| |

ভ্যাকসিন নিয়ে সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজিজ

আপডেটঃ 8:31 pm | October 02, 2020

Ad

ইব্রাহিম মুকুট ঃকোভিড-১৯ মহামারীতে আজ বিশ্ববাসী আক্রান্ত। কোভিড-১৯ এর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিরোধেই সবাই গুরুত্বারোপ করছেন। গবেষকগণও প্রতিষেধক আবিষ্কারে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেছেন। বিশ্ববাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে একটি কার্যকরী ভ্যাকসিনের জন্য। ভ্যাকসিন তৈরি একটি জটিল পদ্ধতি। অনেক সময় ১০ থেকে ১৫ বছর সময়ও লাগতে পারে এবং এক্ষেত্রে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে স্মলপক্স, র‌্যাবিস, প্লেগ, কলেরা, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন ভ্যাকসিন তৈরিতে সফলতা এসেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় প্রচেষ্টা করেও সফলতা পাওয়া যাচ্ছে না, যেমন, এইডস। আধুনিক এই প্রযুক্তির জগতে বিজ্ঞানীরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে স্বল্প সময়ে কিভাবে ভ্যাকসিন তৈরি করা যায় সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভ্যাকসিন কি, মানুষের শরীরে কিভাবে কাজ করে, তা নিয়ে আমরা সহজভাবে কিছু বলার চেষ্টা করব।প্রতিনিয়ত আমরা নানাবিধ জীবাণু দ্বারা সংক্রমণের শিকার হই। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শরীরে রোগ প্রতিরোধ (ইমিউন) সিস্টেমের বদৌলতে আমরা রোগাক্রান্ত হই না। আমাদের শরীরে যখন জীবাণুর সংক্রমণ হয়, স্বাভাবিক নিয়মে শরীর সেই জীবাণুর বিরুদ্ধে ইমিউন রেসপন্সের মাধ্যমে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। শুরুতেই আমাদের শরীর জীবাণুকে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। যদি কোনভাবে জীবাণু প্রবেশ করে তাহলে ইমিউন সিস্টেম তাকে চিহ্নিত করে এবং ধ্বংস করে। ইমিউন রেসপন্স শুরু হওয়ার কিছু লক্ষণের মধ্যে আছে, যেমন : জ্বর, হাঁচি, কাশি। এরপর শ্বেত রক্তকণিকা (বি-সেল ও টি-সেল) জীবাণুর বিরুদ্ধে এ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং মেমরি সেল তৈরি করে। মেমরি সেলে জীবাণুর গঠন এবং কিভাবে সেটা প্রতিহত করা যায় সেই তথ্য থেকে যায় যা পরবর্তীতে একই জীবাণুর দ্বারা সংক্রমণ খুব দ্রুত প্রতিহত করতে পারে। এই ইমিউন সিস্টেমের জন্য কিছু রোগে একবার আক্রান্ত হলে তা সারাজীবনের জন্য সেই রোগের জন্য সুরক্ষা দেয়, যেমন-জলবসন্ত। সাধারণত ইমিউন সিস্টেম সবার মধ্যে সমান শক্তিশালী নয়। অন্যদিকে প্রথমবার সংক্রমণের পরে স্বাভাবিক নিয়মে এ্যান্টিবডি তৈরি হতে বেশ কিছুটা সময় লাগে।ভ্যাকসিন জীবিত বা মৃত ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া অথবা ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার সেলের কোন একটা অংশবিশেষ থেকে উৎপাদন করা হয়, যা প্রাণী দেহে রোগ তৈরি না করেও ইমিউন রেসপন্স শুরু করে। পরবর্তীতে সেই ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমণ হলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম সহজেই এ্যান্টিবডি তৈরি করে সুরক্ষা দেয়।ভ্যাকসিন প্রধানত ৪ প্রকার হয়ে থাকে, যথা-১. Live-attenuated vaccines২. Inactivated vaccines (Killed antigen)৩. Toxoid vaccines (Inactivated toxin)৪. Subunit (Purified antigen)Live-attenuated ভ্যাকসিনে বিশেষ প্রক্রিয়ায় দুর্বলভাবে তৈরি করা জীবিত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়। এই ভ্যাকসিন সাধারণত একটা বা দুটি ডোজই দীর্ঘমেয়াদী ইমিউনিটি দিতে পারে। যেমন-রোটাভাইরাস ভ্যাকসিন, চিকেনপক্স ভ্যাকসিন, এমএমআর ভ্যাকসিন।