| |

বাংলাদেশে নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার্যকর ভুমিকা রাখছেন : মেয়র টিটু

আপডেটঃ 1:53 am | March 11, 2016

Ad

মো: নাজমুল হুদা মানিক, মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পি : আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে ডেমোক্রেসী ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) এর গোলটেবিল বৈঠকে ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু বলেন, আলোচনায় অনেক আলোচনা হতে পারে কিন্তু বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ করতে হবে। সমাজে বেচে থাকার অধিকার সবার আছে। সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজে বেড়ে উঠার জন্য পরিবার থেকে শিক্ষা নিতে হবে। নারীকে তার সঠিক মর্যাদা দিতে হবে।
মেয়র বলেন, আমাদের মোট জনগোষ্টির অর্ধেকের বেশি নারী। সুতরাং নারীরা শিক্ষা, ব্যাবসা বানিজ্যে  প্রতিষ্ঠা লাভ না করলে জাতী পুর্নাঙ্গ প্রতিষ্ঠা পাবেনা। পরিবারের উন্নয়নে বাবা মায়ের সমান সমান ভুমিকা থাকে। বাংলাদেশে নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার্যকর ভুমিকা রাখছেন ও নারীর অধিকার কায়েমের প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে ডেমোক্রেসী ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) এর সহযোগিতায় “নারীর জয় সবার জয়” ও “বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন” এর উপর গোলটেবিল অলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ডেমোক্রেসী ইন্টারন্যশনাল আয়োজিত অনুষ্ঠানে সফল নারী নেতৃত্ব এবং নারী নেতৃত্ব বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষ ভাবে তুলে ধরা হয়। ১০ই মার্চ‘২০১৬ রোজ বৃহ¯পতিবার সকাল ১১টায় মাসকান্দাস্থ নারী ও যুব কেন্দ্র ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ে এ গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ পৌরসভার জনপ্রিয় মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম সদস্য মো: ইকরামুল হক টিটু এ কথা বলেন।
জেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন পারভীন এর সঞ্চালনায় নারীদের ক্ষমতায়নে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন ভালুকা উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুব মহিলালীগের সাধারন সম্পাদক মনিরা সুলতানা মনি। গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ পত্রিকার সম্পাদক প্রদীপ ভৌমিক, জেলা বিএনপি (দ:) যুগ্ন সম্পাদক কাজী রানা, জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রতন আকন্দ, জেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম সদস্য এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, ত্রিশাল উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফুন্নেসা বিউটি, দৈনিক কালের কন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার নিয়ামুল কবীর সজল, দৈনিক মাটি ও মানুষের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক স্বাধীন চৌধুরী, মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদা বেগম সাজু, সেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ারুল হক রিপন, দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক ও দৈনিক প্রভাতের বুরোচীফ মো: নাজমুল হুদা মানিক, আলোকিত ময়মনসিংহ ২৪ডটকম অনলাইন এর বার্তা সম্পাদক মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পি, দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহের সাংবাদিক মোনালিসা, আওয়ামীলীগ মনোনীত ডেমোক্রেসী ইন্টারন্যাশনাল ময়মনসিংহ বিভাগের ফেলো সুমন চন্দ্র ঘোষ, মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী জেসমিন আক্তার, সোমা দাস, তৃনমুল লীগের আহবায়ক আনিছুর রহমান স্বপন, ছাত্রলীগ নেতা মাহবুব আলম মামুন, ছাত্রদল নেতা জাহিদ হোসেন উৎপল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন ডেমোক্রেসী ইন্টারন্যাশনাল এর ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর নারগিস আক্তার।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক নারী নেতৃবৃন্দের, এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন এক ভিন্নমাত্রা লাভ করেছে। কারন বাংলাদেশে ৩টি বৃহৎ রাজনৈতিক দলে শীর্ষ পদে নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং একই সাথে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ উপনেতা, স্পীকার ও বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্বে মন্ত্রী হিসাবে নারীরা অধিষ্ঠিত রয়েছে। গনপ্রতিনিত্ব আদেশ (সংশোধনী) ২০০৯ এর মাধ্যমে বলা হয়েছে দলের সকল পর্যায়ে কমিটিতে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী অর্ন্তভুক্ত করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য ডিআই গনতান্ত্রিক অংশ গ্রহন এবং সংস্কার কার্যক্রমের আওতায় “নারীর জয়ে সবার জয়” ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধি এবং নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিকে সহায়তা প্রদান করে। রাজনীতিতে জেন্ডার সমতা আনয়নের লক্ষ্যে ২০ হাজার নারী রাজনীতিবিদকে নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করেছে। আইএফইএস এর বাংলাদেশ ইলেকশন সাপোর্ট প্রোগ্রামের সমন্বয়ে “উইমেন্স এ্যাকটিভ ভয়েস ইন ইলেকশনস” এর এডভাইজারী দল নির্বাচনী ও রাজনৈতিক সহিংসতা নিরসনে কাজ করে থাকে এবং তাদের নেটওয়ার্ক ও কৌশল কাজে লাগিয়ে শান্তিপুর্ন ও সহিংসতা মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা উপায় ও নারী নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষ্যে কাজ করে থাকে। এই প্রোগ্রাম গুলো ইউএসএইড ও ইউকেএইড এর অর্থায়নে ডেমোক্রেসী ইন্টারন্যাশনাল বাস্তবায়ন করে থাকে।
আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও দৈনিক আলোকিত ময়মনসিংহ পত্রিকার সম্পাদক প্রদীপ ভৌমিক বলেন, নারীদের সকল আন্দোলনে পুরুষদের এগিয়ে যেতে হবে। নারী কাউন্সিলররা সব সময় বলেন আমরা শুধু নারী কমিশনার, আমরা আমাদের অধিকার পাইনা। রজনৈতিক দলে নারীদের অধিকার লালন হয়না। রাজনৈতিক দলের ৭১ বিশিষ্ট কমিটিতে নারীদের জন্য পদ থাকে মাত্র ১টি মহিলা সম্পাদিক। রাজনৈতিক দলের মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
জেলা বিএনপি (দ:) যুগ্ন সম্পাদক কাজী রানা বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলে নারীদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। নারীরা অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে নারীদের মুল্যায়ন করতে হবে। নারীদের অগ্রাধীকারের ভিত্তিতে এগিয়ে দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে।
জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু বলেন, নারী নেতৃত্বে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ধর্মীয় গোড়ামী। এ অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তা হলেই নারীদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।
জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রতন আকন্দ বলেন, সঠিক নেতৃত্ব খুজতে গেলে নেতৃত্ব দেয়ার মত নারী পাওয়া যায়না। তাই নারীদের এগিয়ে আসতে হবে।
জেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম সদস্য এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। নারীদের ক্ষমতা থেকে দুরে সড়িয়ে রাখার জন্য অনেকেই অনেক কথা বলেন।
জেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন পারভীন বলেন, নারী পুরুষ সমানে সমান এগিয়ে যেতে হবে। যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী নারীরা এগিয়ে যাবে। নারীর নিরাপত্তা না থাকলে মোধা বিকশিত হয়না।
ভালুকা উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুব মহিলালীগের সাধারন সম্পাদক মনিরা সুলতানা মনি বলেন, নারীর জয়ে সবার জয় এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আমাদের নারী পুরুষ সম্মিলিত ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই নারী মুক্তি সম্বব হবে।
ত্রিশাল উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফুন্নেসা বিউটি বলেন, নারী সুশিক্ষায় শিক্ষিত না হলে নারী ক্ষমতায়ন সম্বব নয়। মহিলা জনপ্রতিনিধি হিসাবে সমাজে কাজ করতে গিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুক্ষীন হচ্ছি। বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে হবে। বাল্য বিবাহ বন্ধ করলে নারীদের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে। তিনি বলেন, জেলার যে কোন বড় দলে নারী নেতৃত্ব চাই।
দৈনিক কালের কন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার নিয়ামুল কবীর সজল বলেন, পুরুষের স্বভাব ভাল না হলে নারীরা রাজনীতিতে এগিয়ে আসবে না। বিরূপ পরিবেশের কারনে নারীরা অনেক জায়গায় ভয় পায়। অনেক পরিবেশ নারী বান্ধব নয়। নারীকে এগিয়ে আসতে হলে শ্রদ্ধাভাজন ব্যাক্তির অধিকারী হতে হবে।
দৈনিক মাটি ও মানুষের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক স্বাধীন চৌধুরী বলেন, সভ্যতার বিকাশের ক্ষেত্রে আমরা অনেকদুর এগিয়েছি। ক্ষনার বচন দিয়ে সমাজ এগিয়েছে। তিনি একজন নারী ছিলেন। নারী জাগরনে অনেক ভুমিকা রয়েছে। সমাজ এগিয়ে নিতে পরিবার বড় সহায়ক শক্তি। রাজনৈতিক সংস্কৃতি নারী বান্ধব হয়ে উঠেনি। রাজনীতিতে বিশুদ্ধাচরন করতে হবে।
মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদা বেগম সাজু বলেন, নারী তার কথা ও যোগ্যতা দিয়ে এগিয়ে যাবে। দল মতের শুধু নয় সকলের দৃষ্টি ভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। নারীর কোন পেশি শক্তি থাকে না।
সেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ারুল হক রিপন বলেন, আরপিও আইন কোন রাজনৈতিক দল মানেনা। রাজনীতিবীদরা ক্ষমতায় থাকলে তাদের স্ত্রীদের রাজনৈতিক দলে জায়গা করে দেয় এতে প্রকৃত মেধাবী কর্মীরা জায়গা পায়না।
জেসমিন আক্তার বলেন, প্রতিকুলতা তৈরী হয় পরিবার থেকে। প্রতিকুলতা পিছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