| |

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ক্রিকেটের মাঠে মহাযুদ্ধ

আপডেটঃ 6:26 pm | March 19, 2016

Ad

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ক্রিকেটের মাঠে মহাযুদ্ধ। আবারও সেই মহাযুদ্ধের দামামা বাজছে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের ষষ্ঠ আসরে। টুর্নামেন্টে সুপার টেনের ৭ম ম্যাচে মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দু’দল।

রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ১৯ মার্চ শনিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় শুরু হবে।

এই দু’দলের সার্বিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুরু থেকে পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে কিন্তু ভারতই এগিয়ে আছে। ওয়ানডে ও টি২০ পরিসংখ্যানে ভারত-পাকিস্তান এ অবধি সব মিলিয়ে ১৩৪টি ম্যাচ খেলেছে। যেখানে ৭৩-৫৬ ব্যবধানে পাকিস্তানই এগিয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে পাকিস্তান কিন্তু পিছিয়েই আছে। বিশ্বকাপ মানেই পাকিস্তানের পরাজয়। প্রথম চারটি বিশ্বকাপে এ দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর কোনো ম্যাচই দেখা যায়নি। ১৯৯২ সালে প্রথমবার তারা বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হয়। যেখানে ভারতই জয় ছিনিয়ে নেয়। সেই থেকে শুরু। বিশ্বকাপে ওয়ানডে ও টি২০ মিলিয়ে তারা মোট ১০টি ম্যাচ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। যেখানে শুধুমাত্র একটি ম্যাচ বাদে সবগুলোতেই ভারতের জয় হয়েছে। বাকি ম্যাচটিতেও কিন্তু পাকিস্তান জয় পায়নি। ২০০৭ সালের ওই ম্যাচে টাই হওয়ার পর ‘বোওল আউট’এ হেরেছিল পাকিস্তান।

তবে এবারের মোকাবিলা হবে টি২০ বিশ্বকাপের আসরে। যে পরিসংখ্যানেও অনেকটা পিছিয়ে আছে পাকিস্তানই। ক্রিকেটের এই সীমিত ওভারের সংস্করণে এ অবধি তারা ৭টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে ৬টি ম্যাচেই ভারত জয় তুলে নিয়েছে। এর মধ্যে টি২০ বিশ্বকাপেই চারবার মুখোমুখি হয়ে চারবারই হারের স্বাদ পেয়েছে পাকিস্তান।

তবে ইডেন গার্ডেন্স কিন্তু অন্য কথা বলছে। এখানে চারবার মুখোমুখি হয়ে রেকর্ড চারবারই জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। তবে তা ওয়ানডে ম্যাচের ক্ষেত্রে। সবশেষ ভারতের বিপক্ষে আফ্রিদিরা জয় পায় ২০১২ সালের ডিসেম্বরে। দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজটি ১-১ সমতায় নিষ্পত্তি হয় সেবার।

তবে এসব অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চান না পাকিস্তানের অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। তিনি অতীত ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই শ্রেয় মনে করেন। তবে তিনি অতীতের ভুল থেকে অবশ্যই শিক্ষা নিতে চান। তিনি বলেন, ‘অতীত নিয়ে কথা বলতে চাই না। আর আমি অতীত নিয়ে বসেও থাকি না। তবে আমাদের অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সর্বশেষ ম্যাচে আমরা হেরেছি, তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী কারণ অতীতে ভারতের বিপক্ষে আমরা ভালো করেছি।’

অন্যদিকে বিশ্বকাপ মিশনের শুরু থেকেই ভারতকে ফেবারিট ধরা হচ্ছিল। কিন্তু সুপার টেনের প্রথম ম্যাচে তারা বাজেভাবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজিত হয়। তাই তাদের সামনে এখন ছন্দে ফেরার চ্যালেঞ্জ। যদিও ভারতের স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতে, যদি এখানে একটি টিম থাকে প্রথম ম্যাচে হারের পর ঘুরে দাঁড়াবে সেটি হবে ভারত। আমাদের জিততে হবে। আমি বরাবরই বলেছি, ছন্দে থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নাগপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারের স্মৃতি ভুলে জয়ের সর্বোচ্চ চেষ্টাই করবো।’

অন্যদিকে, ভারতের বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী পাকিস্তানের প্রধান কোচ ওয়াকার ইউনুসও। তিনি বলেন, ‘ভারতের থেকে পাকিস্তানই এগিয়ে থাকবে। কারণ, ভারত প্রথম ম্যাচে বাজেভাবে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটতে পড়ার শঙ্কায় ভুগছে। নিজেদের মাঠে এটি আরও বেশি করে তাদের চাপে ফেলবে। যা বাড়তি সুবিধা এনে দিবে পাকিস্তানকে।’

একদিকে স্বাগতিক ভারত হারের হতাশা দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে। আর অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫৫ রানে জয় দিয়ে শুরু করেছে এবারের বিশ্বকাপ। এ ছাড়াও রয়েছে জয়-পরাজয়ের কঠিন পরিসংখ্যান। সব কিছু মিলিয়ে উত্তেজনা ভরপুর একটি ম্যাচের অপেক্ষায় রয়েছে সকলে।

ব্রেকিং নিউজঃ