| |

ময়মনসিংহের সাম্প্রতিককালের সাহিত্য চর্চা

আপডেটঃ 9:46 am | February 25, 2021

Ad

আবু সাইদ কামাল : বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রটি যে প্রাচীনকাল থেকেই সমৃদ্ধ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে বরাবরই ময়মনসিংহ উর্বরভূমি। এর আছে গৌরব করার মতো ঐতিহ্যবাহী অতীত। আমাদের আলাচনার প্রসঙ্গ ময়মনসিংহের সাম্প্রতিককালে সাহিত্য। সে বিবেচনায় ষাটের দশক প্রসঙ্গক্রমে এসে যায়। যদিও বিষয়টি জটিল এবং সময় ও শ্রম সাপেক্ষ; গবেষণা সাপেক্ষও। সেসব বিবেচনায় না নিয়ে কাজটি শুরু করাই জরুরী মনে করছি। ষাটের দশকে গোটা ময়মনসিংহ শহরে সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার অনুকুল ও সুন্দর একটি পরিবেশ ছিল। সে সময়ে বিশিষ্ট সাহিত্যিক সৈয়দ আব্দুস সুলতান, দরজি আব্দুল ওয়াহাব, তাহের উদ্দিন মল্লিক, গল্পকার নীলুদাস, আশীষ কুমার লোহ, গবেষক গোলাম সামদানী কোরায়েশী, কথাশিল্পী রাহাত খান ও কবি মুশারারাফ করিম, কবি ও আবৃত্তিকার তারিক সালাহ উদ্দীন মাহামুদ, প্রদীপ কুমার বিশ^াস এবং নরেন্দ্র কুমার দত্ত প্রমুখ নিবেদিতপ্রাণ সাহিত্যিকগণ এ শহরে সরব ছিলেন। আনন্দমোহন কলেজে তখন বেশ খ্যাতিমান ক’জন অধ্যাপক ছিলেন। ষাটের দশকের মাঝামাঝি আনন্দমোহন কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন প্রফেসর কবীর চৌধুরী। তখন বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন কবি ও লোকবিজ্ঞানী ড. আশরাফ সিদ্দিকী। এছাড়াও বাংলা বিভাগে শিক্ষকতায় কর্মরত ছিলেন মাহবুবুল আলম, আজিজুল হক চৌধুরী , শামসুল ইসলাম, কাজী রফিকুল হক, শরফ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ। তখন ঐ কলেজের বাংলা বিভাগকে ঘিরে সাহিত্যের পঠন-পাঠন ও চর্চার একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে উঠেছিল। আনন্দমোহন কলেজে বাংলা বিভাগকেন্দ্রিক একটি সাহিত্য সংগঠনও তখন গড়ে উঠেছিল অধ্যাপক রফিক-উল হকের নেতৃত্বে।‘অথচ মিতালী সাহিত্য সংসদ’-নামে এই সংগঠনে বিশেষ সক্রিয় ছিলেন, মোহাম্মদ আবদুল লতিফ, চাঁদ সুলতানা স্বর্ণ, বদিউজ্জামান খান, আবদুল আজিজ, নূরুল ইসলাম ও বর্তমান শক্তিমান কথাসাহিত্যিক ইউসুফ শরীফ প্রমুখ।এ সময়েই শহরের নাসিরাবাদ কলেজের বাংলা বিভাগে অধ্যাপক যতীন সরকার ও খগেশ কিরণ তালুকদার ‘আমরা সমুদ্রমুখী’ নামের সাহিত্য সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। শেখ আব্দুল জলিল ১৯৬২ সালে জামাল পুরের আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে স্নাতক অর্জন করেন। ১৯৬৩-৬৪ সালে তাঁর নিয়মিত আনাগোনা ছিল ময়মনসিংহে। আর তখন থেকেই ময়মনসিংহের সাহিত্যকর্মী,সাংবাদিক ও অন্যান্য কবি বন্ধুদের সাথে তাঁর পরিচয় হতে থাকে। ১৯৬৫ সালে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব বার্ষিকীতে প্রকাশের জন্য একটি কবিতা জমাদেন। অধ্যাপক রাহাত খান তখন কবিতাটি মনোনীত করে প্রকাশ করেন। সাহিত্যের ছোট কাগজ ‘পাদদেশ’ এ তাঁর দেয়া সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, ময়মনসিংহে তখন অনেকগুলো সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক এবং ক্রীড়া সংগঠন ছিল। ভালো প্রেস ছিল। মাসিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকাও প্রকাশ হতো নিয়মিত। তখন থেকেই তিনি ময়মনসিংহকে প্রাণের শহর বলে মনে করতেন। আর সে সময় থেকেই ময়মনসিংহের শুক্রবাশরীয় এবং দিশারি সাহিত্য সভায় অংশ গ্রহণ করতেন শেখ আব্দুল জলিল।