| |

ময়মনসিংহে চরনিলক্ষিয়ায় নূরু বাহিনীর অত্যাচারে অসহায় এলাকাবাসী

আপডেটঃ 9:45 pm | November 21, 2020

Ad


ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ॥ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরনিলক্ষিয়া ইউনিয়নে নূরু বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষ। দখল করে নিচ্ছে সাধারণ মানুষের সাফকবুলত জমি,অত্যাচার থেকে রেহায় পায়নি নিকট আত্মীয়ও। খুন-মাদক মামলাসহ এরয়েছে একাধিক মামলাও। ২০ নভেম্বর শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরনিলক্ষিয়া উজানপাড়া গ্রামে গেলে এলাকার সাধারণ জনগণ এসব কথা বলেন। এসময় নূরু বাহিনীর প্রধান নুরুল আমিন(৬০) এর ছোট ভাই ফজলুল হক(৫০) সাথে কথা হয় তিনি জানান- আমার বড় ভাই নূরুল আমিন ও তাঁর চার ছেলে লিটন মিয়া(২০),সুরুজ মিয়া(৩০),শহিদ মিয়া(২৮),ও মোশারফ হোসেন(২৭) মিলে আমার এক একর জমি গত ২ বছর ধরে জুড় করে বেদখল করে রেখেছেন। যে জমিগুলো আমি আমার বাবার কাছ থেকে কিনেছি যেখানে দলিলের স্বাক্ষী হয়েছেন আমার ভাই নূরুল আমিন ও তাঁর ছেলে শহিদ মিয়া। পারিবাািরক বন্টননামা চূড়ান্ত করে আমার মরহোম পিতা সকল ভাই বোনের সম্মতি ক্রমে এই জমি আমাকে লিখে দেন। আমি ন্যায মূল্য দিয়ে এই জমি কিনেছি।গত দুই বছর ধরে গায়ের জুরে আমার বড় ভাই তাঁর ছেলেদের নিয়ে লাঠির জুড়ে এই জমি বেদখল দিয়েছে। আমার কোন পুত্র সন্তান না থাকায় আমি তাঁদের সাথে পারে ওঠছিনা।এসময় তিনি আরও বলেন- তাঁর পাঁচটি মেয়ে নিয়ে এই জমির উপরই নির্ভর করেই চলতো সংসার। মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ,সংসার খরচ সকল কিছুই চলতো এই জমির উপর,অন্য কোন উপার্জন না থাকায় তাঁর বর্তমানে মানবেতর দিন যাপন করতে হচ্ছে। মেয়েদের লেখাপড়াও বন্ধ। দুটি মেয়ে ময়মনসিংহ নার্সিং কলেজে পড়তো,তাঁদের লেখাপড়াও এখন বন্ধ। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বার ও গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে অনেক শালিস-দরবার করেও কোন প্রতিকার হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়- এধরনের ঘটনা শুধু ফজলুল হকের সাথেই ঘটেনি। ঐ এলাকার ছায়েদুল ইসলাম(৪৫)এর ৫৮ শতাংশ,প্রতিবন্ধি বদর আলী(৬০)এর ২২ শতাংশ এবং মফিদুল ইসলাম(৩৮) এর ৭.৫ শতাংশ জমি বেদখল করেছে নূরু বাহিনীর সদস্যরা। ছায়েদুল ইসলাম জানান-আমার পিতা এই জমিটি কিনেছেন ১৯৮৯ সালে যার দলিল নম্বর ৪০৫১ ভলিয়ম নাম্বার-৫৭। তখন থেকেই এই জমি আমাদের দখলে। গত কয়েক দিন আগে হঠাৎ করে ঘোষনা দেয় এই জমি তাঁদের, তাই তাঁরা এই জমি বেদখল করেছেন,এই জমি বাবদ তাঁরা দাবি করে ৫০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ছায়েদুল ইসলাম বাদি হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। প্রতিবন্ধী-বদর আলীর ছেলে জয়নুল আবেদিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান-আমার বাবা তাাঁর চাচার কাছ থেকে ১৯৭৮ সালে ও ১৯৮৫ সালে দুটি দলিলের মাধ্যমে ২২ শতাংশ জমি কিনেছিলেন, তখন থেকেই এই জমি বেদখল করেছে নূরুল আমিন। বর্তমানেও এই জমিগুলো নূরু বাহিনীর বেদখলে আছে। আমি আমার বাবার এই জমি ফেরত চাই। রিকশা চালক মফিদুল ইসলাম বলেন-গত কলেক দিন আগে আমার সাফকবুলত সাড়ে সাত শতাংশ জমি বেদখল করে নিয়েছে নূরু বাহিনীর সদস্যরা। এখন আমাকে নানা ভাবে হুমকিও দিয়ে যাচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি। এলাকাবাসীর অভিযোগ নূরু বাহিনীর সদস্যরা মানুষের জায়গা দখল করে হয়রানি করে টাকা আদায় করার জন্য। তাঁরা শুধ জমি দখল করেই খান্ত নয় এদের মাধ্যে অনেকে হত্যা মামলার আসামীও। ২০০৮ সালের একটি হত্যা মামলায় নূরু মিয়া তাঁর দুই ছেলে সুজন মিয়া ও মোশারফ হোসেন আসামী। এলাকাবাসী আরও জানান- নূরু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া মাদক দ্রব্যসহ একাধিকবার পুলিশের হাতে ধরা পরেছে। ছাড়া পাওয়ার পর আগের মতোই বেপরোয়া ভাবে সাধারণ মানুষকে অত্যাচার করে যাচ্ছে। এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী বিচার দাবি করেছেন। উল্লেখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানার জন্য নূরুল আমিনের সাথে কথা বলা সম্ভব না হলে তাঁর ছেলে লিটন মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান-ফজলুল হকের জমির কাগজপত্রে সমস্যা থাকায় আদালত উভয় পক্ষকে উক্ত জমিতে যেতে নিষেজ্ঞা জারি করেছে। বদর আলী ও মফিদুল ইসলামের জমিন আর.ও.আর-বি.আর.এস আমার দাদার নামে তাই দখল করেছি। আর ছায়েদুল ইসলামের জমিতেও কাগজ পত্রের জামেলা আছে, তবে এ জমিতে আমি যাইনি। ছায়েদুল ইসলামের এজাহারটি প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে ফোনে যোগাযোগ করা হলে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোন ধরেননি।

ব্রেকিং নিউজঃ