| |

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশের স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ

আপডেটঃ 9:00 pm | March 24, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ : কবর ছাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে থাকা অন্যান্য সব অবৈধ স্থাপনা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) এ রায় দেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষায় এমন রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন তিনি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘বেড়ে উঠছে কথিত মাজার/হুমকিতে শহীদ মিনার’ শীর্ষক প্রধান প্রতিবেদনে বলা হয়- কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে কখনো কোনো মাজার ছিলো না। ছিলো সাধারণ একটা কবর। এই কবরটি ঢাকা মেডিকেলের কোনো এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর। পরে সেই কবরটিকেই ধীরে ধীরে মাজার বানিয়ে নিয়েছে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের জন্য আশপাশের যে চার একর জায়গা বরাদ্দ আছে, সেখান থেকে কথিত মাজারের নামে দখল নেওয়া হয়েছে ওই ২০ কাঠা জমি। ইতোমধ্যে দখলকৃত জায়গায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থাপনা। মাজার ব্যবসায়ীরা এখন কথিত পীরের কবরের ওপর গম্বুজ ও কবরের পাশে কমপ্লেক্স নির্মাণের পাঁয়তারা করছে। ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিস্মারক ও বাঙালি চেতনার প্রতীক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

এই প্রতিবেদন যুক্ত করে শহীদ মিনারের মর্যাদা রক্ষায় বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্টে রিট আবেদন করে।

প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওইদিন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেয়।

অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে হাইকোর্ট ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে উচ্চ আদালত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের জমি রক্ষায় কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়েও রুল জারি করেন।

সংস্কৃতি সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের প্রশাসক, গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান স্থপতি, নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল ডিভিশন), ঢাকার জেলা প্রশাসক ও শাহবাগ থানার ওসিকে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিলো।

রুলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় দেন হাইকোর্ট।

মনজিল মোরসেদ বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ২০ কাঠা জায়গা দখল করে তেলশাহর মাজার নামে একটি মাজার গড়ে উঠেছে। শহীদ মিনার ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতীক। ভাষাশহীদদের আন্দোলনের সূত্র ধরেই আজ আমরা মাতৃভাষা পেয়েছি। সারাবিশ্বে আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হচ্ছে। অথচ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশেই কিছু লোক নিজেদের আর্থিক লাভের জন্য মাজার তৈরি করেছে। পুরনো একটি সাধারণ কবরে লালসালু বিছিয়ে ব্যবসা নিয়ে বসেছে, যদিও সেখানে কোনো সুফি সাধকের কবর ছিলো না।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল ডিভিশন), ঢাকার জেলা প্রশাসক ও শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামী ৭২ ঘণ্টা, মধ্যে শহীদ মিনারের পাশে স্থাপিত কবরটি মর্যাদাসহ সংরক্ষণ করে অন্য অবৈধ সব স্থাপনা ভেঙে অপসারণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ব্রেকিং নিউজঃ