দুইছোট বাজারের বাংলাদেশ পরিষদে সাহিত্য চর্চা:এ শহরে সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে সরকারি পাবলিক লাইব্রেরির তথা বাংলাদেশ পরিষদের বিষয়টি প্রসঙ্গক্রমেই আসে। বর্তমানে এটি টাউনহল মোড় সংলগ্ন হলেও ক’বছর আগেও ছিল শহরের ছোটবাজার এলাকায়। পাকিস্তান আমলে এটির নাম ছিল ‘পাকিস্তান কাউন্সিল’। ছোট বাজারে দোতলা একটি বাড়িতে ছিল এর অবস্থান। বাড়িটির দোতলার একপাশে ছিল সুবিশাল গ্রন্থাগার আর অন্যপাশে ছিল সেমিনার কক্ষ। সেমিনার ক্েক্ষর একদিকে ছিল সারি সারি চেয়ার। তার সামনে কাঠের পাটতন বিশিষ্ট মঞ্চ। দেশ স্বাধীন হলে এর নমাকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ পরিষদ’। স্বাধীনতার পর প্রায় প্রতিদিনই এ মঞ্চে বিভিন্ন সেমিনার, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান লেগেই থাকতো।এ মঞ্চে হাসান হাফিজুর রহমান, সৈয়দ শামসুল হক, শামসুর রাহমান, রাহাত খান, শহীদ আখন্দ, আব্দুল্লাহ আবু সায়িদ, হেলাল হাফিজ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মমতাজ উদ্দীন আহমদ, গোলাম মোস্তফা, রফিক আজাদ, মাহবুব তালুকদার, মাহবুব সাদিক, সাযযাদ কাদির, যতীন সরকার, নির্মলেন্দু গুণ, গোলাম সামদানী কোরায়শী, আমজাদ হোসেন, মোহাম্মদ রফিক, সেলিম আল দীন, আল মুজাহিদী, আবু কায়সার, মাহবুব আনাম, শামসুজ্জামান খান, শফি উদ্দিন আহমেদ, শামসুল আরেফিন, ফকরুজ্জামান চৌধুরী, দিলারা জামান, আনু মুহম্মদ, মুন্তাাসির মামুন, রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ,মাহবুব হাসান, আবিদ আজাদ, সৈয়দ লুৎফুল হক, অলকেশ ঘোষ, আবিদ আনোয়ার, মুশারাফ করিমসহ আরও অনেকে বক্তব্য রেখেছেন।তখন এই মঞ্চটিকে ঘিরে সুন্দর একটি সাংস্কৃতিক আবহ গড়ে উঠেছিল। সৃষ্টি হয়েছিল সাংগঠনিক তৎপরতাও।তিনতাজমহল রেস্টোরেন্ট ও পটলার স্টলে সাহিত্য আড্ডা:বলা যায় ষাটের দশক থেকে ময়মনসিংহ স্টেশনরোড মোড়ে তাজমহল রেস্টোরেন্টে ময়মনসিংহের সুধী মহল বিশেষত: সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের লোকদের আড্ডা হতো। তখন ময়মনসিংহের সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠে তাজমহল। সে সময়ে তাজমহলে যারা আড্ডা দিতেন তাদের অনেকে জাতীয় পর্যায়ে ভালো ভালো অবস্থানে রয়েছেন। নব্বইয়ের দশকের শেষাবধি পর্যন্ত আড্ডাটি ছিল। ষাদের দশকে সে আড্ডায় আসতেন গল্পকার নীলুদাস, কবি আশুতোষ পাল, কাজলেশ সরকার, তাহের উদ্দিন মল্লিক, কবি মুশাররাফ করিম উপন্যাসিক শামসুল হুদা প্রমুখ। সত্তর দশকের গোড়া থেকে কবি মুশারাফ করিম, কবি শামসুল ফয়েজ, কবি নুরুল ইসলাম মানিক, উপন্যাসিক আহমেদ ফকরুদ্দিন, শোয়েব সিদ্দিকী, রইস মনরম, প্রমুখের উপস্থিতিতে সাহিত্যের এ আড্ডা আরও প্রাণবন্ত ও গতিশিীল হয়ে ওঠে। আড্ডাটি এক পর্যায়ে এতটাই জমে উঠে যে, ময়মনসিংহের কবি-সাহিত্যিকগণ যারা ঢাকায় অবস্থান করতেন তারাও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তাদের অনেকে এ আড্ডায় অংশ নিতেন। আড্ডায় কখনো আসতেন কবি নির্মলেন্দু গুন, গল্পকার আতা সরকার, গল্পকার হুমায়ুন