| |

কোথায় কিভাবে হত্যা করা হয় তনুকে

আপডেটঃ 3:17 am | March 26, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ : সোহাগী জাহান তনু সেনানিবাস এলাকায় ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। বলা হয়, তনুর লাশ জঙ্গলে পাওয়া গেছে। অথচ ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে যাতে দেখা যাচ্ছে, একটি পরিপাটি কক্ষে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে হত্যা করা হয়েছে তনুকে। হত্যার পর আসামীরা কোথা দিয়ে বের হয়ে গেছে তাও বোঝা যাচ্ছে রক্তে লেগে থাকা পায়ের ছাপগুলোতে। এখন প্রশ্ন হল- সংরক্ষিত এলাকায় কিভাবে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় তনুকে। এটা কী সংরক্ষিত এলাকা? যদি তাই হয়, তবে এই সংরক্ষিত এলাকাটিতে প্রবেশ করার অধিকার কার? কারা যায় এখানে? তাদেরকে কী জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে?

গত ২২ মার্চ রোববার রাতে ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুর এলাকায় একটি কালভার্টের কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানায়। পুলিশের ভাষ্য ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় তনুকে। আর এই হত্যার ঘটনায় সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। তবে এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত সোহাগী জাহান তনু (১৯) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের (ভিসিটি) সদস্য ছিলেন। সে ময়নামতি সেনানিবাস এলাকার অলিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইয়ার হোসেনের মেয়ে।

তাদের গ্রামের বাড়ি তিতাস উপজেলায়। তারা অলিপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সোহাগী মেজ।

1458895611
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আবদুল্লাহ আল-মামুন জানান, কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি কলোনীতে পরিবারের সাথে থাকতেন সোহাগী জাহান তনু (২০)। রবিবার বিকাল ৩টায় সে বাড়ির কাছেই ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন কোয়াটারে সার্জেন্ট জাহিদের বাসায় এবং ষষ্ঠ বীরের সৈনিক জাহিদের বাসায় প্রাইভেট পড়াতে যান। রাত সাতটার দিকে সার্জেন্ট জাহিদের প্রথম শ্রেণির মেয়েকে পড়ানোর পর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

তিনি আরো জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন কোয়াটার সংলগ্ন পাহাড় হাউস এলাকার কাছের কালভার্টের কাছে সোহাগী জাহান তনুর লাশ পাওয়া যায়। এ সময় তার মুখে আঘাতের চিহ্ন এবং কামিজ ছেড়া ছিল। লাশের পাশে অসংখ্য চুল ছেড়া অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহত তনু থাকতেন কুমিল্লা সেনানিবাসের আবাসিক এলাকা ৫৮/১ পাহাড় হাউসের একটি টিনশেড বাসায়। জানা গেছে, নিহত কলেজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধারের পর প্রথমে কুমিল্লা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যায় হয় এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত সামসুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। একই থানার এসআই সাইফুল জানান, মেয়েটির চুল কাটা ছিল। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য তনুর বাবা ও ভাইয়ের ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাদের ফোন কেউ তুলছে না বলে তাদের সাথে কথা বলা যায় নি। নিহত সোহাগী জাহান তনু কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের কর্মী ছিল। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফারহানা আহমেদ জানান, কালকে যখন রাত হয়ে যাওয়ার পরেও তনু বাসায় ফিরছে না দেখে তার বাবা খুঁজতে বের হয়। এ সময় রাস্তায় তিনি মেয়ের জুতা দেখতে পান। পরে দেখতে পান কিছু দুরে মেয়েদের চুল ছেড়া অবস্থায় পড়ে আছে এবং একটি মোবাইলও পড়ে আছে। তারপর জঙ্গলের ভেতর রক্ত ও তনুর লাশ দেখতে পান। নিহত তনুর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরের মীর্জাপুরে ।

সুত্র যমুনা নিউজ ২৪

ব্রেকিং নিউজঃ