| |

৭ নভেম্বরের মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

আপডেটঃ 3:12 pm | November 07, 2020

Ad

প্রদীপ ভৌমিক :

৭ নভেম্বরের মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।১৯৭২ সাল থেকে জাসদ নেতা কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামধারী কিছু প্রতিবিপ্লবী এবং কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপের কিছু নেতার নেতৃত্বে সরকারের পতনের উদ্দেশ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে জন সমক্ষে বিষোদগারের মাধ্যমে প্রচারনা শুরু করে। ১৯৭৫ সনের ১৫ আগষ্ট বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের চিন্তা চেতনার ধারক ও স্বাধীনতা বিরোধী দেশী বিদেশী চক্রের মদদ ও পরিকল্পনার সাথে যুক্তদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সেনাবাহিনীর মুষ্টিমেয় সদস্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে। ১৯৭৫ সনের ১৫ আগষ্টের ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার সুখ ও স্বপ্ন চিরতরে বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে, ১৯৭৫ সনের ৩ নভেম্বর জেলখানার অভ্যন্তরে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সোপানের মাঝি, জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল, তাজউদ্দীন, মুনসুর আলী ও কামরুজ্জামান কে।উক্ত ঘটনা সহ অপরাপর কিছু ঘটনায় সেনাবাহিনীর শৃংখলা ভীষন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ বীর উত্তমের নেতৃত্বে বেশ কয়েক জন মুক্তিযোদ্ধা সেনা বাহিনীতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার লক্ষে ও দেশে অরাজকতা বন্ধের নিমিত্তে একটি উদ্যোগ গ্রহন করে। উদ্যোগের ফল স্বরূপঃ-১। ১৯৭৫ সনের ৩ নভেম্বর জেলহত্যাকান্ডের পর সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান জিয়াকে তার গৃহে বন্দী করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সেনা সদস্য গন।২। ৭ নভেম্বর মধ্য রাতের পর কর্নেল তাহের ও জাসদ নেতৃত্বাধীন গণ বাহিনীর সাথে মিলিত হয়ে পাকিস্তান ফেরত ও ১৫ আগষ্ট এবং ৩ নভেম্বরের হত্যাকারীগন জিয়াকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে ক্যান্টনম্যান্টে সমবেত হয়। ৩। জিয়াকে মুক্ত করতে আসা কয়েকটি ইউনিটের মাঝে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যু দণ্ডে দন্ডিতে আসামী কর্নেল ফারুকের কোম্পানীর মেজর মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে কতিপয় সৈন্য জিয়ার বাসভবনে পৌছে, পাহারাদারের অনুপস্থিতিতে, জিয়াউর রহমান জিন্দাবাদ, সিপাহি সিপাহি ভাই ভাই, শ্লোগান সহকারে গেট ভেঙ্গে বাসায় প্রবেশ করে। এসময়ে মেজর মহিউদ্দিন জিয়াকে তাদের সাথে যাওয়ার অনুরোধ করলে, জিয়া বলেন আমি রিটায়ার করেছি। আমি কিছুর মাঝে নেই। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।আমি কোথাও যাবো না। মহিউদ্দিন বলেন আমরা আপনাকে চীফ বানাবো।৪। জিয়া মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুর আরেক খুনী কর্নেল রশীদের অফিসে অবস্থান নেন।৫। কর্নেল তাহের জিয়ার মুক্তির খবরে পাল্টা অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবী করে জিয়ার সাথে সাক্ষাত পূর্বক রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন হবার জিদ ধরেন। জিয়া তাহের একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। জিয়া তাহেরকে বলে আমাকে বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ। এসময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলো কর্নেল আমিনুল হক, মেজর মহিউদ্দিন, মেজর যুবায়ের, মেজর মুনীর ও সুবেদার মেজর আনিস প্রমুখ।৬। তাহের জরুরী কথা বলার জন্য জিয়াকে নিয়ে কক্ষের একটি নিভৃত কোনে চলে যায়। এক পর্যায়ে উভয়ের মাঝে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। তাহের জিয়াকে রেডিও ষ্টেশনে নিতে চায়। জিয়া সুবেদার মেজর আনিসকে কৌশলে জিয়াকে সরিয়ে নিতে বললে আনিস তা পালন করে।৭। কর্নেল রশীদের অফিসে বসে জিয়ার বেতার ভাষন রেকর্ড করা হয়। সংক্ষিপ্ত ভাষনে জিয়া নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষনা করেন। সেনা বাহিনীর অনুরোধে এই দায়ীত্ব নেয়া হয়েছে বলে জিয়া ভাষনে উল্লেখ করেন। অবশ্য পরে রাষ্ট্রপতি সায়েমকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক বানিয়ে জিয়া স্বল্প সময়ের জন্য উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়েছিলেন।৮। ৭ নভেম্বর রাত ১২ টায় জেনারেল খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম, কর্নেল হুদা ও হায়দারকে সঙ্গে নিয়ে ব্রিগেডিয়ার নুরুজ্জামানের বাসা ঘুরে ব্রিগেডিয়ার নওয়াজিসের ১০ম বেঙ্গলে পৌছান। জিয়া নওয়াজিসের নিকট থেকে খবর পেয়ে মেজর জলিলকে সেখানে পাঠালে তার অধিনস্থ সৈনিক গন খালেদ মোশাররফকে উদ্দেশ্য করে বলে আমরা তোমার বিচার করবো।খালেদ বলে বিচার কর। সৈনিকরা বলে এখনি করবো, খালেদ দুহাতে মুখ ঢেকে বলেন কর। সৈনিক গন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ এবং সাব-সেক্টর কমান্ডার হুদা সহ মুক্তিযোদ্ধা হায়দায়কে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে।এন্থনি ম্যাসকারেনহাস তার গ্রন্থে লিখেছেন এসময়ে সেনাবাহিনীর অফিসার সংখ্যা ৩০ শতাংশ কমে গিয়েছিলো। কিছু সেনা কর্মকর্তাকে ব্যাক্তিগত কারনে হত্যা করা হয়। তখন বেছে বেছে মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাকে উক্ত অপরাধের দায়ে দায়ী করে ফাঁসী কাষ্ঠে ঝুলানো হয়।১৫ আগষ্ট, ৩ নভেম্বর ও ৭ নভেম্বর হত্যাকান্ডের হোতা গন ৭ নভেম্বর কে সিপাহী জনতার বিপ্লব দিবস বলে থাকে। বাস্তবে এই ঘটনার সাথে কোন সিপাহী জনতা জড়িত ছিলো না এখনো সিপাহী জনতা এর সাথে সম্পৃক্ত না। প্রতি বৎসর শুধুমাত্র ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতা বলে স্বর গোল করা হয়। কোন সিপাহী জনতা এর সুফল ভোগী নহে। এর সুফল ভোগী জাতীয়তাবাদী ঘরানার রাজনৈতিক দল ও ব্যাক্তিবর্গ।উক্ত সময়ে কাল্পনিক ক্যুয়ের নামে কর্নেল তাহের সহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা সৈনিককে হত্যা করা হয় বলে ৭ নভেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস বলা হয়।হত্যাকারীদের ধিক্কার জানিয়ে শাহাদাত বরণ কারী মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও চিরশান্তি কামনা করছি।

ব্রেকিং নিউজঃ