| |

মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ এমদাদুলের শেষ ইচ্ছা মৃত্যুর আগে শেখ হাসিনার মাথায় হাত বুলিয়ে আশির্বাদ টুকু দিতে চাই

আপডেটঃ 2:52 am | March 10, 2016

Ad

মোঃ মেরাজ উদ্দিন বাপ্পি : বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক ও একজন মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর আগে শেখ হাসিনার পিতা হয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে অসুস্থ্য মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ এমদাদুল হক তাঁর জীবনের শেষ চাওয়া পাওয়ার কথা বলতে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি সহ পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।
বার বার তিনি বলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মৃত্যুর আগে শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থাকায় তাঁর পিতার আশির্বাদ পাননি। তাঁর পিতার আদর্শের সৈনিক ও একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে মৃত্যুর আগে তাঁর পিতার হয়ে আমি শেখ হাসিনার মাথায় হাত বুলিয়ে সেই আশির্বাদ টুকু দিতে চাই। হাসপাতালের বেডে শুয়ে অসুস্থ্য মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ এমদাদুল হক তাঁর জীবনের শেষ চাওয়া পাওয়ার কথা বলতে গিয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে এ কথাই বলেন।
শেরপুর জেলার সেরেনিয়া বাড়ীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ এমদাদুল হক (৯২) মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে শেরপুরের বাড়াইকান্দি, ছত্রকোণা, বারোমাইসা, বনগজাইরা, মরিচপুরা এলাকায় পাকসেনাদের সাথে একাধিক যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি শেরপুর পৌরসভায় রিলিফ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনসহ টানা ৩৫ বছর আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।
৫ ছেলে দুই মেয়ে সন্তানের জনক, ৫ নাতি-নাতনী সহ স্ত্রীকে নিয়ে মাত্র ৮ শতক জমিতে কোন রকমে গাঁদাগাদি করে বসবাস করেন। সহায় সম্বলহারা এ মুক্তিযোদ্ধার এ ছাড়া কবরস্থানের জন্য মাত্র তিন শতক জমি রয়েছে নিজ বাড়ী লাগোয়া। ৫ ছেলের মধ্যে তিন ছেলে ইলেক্ট্রিকের কাজ করে। এক ছেলে সামান্য কাঠের ব্যবসা এবং অপর ছেলে এসএসসি পাস করে বেকার। এক মেয়ে বিএ পাশ করার পর চাকুরীর জন্য শেরপুরের আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, এমপি মন্ত্রীদের কাছে গেলেও কেউ তাকে পাত্তা দেননি। দুই মেয়েই বিয়ে দিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার পরও কারো সহযোগীতা না পাওয়া তিনি আজৌ তালিকাভুক্তি হতে পারেননি। তবে ক্ষুদ্র পর্যায়ের নেতাদের সকলেই তাকে সহানুভোতির সাথে দেখেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলার্জি, গ্যাস ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত। ডাক্তারদের অনেকেই তাঁর অসহায়ত্বের কারণে চিকিৎসায় সহযোগীতা করেননি।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র ময়মনসিংহের ডাক্তার হেফজুল বারী খান (মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি)। তিনিই তাকে গত এক বছর ধরে বিনা পয়সা চিকিৎসার পাশাপাশি যতসামান্য আর্থিক সহযোগীতা করে আসছেন। ডাঃ হেফজুল বারী খানের মত প্রতি উপজেলা কমপক্ষে ৫/৭জন ডাক্তারও যদি থাকতেন তাহলে দেশ আরো অনেক এগিয়ে যেত। স্বাস্থ্যখাত সত্যিকারে একটি সেবাখাতে পরিণত হতো। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর চাওয়া বাংলাদেশ সোনার বাংলায় পরিণত হতো।
তিনি বলেন, গত কয়েক দিন আগে তাঁর এলার্জি, গ্যাস ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে মারাত্বকভাবে আক্রান্ত হলে ডাক্তার হেফজুল বারী খানের পরামর্শে কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার সি এন সরকার চন্দনের চিকিৎসা নেন। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে গত ৬/৩/১৬ তারিখে তাকে কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৩নং ওয়ার্ডের ভর্তি করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ এমদাদুল হক হাসপাতালের ১৪নং বেডে ডাক্তার সি এন সরকার চন্দনের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন এ মুক্তিযোদ্ধার খবর নিতে হাসপাতালে সাংবাদিকরা ছুটে গেলে তাঁর স্ত্রী ও ছোট ছেলে সৈয়দ মহিবুল হক মানিককে পাশে নিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য রোগের পাশাপাশি শ্বাস কষ্টরোগ বা হাঁপানী রোগে তিনি মারাত্বকভাবে আক্রান্ত। শীতের দিনে বেশী সমস্যা হয়। গরম আসছে এবং চিকিৎসা চলছে তাই তিনি আগের চেয়ে অনকটা সুস্থ্যতা বোধ করছেন। তবে তিনি চলতে পারেন না। লাঠি ভর দিয়ে শুধুমাত্র একটু দাঁড়াতে বা দুএক পা চলতে পারেন।
তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে চিনেন। বাবা মরা এ মেয়েটাসহ (শেখ হাসিনা) তাঁরা দুই বোন উভয়েই দেশের বাইরে ছিলেন। তাঁর পিতা (জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) মৃত্যুর পর তাঁরা দেশে এসেছেন। তাই শেখ হাসিনা তাঁর পিতার শেষ আশির্বাদ পাননি। শেখ হাসিনাকে তাঁর পিতার কাছ থেকে না পাওয়া আশির্বাদটুকু একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মৃত্যুর আগে শেখ হাসিনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে তাঁর পিতার আশির্বাদটুকু পূর্ণ করে দিয়ে মরতে চান।
এ মুক্তিযোদ্ধার স্বাস্থ্যগত সমস্যা সম্পর্কে হাসপাতালের সহকারী রেজিষ্টার আল নুর হাসান মুর্শেদ জানান, তাঁর (মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ এমদাদুল হকের) ৫০ বছর আগে যক্ষারোগ ছিল। বর্তমানে তিনি এলার্জি, গ্যাস জনিত রোগ ছাড়াও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত। বর্তমানে ইনহেলার ও এন্টিবায়েটিক ওষধ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অবস্থা আগের চেয়ে অনেকটা ভাল। আশা করা যাচ্ছে অতি অল্প সময়ে তিনি সুস্থ্য হয়ে উঠবেন।

ব্রেকিং নিউজঃ