| |

বড় পরিবর্তনের আতঙ্ক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে

আপডেটঃ 2:32 pm | March 16, 2016

Ad

স্মরণকালের বৃহত্তম অর্থ জালিয়াতির পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। মঙ্গলবার একদিনেই গভর্নরের পদত্যগ, দুই জন ডেপুটি গভর্নরের অপসারণ, পর্ষদের এক সদস্যেকে (ব্যাংকিং সচিব আসলাম আলম) ওএসডি করার মতো ঘটনা ঘটেছে। সরকারের এতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একদিনে এত বড় পরিবর্তন ইতিহাসে বিরল।

তবে এখানেই শেষ নয়। শোনা যাচ্ছে জল গড়াবে আরো অনেকদূর। নির্বাহী পরিচালক (ইডি), মহাব্যবস্থাপকসহ (জিএম) বিভিন্ন পদমর্যাদার নিয়মিত ও চুক্তিভিত্তিক বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা  চাকরি হারাতে যাচ্ছেন। এ ঝড়ের বড় অংশটাই আতিউর রহমানের আস্থাভাজন লোকদের ওপর দিয়ে (বিশেষ করে যেসব কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক হিসেবে রয়েছেন) যাবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়। ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে এখন থমথমে অবস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনা অর্থমন্ত্রণালয়কে প্রায় দেড় মাস দেরিতে জানানোর কারণে গতকাল সোমবার আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ডেফিনেটলি দেয়ার উড বি চেইঞ্জেস। এত বড় একটা সিরিয়াস ব্যাপার। আই টেক ইট ভেরি সিরিয়াসলি। আই অ্যাম ওয়েটিং ফর আতিউর। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব বলেছিলাম, আলোচনা আমার হয়েছে। আর কিছু স্টেটমেন্ট নাই। গভর্নর ফিরে আসলে আই উইল গিভ স্টেটমেন্ট। সেটা আজও হতে পারে, কালও হতে পারে। কারণ সে কখন আসবে-তার কোনো ঠিক নাই।’ এখানেই অর্থমন্ত্রী কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার সকাল গড়িয়ে দুপুর আসার আগেই দেখা গেল, আতিউর রহমান ছুটছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। দিলেন পদত্যাগপত্র। পদাধিকার ও নিয়ম-অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন গভর্নরের দায়িত্ব পেলেন আবুল কাশেম (সাবেক ডেপুটি গভর্নর-১)। দায়িত্ব বুঝে ওঠার আগেই দু’তিন ঘণ্টার মধ্যেই অর্থমন্ত্রণালয় চাকরিচ্যুত করলো আবুল কাশেম ও নাজনীন সুলতানাকে (দু’জনই ছিলেন ডেপুটি গভর্নর)। সঙ্গে অর্থমন্ত্রণালয়ে ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগের সচিব আসলাম আলমকে ওএসডি করার সিদ্ধান্ত জানায় অর্থমন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রিজার্ভের টাকা লেনদেনের সুইফট প্রক্রিয়ায় ঢুকে অর্থ চুরির জন্য ৩৫টি পরামর্শ বা অ্যাডভাইস পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে। যেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫টি পরামর্শ কার্যকর হয়ে গেলে তাতে ওই ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার বা ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনে। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের একটি পত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

তবে সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানো এবং এমন সময়ে ভারত সফরের মতো ঘটনা গভর্নরকে ব্যাপক সমালোচনা ও চাপে ফেলে দেয়। অনেকটা তোপের মুখেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

তবে চুরির বিষয়ে এতদিন মুখ না খুললেও আতিউর রহমান তার বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘২৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ আমার সন্তানের মতো- তিলে তিলে এটা গড়ে তুলেছি। যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন রিজার্ভ ছিল ৬-৭ বিলিয়ন ডলারের মতো, সাড়ে চার গুণ আমি বাড়িয়েছি। সুতরাং এখান থেকে একটি ডলারও নষ্ট হোক আমি চাইনি। ডলার কীভাবে ফেরত আনা যায় এই কাজটিই করেছি। আর এত বড় দুর্ঘটনার পর কীভাবে বাকিটাকাগুলো রক্ষা করা যায়, সেটার ব্যবস্থা করেছি আগে।’

‘একটু সময় লেগেছে আমি অস্বীকার করি না। কিন্তু এই সময়টা আমি নিয়েছি দেশের স্বার্থে। এই অর্থগুলো যেন নিশ্চিতভাবে দেশে ফেরত আনা যায় তার স্বার্থে এবং বড় রকম আর কোনো সংকট আছে কি না তা দূর করার স্বার্থে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নাই। এটা একটা সাইবার অ্যাটাক। কোথা থেকে এটা এসেছে তা আজও আমরা বুঝে উঠতে পারছি না। আমি র‌্যাবকে বলেছি, ভেতরে কেউ যদি এতে জড়িত থাকে, যে কোনো সময় তাদের তুলে ধরে নিয়ে যেতে পার। আমার দিক থেকে কোনো অসুবিধা থাকবে না। ভবিষ্যতে যাতে করে এ রকম না ঘটে সেজন্য এ লাইনে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ যারা তাদের যুক্ত করেছি, ফায়ারওয়াল দিচ্ছি। শুধু তাই না, ব্যাংকগুলোকেও বলেছি যে, তোমরা ফায়ারওয়াল সৃষ্টি কর।’

এতোটাকা একসাথে চুরি যাওয়ায় কিছুটা ভয়ও পেয়েছিলেন, এ কারণে ধাতস্থ হতে সময় লেগেছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানান গভর্নর।

ব্রেকিং নিউজঃ