| |

ঈশ্বরগঞ্জে আটবছর ধরে ধারাবাহিক ইভটিজিংয়ের শিকার তিন বোন

আপডেটঃ 8:12 pm | March 05, 2016

Ad

মো. আব্দুল আউয়াল,ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পৌর সদরের কাকন হাটি গ্রামে আট বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে তিন বোন ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বখাটের আক্রমনের শিকার হয়ে  আহত মা-বাবা ২৩দিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও শয্যাশায়ী। আতংকে দিন কাটছে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আফরোজা আক্তারের।
জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পৌর সদরের কাকন হাটি গ্রামের  আব্দুস সোবানের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার , সবুজা আক্তার ও আফরোজা আক্তার কে পাশ্ববর্তী বাড়ির আলী আহাম্মদ ওরফে ফকর উদ্দিনের বখাটে ছেলে  সিএনজি চালক ফারুক মিয়া (২৫) বিগত আট বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে উত্যক্ত করে আসছে। আট বছর আগে সুরাইয়া আক্তার ও এক বছর আগে সবুজা আক্তারের বিয়ে হলেও পিছু ছাড়েনি বখাটে ফারুক। ইতি মধ্যে ছোট বোন চরনিখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আফরোজা আক্তারেরও পিছু নিয়েছে সে। গত ১২ ফেব্র“য়ারী পিত্রালয়ে  স্বামী কাঞ্চন মিয়াকে সাথে নিয়ে সবুজা আক্তার বেড়াতে আসলে স্বামীর সামনেই উত্যাক্তর শিকার হন তিনি। এসময় স্বামী কাঞ্চন মিয়া তার প্রতিবাদ করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিয়ে প্রান নাশের হুমকী দেয় বখাটে ফারুক। পরে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্যদের জানালে ফারুক ক্ষিপ্ত হয়ে সবুজা আক্তারের মা মালেকা বেগম ও পিতা আব্দুস সোবানের উপর হামলা চালায়। ইট দিয়ে মালেকা বেগমের মাথায় ও হাতে উপর্যপরী আঘাতের ফলে মালেকা বেগমের একটি হাত ভেঙ্গে যায় ও মাথা ফেটে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ সময় তার স্বামী আব্দুস সোবান তাকে উদ্ধার করতে এলে তাকেও মাথায় আঘাত করা হয়। পরে এলাকাবাসী উয়কে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই দিনই আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে প্রেরন করা হয়। মারধরের ঘটনাটি নিয়েও ২৩ ফেব্রুয়ারী ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে আটক হয়েছে ফারুক। চরনিখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আফরোজা আক্তারের স্কুলে গিয়ে জানা যায়, ভর্তি হওয়ার পর থেকে সে স্কুলে এসেছে ১৩দিন। প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল জানান মেয়েটি ইরেগুলার তবে সেটি ইভটিজিংয়ের কারণে কিনা তিনি তা জানেন না। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান বলেন,  ফারুক দুষ্ট প্রকৃতির ছেলে। তার কারণেই দুই পরিবারে সৃষ্ট বিবাদ মিটমাট করা যায়নি।
মনোয়ারা খাতুন, আব্দুস ছাত্তার, শম্পা বেগমসহ অর্ধশত এলাকাবাসী জানান, ফারুক শুধু আব্দুস সোবানের মেয়েকেই নয় সে মেয়ে দেখলেই যে কোন মেয়েকে উত্যক্ত করে। তার এসব কর্মকান্ডে অতিষ্ট এলাকাবাসী। প্রায় সময়ই তাকে মধ্যপ অবস্থায় অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে শোনা যায়।
উত্যক্তের শিকার সবুজা আক্তার জানান, বখাটের উৎপাতে বেসরকারী একটি ক্লিনিকের চাকুরী ছাড়তে হয়েছে তাকে। ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১১ সালে তিনি নিজে বাদি হয়ে ফারুক কে আসামী করে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেও মুক্তি মিলেনি তার। ১বছর আগে বিয়ে হলেও এখনো তিনি ভয়ে পিত্রালয়ে বেড়াতে আসতে পারেন না। ৮মাসের অন্ত:সত্ত্বা হয়ে স্বামীকে নিয়ে বেড়াতে এসেও উত্যক্তের শিকার হয়েছেন তিনি। ওই ঘটনায় মাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে বাবাকেও মারধর করেছে। ফারুকের অত্যাচারে ৮ বছর আগে বড় বোন সুরাইয়া আক্তারকে বিয়ে দিতে হয়েছে গোপনে।  সম্প্রতি ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী  ছোট বোন আফরোজা আক্তারের পিছু নেওয়াতে তার স্কুলে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। আফরোজা আক্তার বলেন, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ফারুক ভাই বিভিন্ন প্রকার অশালীন মন্তব্য করে ও আমাকে কু-প্রস্তাব দেয় ।
মামলার বাদী সুরাইয়া আক্তার জানান, মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে ফারুক আটক হলেও তার লোকজন বিভিন্ন ভাবে হুমকী দিয়ে যাচ্ছে । এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। ফারুক জামিনে মুক্ত হলে তাদের উপর অত্যাচার নির্যাতন আরো বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্খা করছেন তারা।
ফারুকের বাবা ফকর উদ্দিন জানান, তিন বোনকে ইভটিজিংয়ের বিষয়টি সত্য নয়। আফরোজা আক্তার ছোট মেয়ে তাকে কি ইভটিজিং করবে। তার ছেলে সবুজা আক্তারের স্বামীর কাছে মোবাইল নাম্বার চাইলে তার বাড়িতে এসে ওরাই আক্রমন শুরু করে। এতে উভয় পক্ষের লোকজনই আহত হন। তাদের লোকজনের মাথায়ও সিলি করতে হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ  বোরহান উদ্দিন জানান, উভয় পক্ষে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ইভটিজিংয়ের বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে যথাযত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