মালিক, কবি সোহরাব পাশা, আজহারুল ইসলাম হিরু, নিয়মিত আসতেন কবি আশরাফ মীর, কবি আওলাদ হোসেন, তসলিমা নাসরিন, কবি সেলিম মাহমুদ, কথাসাহিত্যিক নাসরিন জাহান, গল্পকার সালিম হাসান, গল্পকার ও ছড়াকার সালাইদ্দিন পাঠান, কবি গাউসুর রহমান, কবি শাহজাহান সিরাজী, ছড়াকার প্রনব চৌধুরী, ছড়াকার সরকার জসিম, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আতাউল করিম, ছড়াকার এস কে অপু, ছড়াকার স্বপন ধর, ডা: সজল আশফাক, আনজীর লিটন, কবি শাহীদ আল মামুন, কবি মাহমুদ আল মামুন,কবি সরকার আজিজ, নাজমা মমতাজ, গল্পকার সাদ কামালী, কবি আমিনুর রশিদ পিন্টু, কবি আসাদ উল্লাহ, কবি সৈয়দ সারোয়ার কবি তোফায়েল তফাজ্জল, কবি আব্দুল আউয়াল চৌধুরী প্রমুখ।এছাড়াও কোনো সাহিত্যানুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করার ময়মনসিংহে এলেও তাজমহলের সাহিত্য আড্ডায় এক বা একাধিকবার অংশ গ্রহণ করেছেন কবি শামসুর রাহমান, কবি সৈয়দ শাসুল হক, কবি রফিক আজাদ, কবি আসাদ চৌধুরী, কবি খোন্দকার আশরাফ হোসেন। এছাড়াও তখন আড্ডা হতো বিপিন পার্ক সংলগ্ন কেষ্টদার স্টলে। নব্বইয়ের দশকের গোড়া থেকে সাহিত্যের আড্ডায় সরব ছিলেন আবু সাইদ কামাল। এ দশকের একেবারে শেষের দিকে এসে তাজমহল রেস্টোরেন্ট তার আদল পরিবর্তন করে গেষ্ট হাউসে রূপান্তরিত হয়ে গেলে সাহিত্যের আড্ডাটিও আর সেখানে থাকেনি। সে আড্ডাটি স্থান বদল করে হতে থাকে গাঙ্গিনার পাড় পটলার স্টলে। সে আড্ডায় নিয়মিত অংশ নিতেন কবি শাসুল ফয়েজ, কবি গাউসুর রহমান, কথাশিল্পী মোহাম্মদ আজাদ,সৈয়দ সারোয়ার, কবি শহীদ আল মামুন, কবি রফিক সিদ্দিকী, কবি কামরুল আলম সিদ্দিকী, কবি আসাদ উল্লাহ, কবি মাহমুদ আল মামুন প্রমুখ। গাঙ্গিনার ট্রাফিক মোড় সংলগ্ন ‘চুন্নু মিয়া’র স্টলেও কখনো কখনো অনুরূপ আড্ডা বসতো। উল্লেখ্য যে, তাজমহল রেস্টোরেন্ট, পটলার স্টল কিংবা চুন্নুু মিয়ার স্টলের আড্ডা মূলত জমে উঠত জাতীয় পত্রিকার সাহিত্য পাতায় যাদের লেখা প্রকাশ হতো, তাদের ঘিরেই। কারণ, কার লেখা কোন কাগজে প্রকাশ হলো-এসব আলোচনাই হতো বেশি। কাজেই এসব কবি-সাহিত্যকগণ যে জাতীয় মূলধারার তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ক’জন তরুণ কবি সম্ভাবনার স্বাক্ষর রাখেন। তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো অতনু তিয়াস, মোস্তফা তারেক, কবি এহসান হাবিব, ষড়ৈশ^র্য মোহাম্মদ।চার বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনের কার্যক্রমঃশুক্রবাসরীয় সাহিত্য পরিষদ: ১৯৫৬ থেকে এ সংগঠনটি সক্রিয় হয়। এটি একটি ঘরোয়া সাহিত্য সংগঠন। সদস্যগণের বাড়িতে বাড়িতে পালাক্রমে বিভিন্ন সময়ে সংসদের সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত হত। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন খান সাহেব আব্দুল্লাহ।উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী: ময়মনসিংহ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী একটি শাখা সংগঠন। এটির কেন্দ্রীয় অফিস ঢাকায়। এর উদ্দেশ্য সঙ্গীত, নাটক, সাহিত্য রচনা, ও অন্যান্য শিল্পকর্মের মাধ্যেমে জনগণকে প্রাজ্হ করে তোলা। এ সংগঠন সাধারণ কর্মজীবী মানুষকেও কর্মে উদ্বুদ্ধ করে। ১৯৭৩ সালে মিথুন দে কে আহবায়ক ও আলোকময় নাহাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ময়মনসিংহ শাখা গঠিত হয়। পরে ওস্তাদ মিথুন দেকে সভাপতি ও আলোকময় নাহাকে সাধারণ সম্পাদক করে এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। সেই থেকে সংগঠনটির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।