| |

৪৫ বছর পর বীরাঙ্গনা নূরজাহানের মুখে হাসির ঝিলিক

আপডেটঃ 3:16 am | March 18, 2016

Ad

আবুল কালাম ফুলবাড়ীয়া প্রতিনিধি : স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর বীরাঙ্গনা নূরজাহানের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিল ফুলবাড়ীয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এডভোকেট ইমদাদুল হক সেলিমের অনুপ্রেরনায়। আবেগে চোখের কোনে এক ফোটা জ্বল দেখা দিল বীরাঙ্গনার ছেলে ইয়াসিনের। আগত সকলই তখন ছিল আবেগাপ্লুত।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আন্ধারিয়া পাড়া গ্রামের দিনমুজুর হয়রত আলীর সংসারে ছিল এক মেয়ে। মেয়েটির বয়স ছিল ২/৩ বছর। সংসারে অভাব থাকলেও সুখের কমতি ছিলনা দিন মজুরের সংসারে।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষের দিকে ঐ গ্রামের তরফদার বাড়ীতে পাকসোনারা আগুন দিলে ভয়ে জীবন ও সভ্রম বাঁচাতে একটি মসজিদে আশ্রয় নেয় আবালবৃদ্ধবণিতারা। পাকসেনারা মসজিদের দিকে আসার কথা শোনের আশ্রিতরা দিকবেদিক দৌড়া দৌড়ি শুরু করে। মসজিদে আশ্রিতদের মধ্যে গৃহবধূ নূরজাহান ও ছিল। নূর জাহান মসজিদ থেকে পালিয়ে ছনকান্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ দিয়ে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুই পাকসেনা নূর জাহানকে ধরে ঐ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে পালাক্রমে ধর্ষন করে। গণধর্ষনের শিকার নূরজাহান বাড়ীতে আসার পর ঘটনা জানাজানি হয়। একদিন রাতে হঠাৎ করে তার স্বামী হযরত আলী বাড়ী ছেড়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায় নিষ্ঠুর সামাজিকতার বিষ বাস্প থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। স্বামী ছাড়া বীরাঙ্গনা নূর জাহান চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসলে পেটের তাগিদে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করে। এখনও তার সংসসার চলে ভিক্ষার টাকায়। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও কেউ তার খবর না নেওয়ায় নীরবে চোখের জল ফেলে বীরাঙ্গনা নূরজাহান।
বৃহস্পতিবার বিকালে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এডভোকেট ইমদাদুল হক সেলিম দৈনিক ইত্তেফাকে ফুলবাড়ীয়া প্রতিনিধি আবুল কালামের কাছে বীরাঙ্গনার খবর শুনে ছুটে যান বাড়ীতে। তখন দুপুর গড়িয়ে বিকালে বীরাঙ্গনা নিজ হাতে তার সাংসারিক কাজ কর্ম করছিল। বীরাঙ্গনার নূর জাহান ও তার দুই সন্তান ইনছান আলী, হাজেরা খাতুনের সাথে কথা বলে আর্থিক সহ্য়াতা তুলে দেন বীরাঙ্গনার হাতে। স্বাধীনতার ৪৫ বছরে আর্থিক সহায়তা পেয়ে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠে বীরাঙ্গনার মুখে। আবেগে চোখের জল দেখা দুই সন্তানের চোখে। এডভোকেট ইমদাদুল হক সেলিম বীরাঙ্গনাকে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দেন।

ব্রেকিং নিউজঃ