| |

২৮ নভেম্বর শহীদ ফিরোজ জাহাঙ্গীর দিবস

আপডেটঃ 2:04 pm | November 19, 2020

Ad


মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ ২৮ নভেম্বর শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীর দিবস। গণতন্ত্র উদ্ধারে স্বৈরাচার এরশাদ সরকার বিরোধী গণআন্দোলনে ১৯৯০ সালের এই দিনে ময়মনসিংহের রাজপথে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেধাবী এই দুই ছাত্রনেতা শেখ ফিরোজ আহম্মেদ ও জাহাঙ্গীর আলম। ওইদিন সকালে শহরের প্রাণকেন্দ্র মহাকালী গার্লস স্কুলের সামনের রাস্তায় সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের মিছিলে পুলিশ গুলিতে শহীদ হন এ দুই ছাত্রনেতা। ফিরোজ ছিলেন নাসিরাবাদ কলেজে বিএ ক্লাসের ছাত্র এবং বিপ্লবী ছাত্রসংঘ ময়মনসিংহ জেলা শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক। আর জাহাঙ্গীর ছিলেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং জাসদ ছাত্রলীগ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখার সাধারণ সম্পাদক। নব্বই-এর ছাত্র আন্দোলনের সাহসী এ দুই সৈনিক নিহত হওয়ার দীর্ঘদিন পরও তাদের হত্যার বিচার হয়নি। বিভিন্ন মহলের নানা মুখী অপতৎপরতায় সেই মামলা আলোর মুখ দেখেনি। শহীদ ফিরোজ ও জাহাঙ্গীর স্মরণে এই দিনটিতে ময়মনসিংহ জেলা ১৪ দল ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের উদ্যোগে শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ২৮ নভেম্বর তারিখটি ময়মনসিংহের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্মরনীয় দিন। সেদিন ৯০’র স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের জোয়ারে ময়মনসিংহের রাজপথও কেঁপে উঠেছিল। ঐ সময়ে আন্দোলনের প্রতিটি মুহুর্ত রাজপথ দখলে রেখেছিল ময়মনসিংহের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উত্তাল ছাত্র-জনতা। ঐদিনই আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর পুলিশ বিনা উসকানীতে গুলী চালিয়ে ময়মনসিংহের রাজপথে হত্যা করে আন্দোলনের দুই বীর সৈনিক ছাত্রনেতা ফিরোজ এবং জাহাঙ্গীরকে। ছাত্রনেতা শেখ মোঃ ফিরোজের স্ত্রী রোকেয়া আক্ষেপ করে বলেছিলেন, স্বৈরাচার আন্দোলনের পর ক্ষমতায় আসা কোন সরকারেই এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার অচিরেই সম্পন্ন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের জন্যে সব সরকারই কিছু না কিছু করেছে কিন্তু স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের শহীদদের জন্যে কোন সরকারই কিছু করলো না।’ এরশাদ বিরোধী গণ আন্দোলনে শহীদদের সহযোদ্ধা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ময়মনসিংহ জেলা শাখা তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আওয়ামী লীগ যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শওকত জাহান মুকুল ও জাসদ ছাত্র লীগ নেতা মিজানুর রহমান তাপস জানান, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এই দুই ছাত্র নেতা ছিলেন সোচ্চার। প্রতিদিনের মতো ঐদিনও সকাল বেলা বাসা থেকে বেড়িয়ে শহরের প্রাণ কেন্দ্র গাঙ্গিনাপাড় মোড়ে এসে সমাবেশ করার সময় পুলিশ বিনা উসকানিতে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়, গুলি খেয়ে সাথে সাথে মাটিতে লুটিযে পড়ে তৎকালীন ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখার জাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও বিপ্লবী ছাত্র সংঘ ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক শেখ মো: ফিরোজ। এই মামলার এক সাক্ষী স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের আরেক সহযোদ্ধা তৎকালীন জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি বর্তমান জাসদ নেতা এ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু জানান, গণআন্দোলনের এ দুই সৈনিক নিহত হওয়ার পর দোষী পুলিশদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয় ময়মনসিংহবাসী। বিচারের দাবিতে গণতদন্ত কমিশন গঠিত হয় এবং কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক এ ঘটনায় সুর্নিদিষ্টভাবে দায়ী পুলিশদের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলাও দায়ের হয়। জুডিসিয়াল তদন্তে ঘটনাটির প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণও হয়। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারনে মামলাটি এক পর্যায় খারিজ হয়ে যায়। দুই যোগ পরে সময়ের স্রোতে হারিয়ে যেতে বসেছে দোষীদের বিচারের দাবিটিও। তিনি আরো বলেন, এদিকে শহীদ এ দুই ছাত্রনেতার স্মরণে গুলি বর্ষণের ঘটনাস্থলে ৯০ পরবর্তী সময়ে একটি স্মৃতিস্তম্ভও নির্মাণ হয়েছে। এই স্মৃতিস্তম্ভে প্রতি বছরের ২৮ নভেম্বর ফুল দিয়ে শ্রদ্বা জানায় বিভিন্ন সংগঠন। তবে দু:খজনক হলো লোহার গ্রীল দেয়া স্তম্ভের ফটকে তালা ঝুলে সব সময়। ধূলা, বালি, শ্যাওলা আর আগাছায় এটি ঢেকে থাকে। ময়মনসিংহের নতুন প্রজন্মদের অনেকেই জানে না যে, ৯০ এর ছাত্র গণ আন্দোলনে নিহত দুই বীর ছাত্রনেতার স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ এটি। সংশ্লিষ্ট সকলের খামখেয়ালীপনা আর অসচেতনতায় চোখের সামনের ছাত্র আন্দোলনের এক জ্বলন্ত ও গৌরবময় ইতিহাসকে আজ ময়মনসিংহবাসী ভুলতে বসেছে। ৯০‘এর গণ আন্দোলনে নিহত এই দুই সেনার নিহত হওয়ার স্থানটিকে শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বর নাম দেয়া হয়েছে। এই স্থানটিকে ঘিরে চলে ময়মনসিংহের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। তাই এখানে এই দুই শহীদের স্মরণে একটি সুন্দর স্মৃতি সৌধ গড়ে উঠুক এটিই ময়মনসিংহবাসীর দাবি।