ময়মনসিংহ ছড়া সংসদ: ময়মনসিংহ ছড়া সংসদ গঠিত হয় ১৯৭৭ সালে। ছড়াকার সরকার জসীমসহ আরও ক’জন ছড়াকারের উদ্যোগে গঠিত হয় ময়মনষিংহ ছড়া সংসদ।সাহিত্য সংসদঃ আশির দশকের গোড়ায় মুশারাফ করিম এবং মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল এর নেতৃত্বে ময়মনসিংহে একটি বর্ণাঢ্য সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর কিছুদিন পরই আনন্দ মোহন কলেজের বাংলার অধ্যাপক শফি উদ্দীন আহমেদ শহরের সাহিত্যিকগণকে নিয়ে নিজ বাসভবনে বৈঠকে বসেন। তাঁর বাসায় চামৎকার আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করা হয়। শহরের সব ক’টি কলেজের বাংলার শিক্ষকগণ সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এর বাইরে শহরের স্বনামধন্য সাহিত্যিকগণের মাঝে কেবল মুশাররাফ করিম এবং আহমেদ সাইফকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকে আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ময়মনসিংহ সাহিত্য পরিষদ নামে একটি সংগঠন দাঁড় করানো হবে। বৈঠকে উপস্থিত কারো কারো ওপর গঠনতন্ত্র প্রণয়নের দাযিত্বও দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষকগণের বাইরে শহরের সিনিয়র সাহিত্যিকগণের মাঝে অন্য কাউকে না ডেকে কেবল দু’জনকে আমান্ত্রণ জানানো হয় বলে কবি মুশাররাফ করিম ক্ষুব্ধ হয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। অত:পর সেদিনই সন্ধ্যায় কবি মুশাররাফ করিম তাঁর সেহরার ‘বনানী’ নামের বাসভবনে বয়োজ্যেষ্ঠ সাহিত্যিকগণের একটি বৈঠক আহ্বান করেন। এই বৈঠকেই ‘ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ’ গঠন করা হয়। আর সেদিন থেকেই পুর্ণোদ্যমে ব্যাপক কাজ শুরু করা হয়। ২১ মে, ১৯৮০ খ্রি: নিচের সদস্যগণকে নিয়ে ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ(১৯৮০-৮৩) গঠিত হয়:১। কবি মুশারাফ করিম-প্রতষ্ঠিাতা সভাপতি ২। ছড়াকার আতাউল করিম-সাধারণ সম্পাদকএ এবং অন্যনান্য সদস্যগণ যথাক্রমে-৩। আহমদ সাইফ ৪। শাসুল ফয়েজ ৫। কবি নুরুল ইসলাম মানিক কবি ৬। আশরাফ মীর ৭। সালিম হাসান ৮। মামুন মাহফুজ ৯। আহমেদ ফকর উদ্দীন ১০। জেবুন্নেছা রিনা ১১‘। মরিয়ম বেগম ১২। এস কে অপু ১০। আশরাফ মীর প্রমুখ। কবি মুশাররাফ করিমের দীর্ঘদিন সফলভাবে সংগঠনটির নেতৃত্ব দেন। ঢাকা থেকে গুণি কবি-সাহিত্যিকগণকে এনে বেশ ক’টি সফল এবং সার্থক সাহিত্য সম্মেলনও করেছেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৩ খ্রি: সাল পর্যন্ত কবি মুশাররাফ করিম এর বাসভবন ‘বনানী’তেই চলে এর কার্যক্রম। ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সাপ্তাহিক পাঠের আসর ‘বীক্ষণ’ এর কার্যক্রম শুরু হয় ৮ সেপ্টেম্বর,১৯৮৩ খ্রি: থেকে। উল্লেখ্য যে, কবি শামসুল ফয়েজ সাপ্তাহিক পাঠের আসরের নাম করণ করেন ‘বীক্ষণ’।ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের টিনশেড ঘরে চলত তখন সাপ্তাহিক সাহিত্য সংসদের কার্যক্রম।