Inactivated ভ্যাকসিনে মৃত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়। এই ভ্যাকসিন সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ইমিউনিটি দেয় না এবং বেশ কয়েবার বুস্টার ডোজ দেয়ার প্রয়োজন হয়। যেমন-পোলিও, র‌্যাবিস, হেপাটাইটিস-এ ভ্যাকসিন।Toxoid ভ্যাকসিন সাধারণত জীবাণুর দ্বারা তৈরি ক্ষতিকর পদার্থ, যা মূলত রোগ হওয়ার জন্য দায়ী সেই পদার্থ ব্যবহার করে তৈরি হয়। এই ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও বুস্টার ডোজ লাগতে পারে। যেমন- ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হুপিং কাশির জন্য ব্যবহৃত ভ্যাকসিন।Subunit ভ্যাকসিনে ভাইরাস সেলের কোন একটা অংশ যেমন-প্রোটিন, সুগার বা ক্যাপসিড ব্যবহার করা হয়। এই ভ্যাকসিন সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী ইমিউনিটি দেয়। যেমন-হেপাটাইটস-বি, হেমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোক্কাল ভ্যাকসিন।ভ্যাকসিন উৎপাদন একটি দীর্ঘমেয়াদী, ব্যয়বহুল এবং উন্নত প্রযুক্তির প্রক্রিয়া। একটা ভ্যাকসিন তৈরির আগে সাধারণত দীর্ঘ সময় গবেষণা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন। অনেক ধাপ শেষে এক একটা ভ্যাকসিন ব্যাপকহারে ব্যবহারের জন্য বাজারে আসে। একটা ভ্যাকসিন তৈরি করতে কয়েক বিলিয়ন ইউএস ডলার পর্যন্ত খরচ হয়। এই ব্যয়ের বেশিরভাগ অংশ ব্যবহৃত হয় ভ্যাকসিনের কার্যক্ষমতা এবং নিরাপত্তা নিরূপণের জন্য, যার ওপর নির্ভর করে ভ্যাকসিন উৎপাদন এবং ব্যবহারের লাইসেন্স নির্ভর করে। স্বাভাবিকভাবেই ভ্যাকসিন বাজারজাতকরণের আগে এর রোগ প্রতিরোধ করার সক্ষমতা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকা নিশ্চিত করতে হয়। প্রথমেই ল্যাবরেটরিতে বেসিক গবেষণা করে খুঁজে বের করা হয় ভ্যাকসিন তৈরির জন্য জীবাণুটিকে কিভাবে ব্যবহার করা হবে। এরপর ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা ও ইমিউন রেসপন্স শুরু করার সক্ষমতা দেখার জন্য টিস্যু কালচার বা সেল কালচারের মাধ্যমে অথবা বিভিন্ন প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করা হয়। এই পর্যায়ে ভ্যাকসিন যদি আশানুরূপ ফল দেয়, তাহলে মানুষের ওপর ট্রায়াল শুরু হয়। যে কোন ভ্যাকসিন বাজারজাতকরণের পূর্বে নিম্নবর্ণিত ৪টি ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।প্রথম ফেজে সাধারণত অল্প সংখ্যক মানুষের (২০ থেকে ৮০ জন) ওপর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। এই পর্যায়ে মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনটি কতটুকু নিরাপদ এবং ভ্যাকসিনটির ইমিউন রেসপন্স শুরু করার সক্ষমতা দেখা হয়। মানবদেহের জন্য নিরাপদ এবং জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর হলে ভ্যাকসিনটি পরবর্তী ধাপে পরীক্ষা করা হয়।দ্বিতীয় ফেজের পরীক্ষা করা হয় সাধারণত কয়েক শ’ মানুষের ওপর। এই পর্যায়ে ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা, কার্যকারিতার পাশাপাশি ভ্যাকসিনের ডোজ, কখন ও কি উপায়ে দেয়া হবে তা নির্ধারণ করা হয়।তৃতীয় ফেজে এক হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষের ওপর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর ওপর ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা দেখা হয়। কিছু কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অপেক্ষাকৃত অপ্রতুল, যা দ্বিতীয় ফেজে অল্প মানুষের ওপর প্রয়োগের সময় ধরা নাও পড়তে পারে তা তৃতীয় ফেজে ধরা পড়ে। এ পর্যায়ে আরও দেখা হয় ভ্যাকসিনটি আদৌ নির্দিষ্ট রোগ থেকে সুরক্ষা দেয় কিনা এবং নির্দিষ্ট এ্যান্টিবডি ও অন্যান্য কাক্সিক্ষত ইমিউন রেসপন্স শুরু করে কিনা। এই ফেজের পর ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী কোম্পানি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে।চতুর্থ ফেজে কিছু কিছু উৎপাদনকারী কোম্পানি ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা, কার্যকারিতাসহ পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যায়।উপরোক্ত ফেজগুলোর পূর্বে প্রি-ক্লিনিক্যাল ফেজে মানুষ ব্যতীত অন্যান্য প্রাণীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়।কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতির শুরু থেকেই বিজ্ঞানীরা ভ্যাকসিন উৎপাদনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। করোনাভাইরাস খুব দ্রুত মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ব থেকে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল অনেকাংশে নির্ভর করছে কার্যকর ভ্যাকসিন উৎপাদন এবং প্রয়োগের ওপর। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০টা ভ্যাকসিনের মানুষের ওপর ট্রায়াল চলছে এবং ৯২টা অন্যান্য প্রাণীর ওপর। বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, আগামী বছরের শুরুতেই ভ্যাকসিন ব্যাপকভাবে ব্যবহারের উপযোগী হবে।বিজ্ঞানীরা বিভিন্নভাবে ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্ট চালাচ্ছেন। কিছু গবেষক খরাব-attenuated vaccine উৎপাদন করছেন, যার মধ্যে চীনের গবেষকরা অন্যতম। অক্সফোর্ডের গবেষকরা করোনাভাইরাসের জেনেটিক কোড অন্য নিরীহ ভাইরাসের ভেতর প্রবেশ করিয়ে নতুন নিরাপদ একটি ভাইরাস তৈরি করেছে। সেই ভাইরাস প্রাণীর দেহে করোনাভাইরাসের মতো ইমিউন রেসপন্স দিচ্ছে। এটাকে চষঁম ধহফ চষধু ভ্যাকসিন বলা হয়। কিছু গবেষক দল ভাইরাসের উঘঅ অথবা জঘঅ দিয়ে ভ্যাকসিন তৈরি করছে, যা সরাসরি ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করালে ভাইরাল প্রোটিন তৈরি করবে, যা পরবর্তীতে ইমিউন রেসপন্স শুরু করবে।এসব ভ্যাকসিন ব্যবহারের আগে নিশ্চিত করতে হবে যে, এগুলো মানবদেহের জন্য নিরাপদ এবং করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করবে। ভ্যাকসিন অনুমোদন করা হলেও বিশ্বব্যাপী সবার কাছে পৌঁছে দেয়া একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানী, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে একত্রে কাজ করছে কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলার জন্য। নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন উৎপাদিত হলে, ঈঙঠঅঢ (যার নেতৃত্বে রয়ছে ডঐঙ, এঅঠও এবং ঈঊচও) সব দেশে প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণের ব্যবস্থা করবে। এক্ষেত্রে সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।এই মুহূর্তে সেফ এবং ইফেকটিভ বা নির্ভরযোগ্য ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়ে আগ্রহী বিশ্ববাসী। ভ্যাকসিন নিয়ে চলছে রাজনীতি এবং ব্যবসানীতি। কারা প্রথম আবিষ্কার করবে, কারা বাজারজাত করবে কেই-বা প্রথম আবিষ্কার করে মর্যাদার আসনটি দখল করবে; তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) ভ্যাকসিন নিয়ে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে বা নেতৃত্ব দেবে, অনেকেই আশা করেছিল। কিন্তু চীন এবং আমেরিকার টানাপোড়েনে তাও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন, যে দেশেই প্রথম নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে, সে দেশ থেকেই ভ্যাকসিন আনা হবে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি সরকারের প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক তৎপরতাও রয়েছে। যা সবক্ষেত্রে কেবল প্রশংসাই নয়, আমাদের জন্যও স্বস্তিদায়ক। ইতোমধ্যে যে সমস্ত দেশে থার্ড ফেজে ট্রায়াল চলছে সেখানে আবেদন জমা দেয়া হয়েছে এবং কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। চীনের সঙ্গে আমাদের থার্ড ফেজে ট্রায়াল দেয়ার চুক্তি হয়েছে। বেক্সিমকো কোম্পানির সঙ্গে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের চুক্তি হয়েছে। রাশিয়ার গ্যামালিয়া কোম্পানি আমাদের দেশের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে এই দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদন করার সম্ভাবনা খুঁজছে।