| |

পাগলার গন্নরা বিলে দীর্ঘদিন ধরে পানি আটকে থাকার কারনে নষ্ট হচ্ছে ফসলী জমি

আপডেটঃ 11:42 pm | October 11, 2020

Ad


মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ পানি নিস্কারের পথে বাধ দিয়ে জলাবদ্ধতায় পরিনত করা হচ্ছে ফসলী জমি। মাছ চাষের নামে পাগলার তললী গ্রামের অসহায় নিরীহ কৃষক মজিবুর রহমানের পরিবারকে সর্বশান্ত করার পায়তারা করা হচ্ছে। প্রতিকার চেয়েও সুবিচার পাচ্ছেনা কৃষক পরিবারটি। ধান চাষের জমিতে ফসল ফলাতে না পারলে অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করতে হবে পরিবারটিকে। পানি নিস্কাসনের পদক্ষেপ গ্রহন করে আমন মওসুমে ফসল করার পরিবেশ তৈরী করে দিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মজিবুর রহমান নামের এক কৃষক। পাগলা থানা নিগুয়ারী ইউনিয়নের তললী গ্রামের কৃষক মো: মজিবুর রহমান জানান, আমরা শান্তিপ্রিয় ভাবে তললী গ্রামের গন্নরা বিলের জমিতে চাষাবাদ করে ফসলাদি উৎপাদন করে পরিবার নিয়ে জমি ভোগদখল করে আসছি। কৃষি কাজের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসল থেকেই আমাদের সংসারের আয় ব্যায় পরিচালিত হয়। গন্নরা বিলে আমাদের ৩শত সাড়ে ১৭ শতাংশ জমি রয়েছে। কৃষি কাজ ছাড়া আমাদের জীবিকা নির্বাহের আর কোন সংস্থা নেই। বিলের জমিতে শুধুমাত্র আমন ও বোর ধান চাষাবাদ করা হয়। নিগুয়ারী ইউনিয়নের তললী গ্রামের একদল সংঘবন্ধ বাহিনীর লোক হিসাবে পরিচিত শাহজাহান ওরফে ডেঙ্গু, হিরন, সাইফুদ্দিন ওরফে খোকা পেশি শক্তির দাপটে আমার মত নিরিহ শান্তিপ্রিয় লোকের সহায় সম্পত্তিতে অযথা ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি করার পায়তারা করছে। তাদের বেআইনী কাজে বাধা দিলে আমাদের খুন জখমের ও প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তারা করতে পারেনা এমন কাজ নেই। আমাদের স্বত্বদখলীয় জমিতে যাতে আমরা চাষাবাদ করতে না পরি সেই জন্য পেশি শক্তির দাপট দেখিয়ে তারা বিলের পানি আটকে রাখে। এতে আমাদের জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। বিলে পানি আটকে দেয়ার কারনে জমিতে ৩/৪ হাত পানির নিচে পরে থাকে। বর্তমানে আমন ধান রোপনের সময় চলছে। আমি তাদের পানি ছাড়ার জন্য অনুরোধ করেছি। আমান ধান রোপন করতে না পারলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতি ইঞ্চি জমিতে ফসল করার আহবান ব্যর্থ হবে এই বিষয়টি স্মরন করিয়েও তাদের অনুরোধ করেছি। আমন ধান উৎপাদন জাতীয় খাদ্য মজুদের একটি অংশ। সঠিক ভাবে আমন ধান উৎপাদন না করতে পারলে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। সমস্ত পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে থাকতে হবে। আমি গত ২ সেপ্টেম্বর‘২০ পাগলা থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঘটনার বিষয়ে জানালে তাঁর নির্দেশে এসআই শওকত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু পানি ছাড়ার কোন ব্যবস্থা না করায় আমি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় পড়েছি। যথাযত কর্তৃপক্ষকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিলের পানি ছাড়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষে মজিবুর রহমান অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি জিলা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৬৪৭/২০২০। এবিষয়ে গফরগাঁও উপজেলা ভুমি অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরন করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে ভুমি কর্মকর্তা জানান, গফরগাঁও উপজেলাধীন পাগলা থানার তললী মৌজার জমি সরেজমিন তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তকালে উপজেলা ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার এবং পাগলা থানার পুলিশ সহযোগিতা করেন। তদন্তকালে দেখা যায়, তললী মৌজার পাগলা হতে শ্রীপুর বরমীগামী পাকা রাস্তার দক্ষিনপার্শে বিলের জমি অবস্থিত। জমিতে ৭ফুট গভীরতায় পানি রয়েছে। বিলের দক্ষিনাংশে আবেদকৃত জমির অবস্থান। প্রার্থীপক্ষ ও এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানাযায়, এটি গান্নারা বিল নামে পরিচিত। গান্নারা বিলে এবারই প্রথম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিলে কখনো মাছ চাষ করেননি। তিনি আরো জানান, ইতিপুর্বে কখনো মাছ চাষ করা হয়নি। প্রার্থীপক্ষের বক্তব্যের সত্যতা প্রমানের জন্য মামলায় বর্নিত কোন স্বাক্ষীকে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। প্রতিপক্ষ মো: শাহজাহান জানান, বিলে আমার জমি রয়েছে। গন্নারা বিলের ৬৯ জন জমির মালিক ৫জনের নামে ৪ বছরের জন্য কাটা প্রতি ৫ থেকে সাড়ে ৪ হাজার হিসাবে মাছ চাষের জন্য ভাড়া প্রদানের চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন। তিনি জানান, প্রতিপক্ষ দীর্ঘ ১৫ বছর বিলটি একক ভাবে জোর পুর্বক মাছ চাষ করেছেন। উক্ত দখলদার উচ্ছেদে কোর্টে মামলা করলে কোর্টের নির্দেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সহযোগিতায় বিলটি উদ্বার হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে মো: মজিবুর রহমান জেলা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ অতি: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারাজীর আবেদন করেছেন। নারাজীতে তিনি বলেন, এই জমিতে ধান চাষ করে আমরা পরিবারের আয়ব্যায় নির্বাহ করে থাকি। ইচ্ছাকৃত ভাবে প্রতিপক্ষটি জমির পানি আটকিয়ে ঝগড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। অনুরোধ করা স্বত্বেও পানি নিস্কাসনের পথে বাধ দিয়ে পানি আটকিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি করতেছে। ধান চাষ না করতে পারলে আমাদের পরিবারকে অনাহারে দিনকাটাতে হবে। তিনি আরো জানান, গফরগাঁও উপজেলা ভুমি কর্মকর্তা পানি ছাড়ার কোন ব্যবস্থা না করে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা কোন তারিখে কোন সময় তদন্ত করেছেন তা উল্লেখ নেই। তদন্ত প্রতিবেদনে বরা হয়েছে, শাহজাহান এর গন্নরা বিলে জমি রয়েছে। কিন্তু কোন দাগে কোন খতিয়ানে জমি রয়েছে তার কোন উল্লেখ নেই। মাছ ছাড়ার চুক্তি নামার কথা বলা হয়েছে, তাতে ভারাটিয়ার জমির দাগ নম্বর খতিয়ান নম্বর উল্লেখ নেই জমির পরিমান কত তাও নেই। ৬৯ জন ব্যাক্তি যারা ভাড়া দিয়েছেন তাদের নামের তালিকাও নেই। তিনি জানান, জমিতে ফসল ফলাতে না পারলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহবান প্রতি ইঞ্চিতে ফসল ফলান অমান্য করা হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