এ ছাড়াও বীক্ষণ আসর বিভিন্ন সময়ে বসেছে সিটি কলেজিয়েট স্কুলে, টাউনহল চত্বরে, ডলফিন কমপ্লেক্স, মুসলিম ইনস্টিটিউট মিলনায়তন ও এএম কলেজ প্রাঙ্গনে।মুশাররাফ করিমের পর এর সভাপতিত্বের দায়িত্বে আসেন আহমেদ সাইফ। তিনি মাত্র একটি পর্বকালই এ দায়িত্বে ছিলেন।১৯৯৪ সালে এটি স্থানান্তরিত হয় জয়নুল পার্কে। সেখানে একটি আধাপাকা চালাঘর তুলে চলতে থাকে ‘ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ’র নিয়মিত কর্মসূচী। চলতে থাকে সপ্তাহিক স্বরচিত পাঠের আসরও বীক্ষণও। সেখানে তখনও যতীন সরকারসহ ময়মনসিংহে অবস্থানকারী সাহিত্যামোদীদের যাতায়াত ছিল। এ সংগঠনিটও এক পর্যায়ে মর্যাদার জায়াগায় অবস্থান নেয়। কারণ, জাতীয় ও স্থানীয়মানের সব লেখকের একটি মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়। বেশ কিছু বড় বড় অনুষ্ঠান হয় এ সংগঠনটির ব্যানারে। এ সংগঠনে নব্বইয়ের দশকেও সরব ছিলেন ছড়াকার স্বপন ধর, কবি মুজিব মেহেদী, কবি আশরাফ রোকন, কবি হাদিউল ইসলাম, কবি মুঈন হুদা, ছড়াকার চায়ন বিকাশ ভদ্র, কবি ও ছড়াকার আলী ইউসুফ, কবি স্বাধীন চৌধুরীসহ অনেকেই। বলা হয়, কিছু মহৎ সাহিত্যামোদীর নিষ্ঠাবান চেষ্টায় সাহিত্য সংগঠন গড়ে উঠলেও এক সময় সেগুলো সমাজ শক্তির দখলে চলে যায়। এক পর্যায়ে ‘ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ’ কিছু অলেখকের হাতে হলে যায়। তখন সংগঠনটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক কেউ তখন জাতীয় পত্রিকায় সরব বা নীরবে লিখতেন না। এক পর্যায়ে সংগঠনটিতে তাদের নিজস্ব একটি সাহিত্য গোষ্ঠী গড়ে উঠে। ফলে জাতীয় পত্র-পত্রিকায় যারা লিখতেন, তারা আস্তে আস্তে বিচ্ছন্ন হতে থাকে। আর এমন বিচ্ছিন্নতার কারণে সংগঠনিটির সার্বজনীন পরিবেশটি আর থাকেনি। সংগঠনের পদবী ব্যবহার করে কেউ কেউ জাতীয় পর্যায়ের কোনো কোনো লেখকের এমন আনুগত্য লাভ করে যে, জাতীয় পর্যায়ে না লিখেও আড়্ইা দশক আগের শক্তিমান লেখক বনে যান। আমরা জানি, সাধনার জগতে কোনো রকম চালাকি কিংবা শঠতা বা মিথ্যাচারের স্থান নেই। কিন্ত তাই বলে খল লায়কদের হীনকর্ম-প্রয়াসও কিন্তু থেমে থাকেনা।এতকিছুর পরও ‘ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ’ একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন যাবৎ সক্রিয় থেকে নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সময়ের প্রয়োজনেই হয়তো বা সেটি আরও গতিশীল হবে।মুক্ত বাতায়ন পাঠচক্র: ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠার পর গঠিত হয় ‘মুক্ত বতায়ন পাঠচক্র’। এটি উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রিক বাম চেতনার সাংস্কৃতিক কর্মীদের একটি সংগঠন। এটি পরিচালনায় বিভিন্ন সময়ে ভূমিকা রেখেছেন মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী, যতীন সরকার, আবদুস সোবহান, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ডা: প্রদীপ কর, ইকবাল হোসেন সবুজ, জুপিটার প্রমুখও। কয়েক বছর পর এটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।