| |

ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদী রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নেয়া দরকার

আপডেটঃ 7:06 pm | March 05, 2016

Ad

মোঃ মেরাজ উদ্দিন বাপ্পি : ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণে শহর, উত্তরে  শূণ্যতায় পরিপূর্ণ প্রকৃতি। এক নদীর দু’পাড়ে দু’রকম দৃশ্য। দক্ষিণে সমৃদ্ধ শহর। উত্তরে  গ্রামীন আবহ।
ময়মনসিংহ দেশের ৮ম বিভাগীয় শহর। সিটি করর্পোরেশন হয়ে গেলে এটি হবে মহানগর। নগরায়নের বিস্তার সমকলীন ময়মনসিংহের অগ্রগতির দৃশ্যমান চিত্র। শহর থেকে মহানগর সেদিন আর বেশি দূরে নয়।

১৭৮৬ সালে জেলা প্রতিষ্ঠার ৮৪ বছর পর ১৮৬৯ সালে ময়মনসিংহ পৌরসভার গোড়াপত্তন হয়। তারপর ১৪৬ বছরে। শহর বদলে হচ্ছে মাহনগর।

আর এ ব্রহ্মপুত্র নদের খর¯্রােতায় পলি মাটির কারণে দু’পাশের কৃষকরা অধিক ফসল ফলাতো। বেশি বেশি গ্রাকৃতিক মাছ জন্মাতো। কিন্তু বর্তমানে এ নদীটি মরা খালে পরিণত হওয়ায় তীরবর্তী অনেক গ্রামে পানি সংকট ও কৃষকরা পানি সমস্যায় ভুগছেন। এই নদী দিয়ে একসময় বড় বড় লঞ্চ, স্টিমার চলতো। কিন্তু এখন নৌকাও চলছে না। বিভিন্ন স্থান দিয়ে পানি প্রবাহই হচ্ছে না।

পানির মৌসুমে হাঁটু পর্যন্ত পানি থাকে এবং শুকনা মৌসুমে আদৌ কোন পানি থাকে না। এ নদীর দুই পাশে হাজার হাজার হেক্টর ধান ফসলি জমি রয়েছে।

এ নদীতে বিভিন্ন স্থানে একাধিক সুইচ গেট থাকার কারণে এবং খননের অভাবে বোরো ও আমন ধান চাষের সময় পানি আটকে থাকায় আগের তুলনায় ধানের ফলন অনেক কম হয়। পলি মাটির অভাবে নদীর দুই পাশের জমির উর্বরতা কমে যাওয়ায় মরিচ, আলু, ডাল, পিয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন রবি শস্য আবাদ না করে ওই জমিতে বৃক্ষের বাগান এবং বসতবাড়ি নির্মাণ শুরু হয়েছে।

তথ্য মতে, বর্ষাকালে নদী প্রবাহের ৭% দেশের বৃষ্টির পানি, সীমান্তের ওপার থেকে ব্রহ্মপুত্র দিয়ে আসে ৫১%, গঙ্গার মাধ্যমে আসে ২৮%, মেঘনার মাধ্যমে আসে ১৪%। মোট কথা বর্ষাকালে পানির ৯৩% আসে সীমান্তের ওপার থেকে। এই পানি নদ-নদীতে ঠাঁই পায় না বলে ফসলের জমি, বাড়িঘরে আঘাত হানে, বন্যায় সবকিছু ভাসিয়ে দেয়। দেশের নদ-নদীর নাব্যতা নেই বলে এমনটা হচ্ছে। আবার এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভরাট হয়ে যাওয়া শত শত খাল-বিলগুলো।

ব্রহ্মপুত্র নদের দুই পাড় ও তথসংলগ্ন এলাকার অসংখ্য খাল ও বিল গুলি ভরাট হয়ে গিয়ে অযতœ-অবহেলায় নিঃশেষ হতে চলেছে। খাল ও বিল গুলি দখল করে বাড়িঘর ও অন্যান স্থায়ীস্থাপনা নির্মান হচ্ছে। যার ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে যা প্রকৃতির জন্য প্রচন্ড ক্ষতি কারক।

