| |

এ প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা” টিটুর ,নান্দনিক শিল্প কর্ম ” জয় বাংলা চত্বর

আপডেটঃ 12:15 am | December 18, 2020

Ad

প্রদীপ ভৌমিক : বঙ্গ বন্ধু জাতীর পিতা শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষীকি উপলক্ষে ১৬ই ডিসেন্বর ২০২০ সালে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের শন্ভুগজ্ঞ ব্রীজের মোড়ে এ প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা বলে ময়মনসিংহবাসীর কাছে খ্যাত মেয়র টিটু গড়ে তুলেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭৫ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মময় জীবন এবং স্বাধীকার আন্দোলনের ইতিহাস ও স্বাধীনতা আন্দোলনে আত্ম বলিদান কারিদের পরিচয় এবং তাদের ইতিহাস সমৃদ্ধ “জয় বাংলা চত্বর”।বাংলাদেশে এরকম স্মৃতি চত্বর সর্বপ্রথম নির্মানকরে ইতিহাসের পাতায় স্হান করে নিয়েছে ময়ঃসিটি কর্পোরেশন ও তার বর্তমান মেয়র ইকরামূল হক টিটু। মেয়র টিটুকে এ প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা বলে আখ্যায়িত করে করেছিলাম আজ থেকে ৫ বৎসর পূর্বে আমার সন্পাদিত দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ পত্রিকায়।আমি লক্ষ্য করেছিলাম ৭১ এ মুক্তিযোদ্ধর মাধ্যমে দেশ স্বাধীন পর থেকে তৎকালিন ময়মনসিংহ পৌর সভায় আনেকেই পৌর সভার চেয়ারম্যান,ও মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তার মধ্য মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি আঃলীগ ও ভিন্ন মতার্দশের জনপ্রতিনিধিরাও ছিল।কিন্তুু কেউ ময়মনসিংহের ভাষা আন্দোলনের সৈনিক ও মুক্তি যোদ্ধাদের স্বরনে কোন স্মৃতি সৌধ বা স্হাপনা নির্মান করেনি।কিন্তুু মেয়র টিটুই একমাত্র মেয়র যার আমলে বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্কয়ার,ভাষাসৈনিক মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক শামসুল হক মুক্ত মন্চ,ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মতিন গন পাঠাগার, রাজৈনিক স্মৃতী সমৃদ্ধ বিপিন পার্ককে পূননির্মান, বীর শ্রেষ্টদের স্মরনে রেলীমোড়ে স্মৃতী সৌধ,বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালিন সময়ের অস্হায়ী রাষ্টপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ভাষাসৈনিক শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্মৃতী বিজরিত ময়মনসিংহের কলেজ রোডের বাসভবনে সৈয়দ নজরুল ইসলামের মূরাল নির্মান এবং আমরা পাকিস্হান আমলে বর্তমান সিটি কর্পোরেশন সংলগ্ন চাররাস্তার মোড় বকুল তলায় যেখানে আমরা অস্হায়ী শহীদ মিনার নির্মান করে ভাষাসৈনিকদের স্মরন করতাম সেই জায়গাটিতে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মান করে তৎকালিন ময়ঃ পৌর সভাকে মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতী বিজরিত শহরে পরিনত করেছিল।ময়মনসিংহের স্বাধীনতা স্বপক্ষের জনগন তাকে এ প্রজন্মের মুক্তি যোদ্ধা বলে অখ্যায়িত করে।তাই আমি আমার সন্পাদিত পত্রিকায় তাকে এ প্রজন্মের মুক্তি যোদ্ধা বলে হেড লাইন করেছিলাম। আজ “জয় বাংলা চত্বর” স্হাপনের মধ্যদিয়ে টিটু মুক্তিযোদ্ধের সপক্ষের এপ্রজন্মের সৈনিক হিসাবে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। মেয়র টিটু যে ভাবনা থেকে “জয় বাংলা চত্বর” নির্মান করেছেন তা সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরছি। ১৯৫২ইং সাল থেকে ১৯৭৫ ইং সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসকে শিল্পের মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে এনেছে “জয় বাংলা চত্বরে” ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র টিটু। *স্হাপনাটি ত্রিভূজ আকৃতির ত্রিস্তর বিশিষ্ট বেদীর উপর ৫টি ফলক।মাঝের ফলকটি সর্বোচ্চ ও দুপাশের ফলকগুলো ক্রমশ ছোট হয়ে গেছে। * ৩০ফুট উচু করে নির্মান করা হয়েছে ৩০ লক্ষ শহীদকে স্মরন করে মাঝের ফলকটি। যার মাঝে সিরামিক টালি দিয়ে জাতীর পিতা বঙ্গ বন্দ্ধু শেখ মুজীবুর রহমানের মূরাল নির্মান করা হয়েছে।* দুপাশের ছোট ফলক দুটিতে ৭ই মার্চের ভাষন,পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসর্মপন,ও প্রতীকি ভাবে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী যা টেরাকোটার মাধ্যমে তূলে ধরা হয়েছে।*কিনারার দুটি ফলকের মধ্য একটিতে “বঙ্গ বন্ধু”র সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক জীবন অপরটিতে তার অবিস্মরনীয় উক্তি গুলি উৎকীর্ন করা হয়েছে। *৯ ফুট উচ্চতার ১৬টি বেদী নির্মান করা হয়েছে ফলকগুলোর সামনে।যার মাধ্যমে ৯ মাসের মুক্তিযোদ্ধ কালিন সময় ও বিজয়ের তারিখ ১৬ ই ডিসেন্বরকে বুঝান হয়েছে।* জয় বাংলা বেদীতে উঠার দুই পাশের দুইটি সিড়ি নির্মান করা হয়ে একটিতে ৬ দফার স্মরনে ৬টি ধাপ, আরেকটি ৭ই মার্চ স্মরনে ৭ টি ধাপে সিড়ি নির্মান করা হয়েছে।* জাতীর পিতার জন্মদিন ১৭ ই মার্চকে স্মরনীয় করে রাখতে মূল বেদীকে ঘিড়ে নীচের দিকে ১৭ টি শাপলা ফুলের প্রতীকৃতি নির্মীত হয়েছে।*জয় বাংলা চত্বরের পিছন দিকে ঘিড়ে আগে থেকে থাকা সাতটি ” বটল পাম” গাছকে সাত জন বীরশ্রেষ্টের স্মরনে অঙ্গীভূত করা হয়েছে। বাম্গালী জাতীর স্বাধীনতা,স্বাধীনতায় আত্মউৎসর্গকারি বীরদের কথা,জাতীর পিতার জীবন ও দেশের মুক্তীর সংগ্রাম, মুক্তিযোদ্ধের ইতিহাসের সাথে চিরস্মরনীয় কিছু দিন ও তারিখকে জয় বাংলা চত্বরে সন্নিবেশ করে আগামী প্রজন্মের কাছে স্মরনীয় করে রাখার এ মহৎ প্রচেষ্টাকে অভিনন্দন জানাই।জয় বাংলা চত্বর নির্মানের মধ্য দিয়ে মেয়র টিটুকে ময়মনসিংহবাসীর “এ প্রজন্মের মুক্তি যোদ্ধা”হিসাবে আখ্যায়িত করা আরেক ধাপ পূর্নতা পেল।

ব্রেকিং নিউজঃ