প্রতিদিনের মতো ঐদিনও সকাল বেলা বাসা থেকে বেড়িয়ে শহরের প্রাণ কেন্দ্র গাঙ্গিনাপাড় মোড়ে এসে সমাবেশ করার সময় পুলিশ বিনা উসকানিতে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়, গুলি খেয়ে সাথে সাথে মাটিতে লুটিযে পড়ে তৎকালীন ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখার জাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও বিপ্লবী ছাত্র সংঘ ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক শেখ মো: ফিরোজ। এই মামলার এক সাক্ষী, আরেক সহযোদ্ধা তৎকালীন জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি বর্তমান জাসদ নেতা এ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু জানালেন, গণআন্দোলনের এ দুই সৈনিক নিহত হওয়ার পর দোষী পুলিশদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয় ময়মনসিংহবাসী। বিচারের দাবিতে গণতদন্ত কমিশন গঠিত হয় এবং কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক এ ঘটনা মামলার বাদী তৎকালীন জাসদের সাধারন সম্পাদক, জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারন সম্পাদক প্রকৌশলী নূরুল আমিন কালাম বলেন, স্বৈরাচার এরশাদ সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে গিয়ে আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছিল পরবর্তীতে সেই সব হত্যাকান্ডের বিচার আজো হয়নি। আমার জীবদশায় রাজপথ কাঁপানো শহীদ দুই ছাত্র হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই। নব্বই সালে এরশাদ বিরোধী গণআন্দোলনে নিহত রাজপথের লড়াকু সৈনিক শহীদ ফিরোজ-জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার কৌশলী এডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত বলেন, ফৌজধারী আইনের ক্ষেত্রে সময় কখনও মামলা পরিচালনায় বাঁধা হয়ে দাড়ায় না, সরকার যদি আন্তরিক হয় তা হলে 30 বছর পরেও মামলার বিচার কাজ শুরু করা সম্ভব। শহীদ জাহাঙ্গীরের মাতা নূরজাহান বেগম সারাটি জীবন গেল ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে, দেশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মানবতা বিরোধী হত্যাকান্ডের বিচার হলেও গত 30 বছরেও তার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার হয়নি, তিনি ছেলের হত্যাকারীদের বিচার দেখতে চান। নব্বইয়ের রাজপথে সৈনিক সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য জোটের অন্যতম নেতা এডভোকেট আব্দুল মোতালেব লাল ও শওকত জাহান মুকুল বলেন, গনতন্ত্রের জন্য যারা সংগ্রাম করে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়,তাদের হত্যাকান্ডের বিচার না হলে গনতন্ত্র হুমকির মূখে পড়বে, আর কখনো যদি গনতন্ত্র সংকটাপন্ন হয় তা হলে দেশের যুবসমাজ ছাত্র সমাজ রাজপথে রক্ত ঝড়ানোর জন্য এগিয়ে আসবে না। ছাত্র আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাসকে ময়মনসিংহবাসী আজ ভুলতে বসেছে। গনতান্ত্রিক আন্দোলনে গনতন্ত্র রক্ষার অতন্দ্র প্রহরীদের হত্যার বিচার করার জন্য সরকারের এগিয়ে আসা উচিত।

ব্রেকিং নিউজঃ