লৌহিত্য সাহিত্য গোষ্ঠী(১৯৮৭)ঃ লৌহিত্য সাহিত্য গোষ্ঠী নামে একটি সাহিত্য সংগঠন ১৯৮৭ সালে ময়মনসিংহ শহরের ভাটিকাশর(গোরস্থান সংলগ্ন) সৈয়দ নাজমুদ্দিন হুসেইনের ভাসভবনে গঠিত হয়। সব শেষে সৈয়দ নাজমুদ্দিন হুসেইন ও হারুন অর রশিদ যথাক্রমে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এটাও ছিল একটি ঘরোয়া সাহিত্য সংগঠন। সদস্যগণের বাসায় বাসায় পালাক্রমে সাহিত্য্য সভা অনুষ্ঠিত হতো। সংগঠনটির মুখপত্রের নামও ছিল লৌহিত্য। এটি বছরে একবার অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত হত। উল্লেখ্য, এ সাহিত্যগোষ্ঠীর প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন-সত্যরঞ্জন আইচ,অন্যান্য সদস্যগণ যথাক্রমে-খন্দকার সফিকুল ইসলাম, তাহের উদ্দীন মল্লিক, আশোতোষ পাল, মাহবুবুল আলম, মো: বসীর উদ্দীন, প্রদীপ কুমার বিশ^াস, আহমদ সাইফ, আলম মাহবুব, প্রনব চোধুরী, স্বপন ধর প্রমুখ।জাতীয় কবিতা পরিষদ, ময়মনসিংহ শাখা: ১৯৮৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় গঠিত হয় জাতযি কবিতা পরিষদ। কবি শামসুল ফয়েজকে সভাপতি ও কবি গাউসুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৯৯০ সালে ময়মনসিংহে গঠিত হয় ৩১ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয কবিতা পরিষদ, ময়মনসিংহ শাখা।শুরু থেকে কবি শামসুল ফয়েজের নেতৃত্বে ১৭টি ঢাকার কবিতা উৎসবে মযমনসিংহের কবিরা অংশ গ্রহণ করে। কার্য নির্বাহী পরিষদের অন্য সদস্যরা হলেন, প্রদীপ কুমার বিশ^াস, মীর মো: রেজাউল করিম, জুলফিকার রফিক রঞ্জু, নূরুল আলম, মাহমুদ আল মামুন, আশিক চৌধুরী, দেবল দাস, মশিউর রহমান, সোহরাব পাশা, সৈয়দ নাজমুদ্দিন হুসেইন, নজরুল হায়াত, আজহার সরকার, আমজাদ দোলন, সাব্বির রেজা, ম, আবুবকর সিদ্দিক, আণোয়ারা সুলতানা আনু, শফিকুর রহমান চৌধুরী, পলাশ চৌধুরী, সাইফুল এহসান জহির, তোফায়েল তফাজ্জল, মির্জা হেরার বেগ, আনিছুর রহমান ও স্বপন সরকার নেপাল প্রমুখ।জলদ সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ: নব্বইয়ের দশকের সরব সংগঠনগুলোর মধ্যে জলদ সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদও সক্রিয়ভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। জলদের জন্ম যদিও আনন্দমোহন কলেজের বাংলা সেমিনারে কয়েকজন তরুণ সাহিত্যকর্মীর উদ্যোগে। পরে স্বপন ধরের নেতৃত্বে এটির কার্যক্রম চলে মহাকখালী স্কুলে। প্রতি শুক্রবার বিকেলে বসত এ সংগঠনের আসর। সংগঠনের মুখপত্রের নাম চিল ‘জলদ’। এটির পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশ হয়েছিল। বেশ আগেই এটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট: ১৯৮৭ সালে ঢাকায় গঠিত হয় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। ঐ বছরই ১লা বোশেখে গোলাম সামদানী কোরায়শীকে াাহ্বায়ক করে ময়মনসিংহে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের জেলাশাখা গঠিত হয়। সংগঠনটি কার্যক্রম প্রথমে শহরের অন্য স্থানে চলে। কিছুদিন পর এটির কার্যক্রম চলে মুকুল নিকেতন স্কুলে। গোলাম সামদানী কোরায়েশীর মৃত্যুর পর এর আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন আমীর আহামদ চৌধুরী রতন।শিকড় সাহিত্য মাহফিল: ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এ সংগঠনটি। যে সব যুবকের উদ্যোগে এটি গঠিত তার হলেন, লাবীব আব্দুল্লাহ, আমীর ইবনে আহমদ ও মাহমুদুল হাসান জুনাইদ। সাহিত্যের সাপ্তাহিক, পাক্ষিক বৈঠক বসে। শিকড় নামে একটি সাহিত্যের ছোট কগজও কিছুদিন প্রকাশিত হয়েছে। শিকড়ের সাহিত্যকর্মীদের সাথী বলা হয়।