| |

মে মাসে জাহাজ দেবে বলছে মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান

আপডেটঃ 12:29 pm | March 12, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ : বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমায় মৎস্য সম্পদের ওপর জরিপ চালাতে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ‘আরভি মীন সন্ধানী’ নামে একটি জরিপ-জাহাজ কিনেছে সরকার। তবে এটি হস্তান্তরের সময় তিন দফায় বাড়িয়েও ঠিক সময়ে দিতে পারলো না সাম্বার রিচম্যান জে ভি নামে ওই প্রতিষ্ঠানটি। দরপত্রের শর্তভঙ্গসহ ঠিক সময়ে জাহাজ হস্তান্তর করতে না পারায় তাদের পাওনা অর্থ আটকে দিয়েছে বাংলাদেশও।

প্রতিষ্ঠানটি এবার আগামী মে মাসে জাহাজটি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার কথা বলছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, জাহাজ হস্তান্তরে প্রথমে দুই দফা সময় বাড়ানোর পর সবশেষ গত বছরের মার্চে এর কাজ শেষ করে এপ্রিলে দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু গত এপ্রিলেও জাহাজটি দিতে পারেনি সাম্বার রিচম্যান জেভি। ফলে বাতিল হয় জাহাজ আসাকে কেন্দ্র করে  কমিশনিংসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য অনুষ্ঠান।

এখন সব জটিলতা কাটিয়ে জাহাজটি হস্তান্তরের জন্য শেষ পর্যায়ের কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ছোটখাটো ত্রুটিগুলো সারিয়ে আগামী মে মাসেই এটি হস্তান্তর করার কথা বলছে তারা। কাজের অগ্রগতি দেখতে সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়া সফরেও যায়।

সূত্র মতে, ‘বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ প্রকল্পের আওতায় এ জরিপ-জাহাজ কেনা হচ্ছে। ক্রয়ের দরপত্রের ড্রাফটে জাহাজের ‘হাল’ নামের অংশটি (যে অংশ পানির নিচে থাকে) ৩ দশমিক ৮ মিটার করার কথা বলা হয়। কিন্তু নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি দিচ্ছে ৩ দশমিক ৩ মিটার। প্রধান এ ত্রুটি ছাড়াও জাহাজটিতে আরও ৫-৬টি ত্রুটি খুঁজে পায় ওই প্রতিনিধি দল। এরমধ্যে শুরুতেই জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল ও সমুদ্রের লোনা পানি খাবারোপযোগী করার যন্ত্র না বসানোর বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।

সূত্রটি বলছে, এ ধরনের নানা ত্রুটির ফলে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠানটির পাওনা কিছু টাকা দিলেও বাকিটা আটকে দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, জাহাজ হস্তান্তরের সময়েই তা পরিশোধ করা হবে।

এ ব্যাপারে মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র বলছে,  ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর ল অব দ্য সি- ইটলস’র আবশ্যিক শর্ত লঙ্ঘন না হওয়ায় এবং ব্যুরো ভেরিটাসের সনদ থাকায় ৩ দশমিক ৩ মিটার ‘হাল’র বিষয়টি মেনে নিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে বাকি ত্রুটিগুলোর বিষয়ে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া, ৩৭ মিটারের এ জাহাজটি কেনার দুই বছর পর্যন্ত বিক্রয় পরবর্তী সেবার প্রতিশ্রুতিও নেওয়া হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি থেকে।

এ বিষয়ে মৎস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনিছুর রহমান বলেন, সঠিক সময়ে জাহাজটি হস্তান্তর করতে না পারায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দেনা-পাওনা বাকি আছে। জাহাজেও কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি ছিল, সেগুলোর সমাধান হয়ে গেছে প্রায়। বাকি সামান্য কাজ আছে, সেগুলো করতে আরও মাসখানেক সময় লাগতে পারে। তাই আমরা আশা করছি, এপ্রিলের শেষে কিংবা মে মাসের শুরুতে জাহাজটি দেশে এসে পৌঁছাবে।

সূত্রমতে, জাহাজটির একটিমাত্র ইঞ্জিন থাকার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে আনিছুর রহমান বলেন, পৃথিবীর ৯০ শতাংশ জরিপ-জাহাজেই একটি ইঞ্জিন থাকে। কারণ, এই জাহাজ নিয়ে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়া যাবে না। বাকি পাঁচ মাসে কয়েকবার সমুদ্রে যাতায়াত করবে এটি। ওই সময়ও পুরো সময় ইঞ্জিন চালু থাকবে না। আর একটা ইঞ্জিন চালানোর খরচই বছরে সাত কোটি টাকার মতো। আবার ডাবল ইঞ্জিন করাও অনেক খরচের। তারওপর একটি ইঞ্জিনের টাকাই দেওয়া হয়েছিল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে। সুতরাং এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, জাহাজটিতে এখন বড় কোনো সমস্যা নেই। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমাদের বিশেষজ্ঞ দল জাহাজটি পরিদর্শন করে এসেছে। তারা জানিয়েছে, সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল, সেসব সমাধান হচ্ছে। নির্মাতারা একটু সময় চেয়েছে।

কী ধরনের ত্রুটি এখনও রয়েছে জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব বলেন, জাহাজটিতে লোনা পানি পানযোগ্য বা ব্যবহারযোগ্য করার একটি ইঞ্জিন বসানোর কথা ছিল। কিন্তু  সেটি তারা করেনি। বলছে, পানি বহনকারী যে ট্যাংকটি দেওয়া হয়েছে, তাতে একমাস ব্যবহারযোগ্য পানি মজুদ করা যাবে। আমরা তাতে সন্তুষ্ট না থেকে পানি শোধন করার ইঞ্জিন বসাতে বলেছি। এ ধরনের ছোটখাটো কাজ করতে মাসখানেক সময় লাগবে।

২০০০ সালে সমুদ্রের মৎস্য জরিপের উদ্যোগ নেয় সরকার। ওই সময় জরিপ-জাহাজ আরভি অনুসন্ধানী ও আরভি মাছরাঙ্গা দিয়ে তথ্যসংগ্রহ শুরু করলেও জাহাজ দু’টি অচল হয়ে যায়। এরপর ২০০৭-০৮ অর্থবছরে আবারও জরিপ কাজ করতে ‘বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ প্রকল্পের আওতায় ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) আর্থিক সহযোগিতায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি জাহাজ কেনার উদ্যোগ নেয় সরকার। এই প্রকল্পে সমুদ্রের মাছের পরিমাণ, মাছের খাবার ও গতিপথ বের করা হবে।

১৯৭৪ সালে রাশিয়ার একটি জাহাজের সহযোগিতায় পূর্ণাঙ্গভাবে দেশের সমুদ্রসীমায় মৎস্য জরিপ করা হয়। এরপর কয়েকবার দেশি ছোট জাহাজে আংশিক জরিপ হলেও তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। সঠিক জরিপ না থাকায় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের সমুদ্রে মৎস্যসম্পদ আহরণে উদ্যোগী হচ্ছে না।

১৯৭৫ সালে পরিচালিত জরিপ অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে ২ লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টন থেকে ৩ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত সাদা মাছ রয়েছে। চিংড়ি রয়েছে ৯ হাজার মেট্রিক টন। তখনকার ওই জরিপে সাগরে মাছের প্রজাতি ছিল ৪৬৭টি। চিংড়ির প্রজাতি ছিল ৩৬টি।

ব্রেকিং নিউজঃ