| |

দুদকের মামলা দায়মুক্তি চাইলেন মুসা বিন শমসের

আপডেটঃ 2:39 pm | March 22, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ  : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা থেকে দায়মুক্তি চেয়েছেন ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের। দুদকের নতুন চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদকে দেওয়া ৬ পৃষ্ঠার এক আবেদনপত্রে তিনি অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান।

আবেদনপত্রে তিনি সদ্য বিদায় নেওয়া দুদক কমিশনারের নাম উল্লেখ না করে  নতুন চেয়ারম্যানকে বলেন, ‘গভীর ষড়যন্ত্র করে পূর্ববর্তী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমার নামে মামলা করেছেন’।

গণমাধ্যমেও দুদকের ওই কর্মকর্তা ‘সব তথ্য নোংরাভাবে প্রকাশ করেছেন’ বলে অভিযোগ আনেন মুসা।
সোমবার (২১ মার্চ) দেওয়া মুসার এ আবেদনপত্রটি মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দুদক চেয়ারম্যানের দফতরে যায়। দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র  আবেদনপত্রের বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করে। বাংলানিউজের কাছেও আবেদনপত্রের একটি কপি রয়েছে।

আবেদনপত্রটি শতভাগ গোপনীয় উল্লেখ করে মুসা দুদক চেয়ারম্যানকে বলেন, ‘আমি গত ২৮ জানুয়ারি আপনার কার্যালয়ে হাজির হয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার নিকট আমার বক্তব্য পেশ করি। এ সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে সুইস ব্যাংকের একাউন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে বলেন। যদিও বিষয়টি দেশের প্রচলিত আয়কর আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ কারণে যে, বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রনালয় আয়কর প্রজ্ঞাপন এস.আর.ও নং ২১৬-আইন/আয়কর/২০০৪ তাং- ১৩ জুলাই ২০০৪ (কপি সংযুক্ত) মূলে আবাসিক/অনাবাসিক মর্যাদা নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিকের বহির্বিশ্বে অর্জিত সব অর্থ সম্পূর্ণভাবে আয়করমুক্ত। অথচ, আমার বিদেশে অর্জিত অর্থ (সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত) আমি স্বদেশে আনিনি, প্রক্ষান্তরে আমি স্বদেশ থেকেও কোনো অর্থ বিদেশে প্রেরণ করিনি’।

জনশক্তি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ড্যাটকো’র চেয়ারম্যান মুসা বিন শমসের আবেদনে দাবি করে বলেন, ‘বরঞ্চ আমার বাংলাদেশের একাউন্টে বিদেশ থেকে শত শত কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা এনেছি। অন্যদিকে বৈদেশিক এসব মুদ্রায় জাতীয় অর্থভাণ্ডার দারুণভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। সুতরাং বিদেশে অর্জিত অর্থের আয়ের উৎস সম্পর্কে কাউকে কোনো রকম তথ্য দেওয়ার আইনত কোনো বাধ্যবাধকতা আছে বলে বাংলাদেশের কোনো আইনে বিধান নেই। উপরন্তু আমি সুইস আইন মতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যৌথভাবে NCDA (Non Circumvetion Non Disclosure Agreements) তে স্বাক্ষর করেছি। উক্ত NCDA মূলে কোনো তথ্য কাউকে দেওয়া যাবে না বলেই এ বজ্রকঠিন শপথনামায় স্বাক্ষর করি’।

মুসা দুদক চেয়ারম্যানকে বলেন, ‘আমি আমার আইনজীবীর মাধ্যমে যদি আইনি কোনো কঠিন বাধা না থাকে তবে সুইস কর্তৃপক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে আপনার দফতরে পেশ করবো বলে জানাই। সে মতে আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সে কারণে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তথ্য দেওয়া সুইস আদালত অবমাননার সামিল হবে। তবে তারা সুইস সরকারের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সুইস সরকারি কর্তৃপক্ষ, সুইস ব্যাংক ও সুইস আদালতের অনুমতি নিয়ে উল্লেখিত তথ্য সংগ্রহ করে যথাশীঘ্র সম্ভব পাঠাবেন। এর মাধ্যমে এ ব্যাপারে সমুদয় তথ্য পাওয়ার পর অনতিবিলম্বে তা আপনাদের বরাবরে প্রেরণ করবো বলে আপনার কার্যালয়কে অবহিত করে সময়ের আবেদন করেছি। যা অদ্যাবধি বিবেচনাধীন’।

মুসা বলেন, ‘যেহেতু আমি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত করিনি। এমনকি মানিলন্ডারিং ও ইনকাম ট্যাক্স ফাঁকির মতো কোন ধরনের গর্হিত অপরাধ করিনি। আমার ৪৩ বছর ব্যবসা জীবনের সমস্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশের বাইরে সম্পন্ন করি বিদেশি রেসিডেন্ট হিসাবে। সুতরাং, বিদেশে পরিচালিত আমার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশে কোনো আইনের আওতায় পড়ে না’।

আবেদনপত্রে নিজেকে আইন মান্যকারী সুশীল নাগরিক উল্লেখ করে মুসা বলেন, ‘আমার সুইস ব্যাংকে ১২ বিলিয়ন ইউএস ডলারের বিষয়টি কোনোভাবেই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি বাংলাদেশে আমি কখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগ করিনি বা সরকারি কোনো পদে ছিলাম না বা সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সুযোগ সুবিধাও ভোগ করিনি। সরকারের সঙ্গে কোনো রকমের ব্যবসা-বাণিজ্যেও জড়িত নই। এমনকি বাংলাদেশের কোনো ব্যাংক থেকে কোনো ঋণও গ্রহণ করিনি’।

জমির বিষয়ে আবেদনপত্রে মুসা বলেন, ‘সাভারে ১২০০ বিঘা জমি বেহাত ও বেদখল  অবস্থায় থাকায় উক্ত জমি উদ্ধারের অনেক চেষ্টা তদবির করার পরেও অদ্যাবধি কোনো ফলাফল লাভ করিনি। তাছাড়া উক্ত জমির নাম খারিজ আমার নামে না হওয়ায় আমার নামে রেকর্ডভুক্তও হয়নি। কেবল বিভিন্ন সময় আমার নামে দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ায় ভবিষ্যতে আইনগত জটিলতার উদ্ভব হতে পারে বিধায় আমি সম্পদ বিবরণীতে উক্ত জমি প্রদর্শন করেছিলাম’।

সুইস ব্যাংকে ১২ বিলিয়ন ডলার বা ৯৩ হাজার কোটি টাকা আছে উল্লেখ করে আলোচনায় আসেন মুসা বিন শমসের। পরে এ অর্থের পক্ষে কাগজপত্র দেখাতে না পারায় গত ১০ মার্চ তার বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং সাভারে ১২০০ বিঘা জমির সমর্থনে কোনো রেকর্ডপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