| |

জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন ময়মনসিংহ শহরে চরপাড়ায় খাদেমে মোমেনশাহী’র ছেলেরা বোনদের শত কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ করার অপচেষ্টার অভিযোগ

আপডেটঃ 10:09 pm | September 06, 2020

Ad

জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন ময়মনসিংহ শহরে চরপাড়ায় খাদেমে মোমেনশাহী’র ছেলেরা বোনদের শত কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ করার অপচেষ্টার অভিযোগ ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মরহুম হাজী মোর্শেদ আলী ওরফে খাদেমে মোমেনশাহী’র ৪ পুত্র তাদের তিন বোনের শত কোটি টাকার সম্পদ আত্মাসাৎ করার অপচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৭ বছরে বোনদের হিস্যা অনুযায়ী ভাড়া বাবদ পাওনা ১ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছে। বোনদেরকে তাদের পিতার বসত-ভূমিতে আসতে দিচ্ছে না। এমনকি শারিরীকভাবে নির্যাতন করে খুন জখমের হুমকি দিচ্ছে। ৪ ভাই ভাগবাটোয়ারা নিয়েও আত্ম কলহে লিপ্ত হয়েছে । বিস্তারিত উল্লেখ করে বোনদের প্রাপ্ত ওয়ারিশান সম্পত্তি বুঝিয়ে না দেওয়ার কারণে ভাইদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক বরাবরে তিন বোন একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রাপ্ত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মরহুম হাজী মোর্শেদ আলী ওরফে খাদেমে মোমেনশাহী গত ১৯-০৪-২০১৬ ইং তারিখে এবং তার স্ত্রী লুৎফননেছা বিগত ২১-০৭-১৯৯৮ ইং তারিখে মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুকালে ৪ ছেলে যথাক্রমে নজরুল ইসলাম মুরাদ, মামুনর রশিদ, হুমায়ুন কবির ও রাশেদ হোসেন রনি এবং ৩ কন্যা যথাক্রমে মোর্শেদা, শিউলী মাসুমা ও সাদিয়া আফরিন লিপিকে ওয়ারিশান হিসেবে রেখে যান। মরহুম মোরশেদ আলী শহরের প্রাণকেন্দ্র ৭৭/এ বাঘমারাস্থ, চরপাড়া মোড়ে ২ তলা বাসা, ৪০টি দোকান,কাচাঁবাজার সহ ২৬ শতাংশ ভূমি, ৩নং চকবাজারে ৩ শতাংশ ভূমিতে ৪ তলা বাণিজ্যিক ভবন, ১৯ নং ব্রাহ্মপল্লীতে ৪ শতাংশ খালি ভূমি, ৭৭/এ বাঘমারাস্থ চরপাড়ায় সাড়ে ৬ শতাংশ ভূমিতে ৪ তলা বাণিজ্যিক ভবন, ৭৯ ব্রাহ্মপল্লীতে ৫০ পয়েন্ট ভূমিতে ২টি দোকান, চরপাড়া নয়পাড়া এলাকায় সাড়ে ৬ শতাংশ ভূমিতে ১তলা ভবন, ছত্তরপুর মৌজার দিঘারকান্দাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ৫২ শতাংশ ভূমিতে ১০টি দোকান ঘর, বড় বিলবোর্ড সহ বানিজ্যিক খালি জমি ও মুক্তাগাছার সন্তোষপুর মৌজার চেচুয়া বাজারে ৬৫ শতাংশ কৃষি ভূমি রেখে গেছেন। মোট জমির পরিমান ১ একর সাড়ে ৬৩ শতাংশ । সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১শ ৪ কোটি টাকা । দোকান ভাড়া দিয়ে কমপক্ষে বার্ষিক আয় প্রায় সাড়ে ৫২ লক্ষ টাকা। মরহুম মোরশেদ আলীর ছেলেরা ৭৭/এ বাঘমারা চরপাড়া বাজার সংলগ্ন বাসাতেই বসবাস করেন। মোরশেদ আলীর তিন মেয়ে পিতার মৃত্যুর পর ভাইদের কাছে ওয়ারিশ দাবি করলে ভাইয়েরা ওয়ারিশ বুঝিয়ে দিতে টাল-বাহানা শুরু করে ভয়ভীতি প্রর্দশন করে। এসব কারণে মেয়েরা পরিবারের মুরুব্বিদের শরণাপন্ন হয়। ছেলেরা পারিবারিক