| |

বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনঃনির্বাচিত

আপডেটঃ 2:05 am | March 07, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ  : বিএনপির চেয়ারপারসন পদে বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ৩ (তিন) বছরের জন্য তারা এই দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগেও দলটির শীর্ষ এই দুই পদে খালেদা-তারেকই ছিলেন।

নির্বাচনের এই ফলাফল দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে পেশ করা হবে।

রোববার বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থাপিত নির্বাচন কমিশনের অস্থায়ী অফিসে ওই দুই পদে একক বৈধ প্রার্থী হওয়ায় তাদের নাম ঘোষণা করেন দলটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত ২ মার্চ মনোনয়নপত্র সংগ্রহের দিন বিএনপির চেয়ারপারসন পদে খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান ছাড়া দলের অন্য কেউ ওই দুই পদের জন্য মনোনয়নপত্র নেয়নি। মনোনায়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য রোবরার (৬ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় নির্ধারিত ছিল। কিন্তু কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে রোববার দলীয় নির্বাচন কমিশন বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন।

ফলাফল ঘোষণা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য যথাক্রমে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান একক বৈধ প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচন কমিশন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যথাক্রমে চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে আগামী ৩ বছরের জন্য নির্বাচিত ঘোষণা করছে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া গণমাধ্যমের সামনে হয়েছে।

এ সময় তার পাশে রিটার্নিং অফিসার দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দলীয় নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও সদস্য দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সাংবাদিকদের সারিতে উপস্থিত ছিলেন- খালেদা জিয়ার নির্বাচনী এজেন্ট দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং তারেক রহমানের নির্বাচনী এজেন্ট যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান।

এদিকে, নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা শেষে বিজয়ী প্রার্থীদের মনোনীত এজেন্টদের কাছে তা হস্তান্তর করে নির্বাচন কমিশন।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদকে সদস্য ও নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার এম আমিনুল হককে সদস্য সচিব করে একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে রিটার্নিং অফিসার এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল মান্নানকে সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয় নির্বাচন কমিশন।

২৯ ফেব্রুয়ারি চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। গত ২ মার্চ চেয়ারপারসন পদে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তার নির্বাচনী এজেন্ট ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র নেন তার নির্বাচনী এজেন্ট ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান।

৪ মার্চ প্রার্থীদের এজেন্টদ্বয় তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এতে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রে প্রস্তুাবক হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং সমর্থক হন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী। অন্যদিকে, তারেক রহমানের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান সমর্থক হন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৫ মার্চ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করা হয়। ৬ মার্চ বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় নির্ধারিত ছিল।

চেয়ারম্যান ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩০ (ত্রিশ) বছর এবং তাকে দলের নিয়মিত চাঁদাদাতা সদস্য হওয়ার শর্ত ছিলো।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নীতিনির্ধারকদের সর্বসম্মত সুপারিশের ভিত্তিতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ‘সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান’ পদে নির্বাচনের বিধান রেখে গঠনতন্ত্রের সংশোধন অনুমোদন করেন। পরবর্তীতে বিএনপির পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে গঠনতন্ত্র সংশোধনের এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়।

১৯৮৪ সাল থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন পদের দায়িত্বে আছেন বেগম খালেদা জিয়া। ২০০৯ সালের ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বিএনপির সর্বশেষ পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলেও তাকেই নেতৃত্বের আসনে রাখা হয়।

এদিকে, কয়েক ডজন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে গত আট বছর ধরে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান সেখান থেকেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওই কাউন্সিলে বক্তৃতা করেছিলেন। ওই কাউন্সিলে ‘সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান’ নামে দলে নতুন একটি পদ সৃষ্টি করা হয়। সেখানে কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমান ওই পদে নির্বাচিত হন। তবে দলের গঠনতন্ত্রে এতদিন ওই পদে ‘সরাসরি’ নির্বাচনের বিধান ছিল না।

উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান পদে আসেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। এরপর ১৯৮৪ সালে খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন মনোনীত হন। সর্বশেষ কাউন্সিলেও তাকে চেয়ারপারসন নির্বাচিত করা হয়।

এদিকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় নয়াপল্টনে দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদেরও মিষ্টিমুখ করানো হয়।

অন্যদিকে খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে আনন্দ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও নগর দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি কফিল উদ্দিন ভুইয়া মিছিলের নেতৃত্ব দেন।

এছাড়া ছাত্রদল মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মিছিলে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাজমুল হাসানসহ দক্ষিণের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেকিং নিউজঃ