এই ব্যক্তি তার মেধাকে খারাপ কাজে লাগিয়ে এই প্রতারণা করেছে।” পাপুয়া নিউগিনি প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াহেদের ভিসা কার্ড জালিয়াতি করে সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ২৫ অগাস্ট সাকেব ও তার স্ত্রীর বড় ভাই মইনুল ইসলাম মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। “রিমান্ডে তারা আব্দুল ওয়াহেদের ডেবিট কার্ড জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে,” বলেন উপকমিশনার হারুন। সাকেব মঙ্গলবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার পর দুইজনকেই কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। গত মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি খাতে চাকরির সুযোগ নিয়ে এক সেমিনারে নাজমুস সাকেব নাঈম। মামলার তথ্য মতে, জালিয়াতির এই ঘটনা ঘটেছে ২০১৪ সালের ২১ জুলাই থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত। পুলিশ বলছে, ওই আড়াই মাসে অনলাইনে প্রায় দেড় হাজার লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল কেনাকাটা করেন সাকেব। এই সময়ে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ এবং স্ত্রীসহ আত্মীয়দের নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে যান তিনি। গত বছর ডিসেম্বর মাসে রাজধানীর শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা মামলায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াহেদ বলেছেন, পাপুয়া নিউগিনিতে তিনি শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন। ‘দেশ বেশ এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড’ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি সেখানকার সাউথ প্যাসিফিক লিমিটেড নামের ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে ভিসা ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট কার্ড নেন। ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি ২০১৪ সালে সিঙ্গাপুর গিয়ে এই কার্ড ব্যবহার করতে গিয়ে দেখেন সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি পাপুয়া নিউগিনিতে ফিরে ব্যাংকে গেলে তাকে জানানো হয়, বিভিন্ন দেশে সন্দেহজনক লেনদেন হওয়ায় তারা কার্ডের সব লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছেন। এই কার্ড বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ব্যবহার করা হয়। অন্তত চারটি দেশে গিয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে বাংলাদেশে একটি লেনদেনের প্রমাণ পাওয়ায় এই মামলা করেন তিনি। “মামলার পর আমরা বিষয়টি বুঝতে একটু সময় নেই। প্রায় আট মাস ধরে তদন্ত করে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পর একই পরিবারের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করি,” বলেন শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আলি হোসেন। মামলায় ওয়াহেদ বলেছেন, তার ডেবিট কার্ড দিয়ে ২৮টি প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকার লেনদেন-কেনাকাটা হয়েছে। তার মধ্যে ২০১৪ সালের ৪ অগাস্ট ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকার শান্তা ওয়েস্টার্ন টাওয়ারে অবস্থিত থাই এয়াওয়েজের অফিসও রয়েছে। উপকমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, সাকেব এই ব্যবসায়ীর ডেবিট কার্ড দিযে দামি জিনিসপত্র কেনা ছাড়াও বিভিন্ন দেশে যেতে উড়োজাহাজের টিকেট কেনেন। “সাকেব এখন খুবই অনুতপ্ত। এটাকে সে খেলার ছলে নিয়েছে বলে দাবি করে বলেছে, ওই ব্যক্তির সব টাকা সে ফেরত দেবে।” এর বাইরে সাকেব অন্য কোনো প্রতারণায় জড়িত কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