দেশজুড়ে সাথী রয়েছে। শিকড় ময়মনসিংহকেন্দ্রিক হলেও কাজ অন্যান্য জেলাতেও আছে। শিকড়ের ফেসবুক পেইজ রয়েছে। শিকড় সাহিত্য মাহফিলের শিকড় গ্রন্থাগার রয়েছে যা উন্মুক্ত। সাথীদের দান অনুদানে বই ক্রয় করা হয়। নির্বাচিত বইয়ের সমাহার শিকড় গ্রন্থাগারে। রাইটাস ক্লাব, ময়মনসিংহ শাখাঃ কবি শাসুল ফয়েজকে সভাপতি এবং এ নিবন্ধকারকে সাধারণ সম্পাদক করে রাইটারস ক্লাব, ময়মনসিংহ শাখা গঠিত হয়। ময়মনসিংহ রাইটার্স ক্লাবের উদ্যোগে নববইয়ের দশকের শেষের দিকে এ নিবন্ধকার ও কবি মোস্তফা তারেকের উদ্যোগে কবি শামসুল ফয়েজের জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এ নিবন্ধকার। উল্লেখ্য ময়মনসিংহে সাহিত্য সংসদের বাইরে কবি শামসুল ফয়েজের এ জন্মদিন উদযাপনের এ অনুষ্ঠান ঘিরে ময়মনসিংহ শহরের সাহিত্যাঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে ফরিদ আহমেদ দুলাল ওকবি মাহমুদ আল মামুনসহ সংসদের বেশ ক’জন তরুণ কর্মীকে নিয়ে বেশ বিরোধিতা করেন। ওদের প্রবল বিরোধিতার মাঝেও সফলভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পরের শুক্রবারই ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের বীক্ষণে কবি শামসুল ফয়েজের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা হয়। সেখানে আলেচক হিসাবে এ নিবন্ধারকেও রাখা হয়। বীক্ষণের সে আসরে উপস্থিত ছিলেন যতীন সরকার। তিনি কবি শামসুল ফয়েজের অনুষ্ঠান সম্পর্কে দম্ভেও সাথে বলেন, ময়মনসিংহ শহরে কবি শামসুল ফয়েজের জন্মদিনের অনুষ্ঠান হয়, অথচ আমি জানি না। উল্লেখ্য যে, তখন ময়মনসিংহ শহরেই অবস্থান করতেন এবং তিনিও ছিলেন শামসুল ফয়েজের জন্মোৎসব অনুষ্ঠানের বিরোধীদের সাথে।ময়মনসিংহ লেখক কল্যাণ সমিতি ঃ ২০০৩ সনের ১০জুন ‘ময়মনসিংহ লেখক কল্যাণ সমিতি ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে উঠে। কবি আসাদ উল্লাহ সেটির সাধারণ সম্পাদক নিয়োজিত হন। এ নিবন্ধকার ছিলেন সভাপতি। এর সাপ্তাহিক কার্যক্রম চলত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজে। এ সংগঠনটি বেশ ক’টি সফল সাহিত্যানুষ্ঠান করে। ১৮ সেপ্টেম্বর,২০০৩ এই সমিতির উদ্যোগে শহরের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজে ষাট দশকের অন্যতম কবি শাহজাহান হাফিজের ৬১তম জন্মবার্ষিকী পালন করে। সমিতির মুখপত্র হিসাবে ফ্রেবুয়ারি, ২০০৫ এ কবি মোস্তফা তারেকের সম্পাদনায় প্রকাশ করা হয় ‘ভাঁটফুল’ নামে একটি সাহিত্য সংকলন।হাল আমলে জাতীয় পর্যায়ের সরব কবি কামরুল আলম সিদ্দিকীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বউচোরা নাও’ লেখক কল্যাণ সমিতি, ময়মনসিংহ’র উদ্যোগেই প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটির ঝাঁকঝমকপূর্ণ প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কবি আল মাহমুদ। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এ নিবন্ধকার।