| |

শেখ হাসিনা সরকারের মেগা প্রকল্পে, বদলে যাবে বাংলাদেশ

আপডেটঃ 8:21 pm | September 05, 2020

Ad

টানা তিন মেয়াদের দেশ পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুকন্যা, উন্নয়নের কারিগর দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছেন এক অনন্য উচ্চতায়। উন্নতসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নিয়েছেন বেশ কিছু মেগা প্রকল্প। কিছু কিছু প্রকল্পের সুফল জনগণ ইতোমধ্যেই ভোগ করতে শুরু করেছে। মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পর বাংলাদেশ বদলে যাবেই। তখনই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবে।বাংলাদেশ আজ অপার বিস্ময়ের নাম। অর্থনৈতিক উচ্চ প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য যোগাযোগ খাতে অভূত সাফল্যের কারণে বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। এক সময়ের দারিদ্র্যপীড়িত দেশটি আজ এশিয়ার ‘এমার্জিং টাইগার’। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্রই উন্নয়নের জোয়ার। এ সবকিছুই সম্ভব হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে।করোনা মহামারিতে সারা বিশ্বই স্থবির হয়ে আছে। বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলোও বিপর্যস্ত, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিশাহারা। ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী জীবন ও জীবিকাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একগুচ্ছ আর্থিক প্রণোদনা ও জনগণের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। যার ফলে করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশ সফলভাবে মোকাবিলা করে যাচ্ছে। বলা হয়, সংকটেই নেতৃত্বের পরীক্ষা। করোনা, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে শতাব্দীর ভয়াবহ সংকটের পরও মানুষের জীবনকে স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বসম্প্রদায়েরও প্রশংসা কুড়িয়েছে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।করোনা মহামারির মধ্যেও মেগা প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ফাস্ট ট্র্যাংক মনিটরিং টাস্কফোর্স কাজগুলো তদারকি করছে। নিশ্চিত করা হয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও। এ সব প্রকল্পে বাংলাদেশসহ বিদেশি অনেক কর্মী কাজ করছে। করোনাকালের প্রথমদিকে কাজের গতি একটু মন্থর থাকলেও এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিটি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।বর্তমানে পদ্মা বহুমুখী সেতুসহ বেশকিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর বাইরে চলছে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কাজ। খুব শিগগিরই এ সব প্রকল্পের সুফল পাবে জনগণ। দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উন্নয়নের সঙ্গে দেশের অগ্রযাত্রাও জড়িত। প্রকৃত উন্নয়ন হলে কেউ অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না।পদ্মা বহুমুখী সেতু নিয়ে দেশি-বিদেশি অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। এখনো অনেক গুজব ছড়ানো হয়। সবকিছু মোকাবিলা করে স্বপ্নের সেতুর ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। উভয় পাশে সংযোগ সড়ক ও টোল পস্নাজার কাজও শেষ। দৃশ্যমান হয়েছে প্রায় ৫ কিলোমিটার। চীন থেকে ৪১টি স্প্যানের সব কটি প্রকল্প এলাকায় এসে গেছে। ৩৮টির ফিটিং সম্পন্ন হয়েছে, ৩টির কাজ চলছে। এ সেতুকে ঘিরে পাশেই মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার যশলদিয়ায় স্থাপন করা হয়েছে ‘পদ্মা পানি শোধনাগার’। এ প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখান থেকে প্রতিদিন রাজধানীতে ৪৫ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি সরবরাহ করা যাবে। জাজিরা প্রান্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে ২ হাজার ১৫৬ একর জমিতে তৈরি হচ্ছে গবাদিপশু ও দুগ্ধজাত উন্নয়ন ফার্ম। পদ্মা সেতু চালু হলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পঞ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার দূরত্ব ও সময় কমবে। সেতু ও রেলসংযোগের ফলে মানুষের জীবনযাত্রা আরও সহজ হবে। ধারণা করা হচ্ছে দেশের (মোট দেশজ উৎপাদন) জিডিপি কমপক্ষে এক শতাংশ বেড়ে যাবে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে রেল সংযোগ মেগা প্রকল্পের কাজ। পদ্মা সেতু যেদিন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে, সেদিনই রেল ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত যাবে সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। প্রকল্পের পরবর্তী অংশ যশোর পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন হবে। আরেকটি অংশ পায়রাবন্দরকে সংযুক্ত করবে।২০২২ সালে যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে দ্রম্নতগতিতে কাজ চলছে দেশের প্রথম নদীর তলদেশের সড়ক কর্ণফুলী টানেলের কাজ। এরই মধ্যে ৩ দশমিক ৩১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রথম টিউব বসানোর কাজ শেষ হয়েছে, দ্বিতীয় টিউবটি বসানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে চলছে সংযোগ সড়ক, সেতু ও ওভারপাস তৈরির কাজ। কর্ণফুলী নদী বিভক্ত করেছে চট্টগ্রাম মহানগরও আনোয়ারা উপজেলাকে। নদীর একপাশে চট্টগ্রাম মহানগর, বন্দর ও বিমানবন্দর অন্যপাশে আনোয়ারায় রয়েছে ভারী শিল্প-কারখানা। বিভক্ত চট্টগ্রামকে সংযুক্ত করতেই এই ট্যানেল। এটি চালু হলে প্রতি বছর প্রায় ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করতে পারবে। পাল্টে যাবে অর্থনীতি। বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে পর্যটন ও শিল্প ক্ষেত্রে।দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের কর্মযজ্ঞ চলছে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে। করোনাকালের মধ্যেও ১১ হাজার শ্রমিক দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে টানা ৬০ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে বিদু্যৎকেন্দ্রের কাজ চলছে। মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজও চলমান। ২০২৬ সাল নাগাদ বন্দরটি চালু হবে। বাগেরহাটের রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কাজ শেষ হয়েছে। পায়রা কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ইতিমধ্যেই জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে। এ প্রকল্প থেকে পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিদু্যতের চাহিদা মিটিয়ে ও দেশের অন্যস্থানেও সরবরাহ করা যাবে।ঢাকা শহরের নাগরিক জীবনকে যানজট থেকে স্বস্তিদায়ক করতে তৈরি হচ্ছে মেট্রো রেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেস, ঢাকার‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্টসহ (এমআরটি) বহুবিধ প্রকল্প। উত্তরা-মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেল চালু হলে ঘণ্টায় ৬০ হাজার লোক চলাচল করতে পারবে। উত্তরা থেকে মতিঝিল সময় লাগবে ৪০ মিনিটের ও কম সময়।চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রেল রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের ঘুমধুম সীমান্ত পর্যন্ত চলে যাবে। রেললাইনটি ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরকে সংযুক্ত করে চীন, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। পাহাড়, সমুদ্র আর বিলঘেঁষে রেল লাইন দেশে এটিই প্রথম। এর ফলে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের পর্যটন নগরী কক্সবাজারের অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে।সম্ভাবনার আরেক নাম পায়রা সমুদ্রবন্দর। পটুয়াখালীর কলাপাড়াতে অবস্থিত বন্দরটি দেশের আমদানি-রপ্তানীতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। বন্দরকে ঘিরে পাল্টে যাবে পুরো দক্ষিণাঞ্চল। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। অর্থনীতির চাকা হবে গতিশীল। দেশের রাজস্ব আয় অনেকগুণ বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ ছাড়া এ বন্দরটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে ভারতের সাত অঙ্গরাজ্য (সেভেনসিস্টার্স), নেপাল, ভুটান ও চীনের দক্ষিণাঞ্চলের। বন্দরটিকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বন্দর হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে।হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে চলছে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজ। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এটি হবে এ অঞ্চলের সেরা বিমান বন্দর। বর্তমানে বছরে ৮০ লাখ যাত্রীসেবা প্রদানকারী বিমানবন্দরটি বছরে ২ কোটি যাত্রীসেবা দিতে পারবে। এ প্রকল্পের আওতায় একটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল বিল্ডিং, রাস্তা কারপার্কিং, কার্গো কমপেস্নক্স, পার্কিং অ্যাপ্রোনসহ অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।মেগা প্রকল্পগুলোর বাইরে চলছে ১০০টি অঞ্চল নির্মাণের কাজ। এসব অঞ্চলকে ঘিরে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে শিল্প বিপস্নব ঘটবে। বদলে যাবে সামগ্রিক অর্থনীতির চেহারা। কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে। বাড়তি ৪০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আলাদা অঞ্চল নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারত, চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, হংকং, সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি দেশ বিনিয়োগ করবে বিলিয়ন বিলিয়ন কোটি ডলার।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে কিন্তু ঘাতকদের নির্মম হত্যাকান্ডে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল প্রিয় স্বদেশ। দীর্ঘ দিন উল্টো পথে চলতে থাকে ৩০ লাখ শহিদের রক্তে ভেজা বাংলাদেশ। ২১ বছর লড়াই-সংগ্রাম করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়। ঠিক পাঁচ বছর পর দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে আবার দেশের ছন্দপতন ঘটে। ২০০৯ সালে জনগণের নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট নিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।একটানা তিন মেয়াদের দেশ পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুকন্যা, উন্নয়নের কারিগর দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছেন এক অনন্য উচ্চতায়। উন্নতসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নিয়েছেন বেশ কিছু মেগা প্রকল্প। কিছু কিছু প্রকল্পের সুফল জনগণ ইতোমধ্যেই ভোগ করতে শুরু করেছে। মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পর বাংলাদেশ বদলে যাবেই। তখনই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হবে।তাপস হালদার : সদস্য, সম্প্রীতি বাংলাদেশ ও সাবেক ছাত্রনেতা

ব্রেকিং নিউজঃ