| |

দেশের উন্নয়নে তরুণদের সুযোগ করে দেওয়া সবার দায়িত্ব: সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল

আপডেটঃ 2:31 pm | September 07, 2020

Ad

দেশের উন্নয়ন চাইলে তরুণদের সুযোগ করে দেওয়াকেই সবার দায়িত্ব বলে মনে করেন সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) ট্রাস্টি ও ভাইস চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন।তিনি বলেন, কম বয়সীরা কম জানবে— এটা কিন্তু ঠিক না। এই চিন্তাধারার পরিবর্তন করতে হবে। বরং কম বয়সীরা আরও অনেক বেশি জানে, পথ দেখাতে পারে। আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসেও কিন্তু তাই আছে। তাই আমরা যদি দেশের উন্নয়ন চাই, তরুণদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সিআরআই আয়োজিত ‘প্ল্যানারি লেটস টক অন কোভিড-১৯ রিকভারি ইয়ুথ ডেভলপমেন্ট’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব কথা বলেন।ভার্চুয়াল এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাহিম রাজ্জাক।নবনীতা চৌধুরীর সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শিবু কুমার শীল, নাদিয়া সামদানি, করবী রাকসান্দ, ইশরাত ফারজানা তন্নী, ইজাজ আহমেদ, হাবিবুর রহমানসহ আরও অনেকে।আলোচনায় সায়মা ওয়াজেদ হোসেন বলেন, সিআরআইয়ের পক্ষ থেকে যে অনুষ্ঠানগুলো করা হয়, আমরা সবসময় তরুণদের কথা ভেবে আয়োজন করি। যেটা সমস্যা মনে করি, সেটার সমাধান ও ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করি। আজকের আলোচনার বিষয় পলিসি ডেভেলপমেন্ট। কিন্তু পলিসির পরিবর্তন কোথা থেকে আসবে? আগে দেখতে হবে— আমাদের বাধাগুলো কোথায়, আমাদের চ্যালেঞ্জ কী এবং সক্ষমতা কী আছে। আমাদের কী চাহিদা আছে, ওটা দেখলে পলিসিটা পরিবর্তন করা যাবে।তিনি বলেন, এই আলোচনা থেকে আমার অনেক আইডিয়া এসেছে। আশা করি এখান থেকে তথ্য পাওয়ার পর নীতি নির্ধারনী পর্যায়, বিশেষ করে উন্নয়নের দিক থেকে পরিকল্পনার দিক থেকে আস্তে আস্তে মানসিক পরিবর্তন আসবে। আমাদের মানসিক পরিবর্তনটা আগে দরকার। আমাদের দেশের সব থেকে বড় সম্পদ যুব সমাজ। তারা যেন আমাদের দেশের জন্য কাজ করে। আমাদের দেশকে যেন তারা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেভাবেই পরিকল্পনা করতে হবে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা আরও বলেন, তরুণরা সৃষ্টিশীল কাজগুলোতে খুব বেশি সুযোগ পাচ্ছে না। সেটা স্বাস্থ্যখাত হোক, পরিবেশ খাতে হোক, আর শিক্ষাখাত। সব জায়গা গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছোট আকারে করছে। এই জিনিসগুলো কিভাবে আরও প্রকাশ্যে আনা যায়, ওটাই ছিল ইয়াং বাংলার উদ্দেশে।বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যারা বিশেষজ্ঞ বা সিনিয়র— তারা এটা নিয়ে চিন্তা করছি না। যাদের ওপর বেশি প্রভাব পড়ে, তারা এটা নিয়ে বেশি চিন্তা করছে। তারা এটা নিয়ে কাজও করছে। আমাদের এই সুযোগগুলো দিতে হবে। কোভিড-১৯ মহামারিটা শুধু আমাদের দেশের জন্য না, সব দেশের জন্য সমস্যা। কিন্তু আমাদের যারা তরুণ, তারা কিন্তু এই মহামারির মধ্যেও থেমে নেই। তারা কাজ করছে। শারীরিকভাবে হয়তো তারা নিরাপদ, কিন্তু তারা অর্থনৈতিক-মানসিকসহ সব দিক থেকে তাদের ওপর প্রভাব পড়ছে। তারা হয়তো প্রাণে বেঁচে যাবে, কিন্তু তাদের শিক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের চাকরির সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক যে সুযোগগুলো তাদের কাছে উপায় হিসেবে ছিল, ওইগুলো শেষ হয়ে গেছে। এই যে সুযোগের চলে যাওয়া— এটা আমরা কিভাবে বদলাতে পারব? তরুণরাই কিন্তু সুন্দর করে অনেক সমাধান দিয়েছে।তরুণদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার প্রসঙ্গে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, তরুণরা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের আমরা লেখাপড়া শেখাচ্ছি, স্কুলে দিচ্ছি। তারা কি কাজের জন্য প্রস্তুত? তারা ওখানে কী শিখছে? তারা কি শুধু লেখাপড়া শিখছে, নাকি ভ্যালুও শিখছে? কিভাবে তারা দেশের জন্য অবদান রাখবে? কিভাবে কমিউনিটিতে অংশগ্রহণ করবে? তাদের যে পরিবেশ, সেটাকে আরও কিভাবে ভালো করবে? অনেক ক্ষেত্রে তারা চায়, কিন্তু তাদের সেই করার পথ আমরা ঠিক করে দেখিয়ে দিতে পারছি না। আমরা যখন পরিকল্পনা করি আমাদের দেখতে হবে— কী বাধা আছে, কী সুযোগ আছে। সেই অনুযায়ী কাজ করার সুযোগগুলো তাদের তৈরি করে দিতে হবে। তবে তরুণদের কাজ করতে কিন্তু কোনো মানা নেই, বাধা নেই। সবকিছু যে করে দিতে হবে, তা কিন্তু না।সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বলেন, আমাদের দেশের ফাউন্ডার আমার নানার কথা চিন্তা করি— বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উনি কিন্তু শুরুটা করেছিলেন তরুণ বয়সে, তার কমিউনিটির কী প্রয়োজন ছিল, সেখান থেকে। উনার জীবনের বড় কাজ ছিল নিজের কমিউনিটিতে একটা গ্যাপ দেখেছিলেন, উনার ফেলো ছাত্রদের কিভাবে সাহায্য করা যায়— এসব বিষয় নিয়ে কাজ করতে করতে উঠে এসেছিলেন। ওনার নেতৃত্ব পলিসিটা সেই ইয়ুথ থেকেই শুরু। তার নিজের কিছু নৈতিক মূল্যবোধ ছিল, কিছু ড্রাইভ ছিল। উনি অনেক বাধা মোকাবিলা করেছেন। কিন্তু তারপরও সুযোগ তৈরি করে নিয়েছিলেন। কাজেই আমরা যদি চাই যে দেশ উন্নতি করবে, তাহলে আমাদের ইয়ুথদের এই সুযোগ তৈরি করে দেওয়া আমাদের সবার জন্য একটা দায়িত্ব।

ব্রেকিং নিউজঃ