হাওর-বাঁওড়গুলো প্রকৃতির সৃষ্টি। প্রকৃতিকে বাধা দেয়া অন্যায়। ফলে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। প্রকৃতি অন্যায়ের শোধ নিচ্ছে। এর সঙ্গে আরো যে বিষয়টি যুক্ত হচ্ছে নির্বিচারে গাছ-পালা নিধন। ফলে দেশের ওপর পড়ছে পরিবেশের বিরূপ প্রভাব। এ থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সবার সচেতনতা বৃদ্ধি, আর দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কল্পে বন্যা থেকে রক্ষায় নিতে হবে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ।

এই পদক্ষেপের অন্যতম হচ্ছে নদ-নদীর গভীরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নকশা মোতাবেক দুই তীর উঁচু করে বেধে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা। যাদের বসতবাড়ি জায়গা জমি ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হয়েছে তা তাদের ফিরিয়ে দেয়া। নদীর দেশ বাংলাদেশে নৌপথকে প্রাধান্য দেয়ার বিষয়টি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়া। কারণ নৌপথ, সড়ক পথের চাইতে অনেক সুভিদা জনক।

মালামাল পরিবহন ও ভ্রমণে খরচ অনেক কম, এ কথা আন্তর্জাতিকভাবে সত্য। দেশকে মরুভূমির হাত থেকে রক্ষায় নৌপথের উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া গত্যান্তর নেই। বিগত দিনে নৌপথকে অবহেলা করা হয়েছে বলে নদীতে চর পড়েছে, ভরাট হয়েছে, নদী আজ খালে পরিণত হওয়ার উপক্রম। ফলে প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হওয়ার পথে।

আমাদের ব্রহ্মপুত্র নদের দুই পার্শের জনপদের মানুষরা নদীর উপর নির্ভরশীল ছিল কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা কমে যাওয়ার ফলে নদীর উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠি নদীকে বাদ দিয়ে যান্ত্রিক প্রক্রীয়ার উপর বেশী নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। যার ফলে জীবন যাত্রার মান বেড়ে গেছে শত গুন। যা তাদের সার্বীক অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলেছে। ব্রহ্মপুত্র নদকে খননের মাধ্যমে যদি এর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা যায় তাহলে বিশাল জনপদের মানুষ উপকৃত হবে।

ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর পাড়ে সেই খা খা বিরান চরাঞ্চলের দুর সবুজ-গ্রামীন পটভূমিই রয়ে গেছে। সময়ের ধারায় গ্রামীন শহর গড়ে উঠছে গ্রাম গ্রামান্তরে। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারের গ্রাম গুলি অনুনত্য রয়ে গেছে।

DSC_0283
প্রদীপ ভৌমিক বলছেন, বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রে পানি প্রবাহ হতাশাব্যঞ্জক। তবে পানি পরিকল্পনা স্কীম করলে এখানেও নদীতে পানি জমিয়ে নৌপথ সচল করা সম্ভব। এ জন্য ভাটিতে ব্রহ্মপুত্র ড্যাম করলে সুফল আসবে।

পানি জমিয়ে বাড়তি পানি উপচে দিয়ে নদীর পারের অংশকেও সচল রাখা। সেখানে জলবিদ্যুৎ হতে পারে। শুধু ময়মনসিংহ শহরের পাশে নদীতে পানি জমিয়ে স্প্রীটবোট বা নৌযান চালানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব। এতে নদীর পানি প্রবাহ  থাকবে। নদীর বুকে শুষ্ক মৌসুমে বালুচর পড়বে না। সারা বছর ব্রহ্মপুত্রে পানি ধরে রাখা। বন্যা নিয়ন্ত্রন সবই সম্ভব। তিনি বলেন, তার জন্য প্রয়োজন সরকারের  পক্ষ থেকে একটি বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহন।

জেলা নাগরিক আন্দলনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ব্রহ্মপুত্র নদ খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘদিন যাবত দাবী জানিয়ে আসছে। ময়মনসিংহবাসীর প্রত্যাশা নদীর দুইপাড়ে বসবাসকারী নাগরিকদের আশা ব্রহ্মপুত্র নদ খনন করে তাদের দাবীকে বাস্তবায়ন করবে এ সরকার।

ব্রেকিং নিউজঃ