পাদদেশে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, ময়মনসিংহঃ ২০০৮ থেকে ‘ছোটদের সাহিত্য’ ও ২০১০ সাল থেকে ‘পাদদেশ’ নামে দুটি লিটলম্যাগ নিয়মিত প্রকাশ হতে থাকে। ‘পাদদেশ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ময়মনসিংহ’ নামের সংগঠনটি ২০১০ সাল থেকে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠে। এ সংগঠনটি ১০১০ সাল থেকেই ‘পাদদেশ’ ও ‘ছোটদের সাহিত্য’ নামে দুটি লিটলম্যাগ নিয়মিত প্রকাশের দায়িত্ব নেয়। এ দুটি লিটলম্যাগ ঘিরে একটি সাহিত্য বলয় ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে। এ দু’টি কাগজে যারা নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন তাঁরা হলেন, ছড়াকার এসকে অপু, ছড়াকার শহীদ আল মামুন, ছড়াকার ও গল্পকার রফিক সিদ্দিকী, ছড়াকার চয়ন বিকাশ ভদ্র, কবি ও কথা সাহিত্যিক মুঈন হুদা, কবি ও কথাশিল্পী জসীম উদ্দীন মুহম্মদ, সেখ সুজন আলী, গেট্টুড রেমা, প্রদীপ কুমার চৌধুরী, সেকেন্দ্র ¯œাল প্রমুখ।ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাহিত্য পরিষদ ,ময়মনসিংহ: বিগত ১৮. ০৪. ২০১৬ তারিখে তরুণ সাহিত্যকর্মী রিয়েল আব্দুল্লাহ এবং কাঙাল শাহীনের নেতৃত্বে গঠিত হয় ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাহিত্য পরিষদ। বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতি কাব্য সুমী সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন।যদিও তরুণরা নানা ক্ষেত্রে প্রাণশক্তির ভূমিকা গ্রহণ করে, কিন্তু ময়মনসিংহ নতুন বিভাগ হওয়ার সাথে সাথে এসব তরুণরা সম্ভবত ভেবেছিল, বিভাগীয় নাম দিয়ে সংগঠন দাঁড় করালেই সাহিত্যক্ষেত্রে সাড়া পড়ে যাবে। কিন্তু সাহিত্য তো মেধা এবং সাধনা দুটিরই প্রয়োজন। যদিও সংগঠনটিতে বর্তমানে মূলধারার কোনো লেখক সাহিত্যিকের অনুপস্থিতি। যদিও ফেইসবুকের কল্যাণে সারাদেশে ব্যাঙের ছাতার মতো নানা নামে সাহিত্য সংগঠন গড়ে উঠছে। অবশ্য একথাও সমভাবে প্রযোজ্য যে, সাহিত্য পিপাসু এসব তরুণ-তরুণীদের যথাযথ স্থান ময়মনসিংহের কোনো সাহিত্য সংগঠন দিতে পারেনি। এ সংগঠনের কর্মীদের মেধা এবং সাধনা দিয়েই সাহিত্যক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে। যাদের নিয়ে প্রথম নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়, সেটি নি¤œরূপ:কার্যকরী কমিটি অন্যান্য সদস্যরা হলেন,খালেদ হোসেন, জাফর সাদেক, সুমী সরকার, রওশন আরা খান, শরীফ মল্লিক, সাদাফ আমিন, রাশেদ আহম্মেদ নিসর্গ, নাছিমা আক্তার, আবুল বাশার শেখ, সফিউল্লাহ আনসারী, মোজাম্মেল হক, আকতারুজ্জামান, বিপুল মেহেদী, জুলহাস উদ্দিন, নাজনীন লাকী, এস এম মাসুদ রানা, মোঃ রফিকুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, ফাহিম ফারুক প্রমুখ।তথ্যসূত্রঃ ১। ময়মনসিংহ অঞ্চলের ঐতিহাসিক নিদর্শণ-দরজি আব্দুল ওয়াহাব।২। ‘পাদদেশ’ এ প্রকাশিত বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান প্রাবন্ধিক মরহুম সেখ আবদুল জলিল’র সাক্ষাৎকার।৩। ‘পাদদেশ’ এ প্রকাশিত শক্তিমান কথাসাহিত্যিক ইউসুফ শরীফের সাক্ষাৎকার।৪। ‘ছোটদের সাহিত্য’ এ দেয়া কবি ও শিশু সাহিত্যিক মুশাররাফ করিম এর সাক্ষাৎকার।৫। নিবন্ধকার কর্তৃক বিভিন্ন নবীন-প্রবীণ কবি সাহিত্যিগণের সাথে মত বিনিময়ে প্রাপ্ত তথ্য।( এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমানে যারা লেখালেখি করছেন, তাদের সবার নাম হয়তো বা অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে কাজ চলছে। তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সবার নামই অন্তর্ভুক্ত করা হবে।)

ব্রেকিং নিউজঃ