শুরুতেই কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনা আমাদের চিকিৎসা ও অব্যবস্থাপনায় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। ভ্যাকসিন আসার পরও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এমন আরেকটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে। ভ্যাকসিন সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, পরিবহন এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী দ্বারা টার্গেট জনগোষ্ঠীকে প্রয়োগ-এসবই খুব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভ্যাকসিনের কোল্ডচেন মেইনটেইন করা এবং এ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে টার্গেট গ্রুপ কিংবা যাদের ভ্যাকসিন দেয়া হবে সেটা নির্ণয় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরকে এখন থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হবে।২০০৯ ও ২০১২ সালে টিকাদান কর্মসূচীর সাফল্যের জন্য এঅঠও কর্তৃক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুরস্কৃত হয়েছিল। ২০১৯ সালে টিকাদান কর্মসূচী সাফল্যের জন্য শেখ হাসিনা ভ্যাকসিন হিরো উপাধি পেয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ), কোভেক্স, এঅঠও এর মাধ্যমেও আমাদের দেশে ভ্যাকসিন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সুতরাং ভ্যাকসিন নিয়ে সরকারের যে প্রশংসনীয় উদ্যোগ, তা নিয়ে শঙ্কার কোন কারণ নেই। জননেত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে অনেক প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন। বাজেট বরাদ্দ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, চীনের মেডিক্যাল টিম বাংলাদেশে আসার ব্যবস্থা করা, বিভিন্ন সেক্টরে প্রণোদনা, ধানকাটা ও খাদ্য নিরাপত্তা, আমফান মোকাবেলা, বন্যা মোকাবেলাসহ ৩১ দফা নির্দেশনা সার্বিক সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে সফলতার মুখ দেখেছি। গার্ডিয়ান পত্রিকায় বাংলাদেশের জলবায়ু ও করোনা মোকাবেলায় বৈশ্বিক সমন্বয় ও নেতৃত্বের কথা বলেছে। এর আগেও প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের অনেক নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন, বৈশ্বিক সম্মেলনে ৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন, সিটিজেন গ্লোবাল ফান্ডে ভ্যাকসিনের জন্য অর্থ জমা দিয়েছেন, সার্ক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে তহবিল গঠন করেছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার এসব উদ্যোগের জন্য আন্তর্জাতিক সাময়িকী ফোর্বসে তার প্রশংসা করেছে। তাই আমরা মনে করি ভ্যাকসিন নিয়ে যতই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ব্যবসা যা কিছু থাকুক না কেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ভ্যাকসিন পাব- এই আমাদের প্রত্যাশা। তবে কার্যকর ভ্যাকসিন জনগণের জন্য সহজলভ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত মাস্কের যথাযথ ব্যবহার ও সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধিই করোনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।লেখক : মহাসচিব,স্বাচিপ অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজিজ

ব্রেকিং নিউজঃ