মুরুব্বিদের কথা না শোনার কারণে বোনেরা ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন মেয়রের শরণাপন্ন হয়, মেয়র সব শুনে ১৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ নজরুল ইসলামকে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলেন, কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মরহুম হাজী মোর্শেদ আলী’র বড় ছেলে নজরুল ইসলাম মুরাদকে সমাধানের ব্যবস্থা করার জন্য বলেন। সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের সাথে মেয়েরা বার বার দেখা করেও এর সমাধান পাওয়া যায়নি। অপারগ হয়ে তিনবোন লিগ্যাল এইড এ দারস্ত হন । ময়মনসিংহ লিগ্যাল এইড এর বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের অফিসে একাধিকবার বৈঠক করার পর মরহুম মোর্শেদ আলী’র ছেলেরা প্রচলিত আইন মোতাবেক তার তিন বোনকে ওয়ারিশ বুঝিয়ে দিতে স্বীকার করেন। ফলশ্রুতিতে তিন বোন পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকে । মোর্শেদা ও তার মেঝো বোন শিউলীকে নিয়ে ওয়ারিশের জন্য চরপাড়ার বাসায় গেলে ভাইয়েরা তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন এবং বাসায় ঢুকতে দেননি। পরবর্তীতে আবারও চরপাড়া বাজার সন্নিকটে বাসায় গিয়ে মোর্শেদ আলীর রেখে যাওয়া সম্পদের দলিলপত্রের কপি ও বিগত ১৭ বছরের দোকান এবং বাসা ভাড়ার হিসাব চাইলে মোর্শেদ আলীর ছেলেরা অস্বীকার করে । শিউলী মাসুমার শশুড়বাড়ী কটিয়াদি বাসায় মোর্শেদ আলীর ছেলেরা গিয়ে হুমকি প্রদান করে এসেছে। কিছুদিন পূর্বে ভাইয়েরা শিউলী মাসুমাকে ওয়ারিশান সম্পদ নিয়ে কথা বলার জন্য চরপাড়া বাসায় আসতে বলেন, শিউলী চরপাড়া বাসায় গেলে তার ভাইয়েরা রাশেদ অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও হুমকি দিয়ে বলে কোন আইনগত ব্যবস্থা করার চেষ্টা করলেও লাভ হবে না, হুমকি দিয়ে বলে সরকারদলীয় অনেক নেতাই তার পরিচিত। উল্লেখ্য মোর্শেদ আলীর ছেলেদের মধ্যেও জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে কলহ সৃষ্টি হয়েছে। কে সামনে নিবে কে পিছনে নিবে এ নিয়েও চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের আধিপত্য বিস্তার ও বহালের জন্য বহিরাগত সন্ত্রাসীদের বাসায় ঢেকে এনে সংর্ঘষের সৃষ্টি করে। এ কারণে বেশ কয়েকবার চরপাড়া বাসায় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। আত্মীয়স্বজন সহ প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী এ অবস্থায় চলতে থাকলে যে কোন সময় খুন-খারাবির ঘটনা ঘটে যেতে পারে। মোর্শেদ আলীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির পরিমান ১শ কোটি টাকারও বেশি। ওয়ারিশান সম্পত্তি থেকে বার্ষিক আয় প্রায় ৫২ লাখ টাকা। প্রচলিত আইন মোতাবেক জমি ছাড়াই বোনেরা ১ কোটি টাকার অধিক নগদ অর্থের দাবিদার। বহিরাগত সুযোগ সন্ধানী লোকজন পারিবারিক কলহের সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। কোন রক্তপাত ছাড়াই এর সুষ্ঠু সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করে উপযুক্ত নিরাপত্তা প্রাপ্তির অনুরোধ জানিয়েছেন নিরীহ তিন বোন।

ব্রেকিং নিউজঃ