| |

২৬ মার্চ র‌্যাব’র এক যুগ

আপডেটঃ 3:23 am | March 26, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ : সন্ত্রাস দমন ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠন করা হয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। চলতি বছরের ২৬ মার্চ (শনিবার) ১২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে র‌্যাব।

২০০৪ সালের স্বাধীনতা দিবসে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে র‌্যাব’র আত্মপ্রকাশ ঘটে।

‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ স্লোগানে বাংলাদেশ পুলিশসহ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, আনসার ও সরকারের বেসামরিক প্রশাসন থেকে বাছাইকৃত মেধাবী ও চৌকস কর্মকর্তাদের নিয়ে এ বাহিনী গঠন করা হয়।

শনিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৮টায় র‌্যাব ফোর্সেস সদর দফতরে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন র‌্যাব’র মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ। এরপর সকাল সোয়া ৮টার দিকে র‌্যাব’র মহাপরিচালকের বিশেষ দরবার শুরু হবে। শুরুতেই স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সব দেশপ্রেমিক অকুতোভয় সহকর্মীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া-মোনাজাত ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হবে।

সকাল ৯টার দিকে আত্মত্যাগকারী র‌্যাব সদস্যদের পরিবারকে বিশেষ সম্মানী প্রদান, বিশেষ সম্মেলন, আভিযানিক ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য র‌্যাব সদস্যদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, প্রীতিভোজ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।

র‌্যাব’র লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক মেজর রুম্মান মাহমুদ বাংলানিউজকে জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র‌্যাব দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরনের অপরাধীকে আটক করে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই র‌্যাব গোয়েন্দা ও আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড জড়িতদের প্রতিরোধের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে চলেছে, বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাবও সফলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত আভিযানিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মাদক চোরাকারবারী, চোরাচালানের রুট, মাদকস্পট, মাদকদ্রব্য মজুদকারী ও বাজারজাতকারীদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে র‌্যাব প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

২০০৪ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে দেশে জঙ্গি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, উপকূলীয় দস্যু, চাঁদাবাজ ও মাদকবিক্রেতাদের দমনে ব্যাপক সফলতা দেখিয়েছে র‌্যাব। একইভাবে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ী, জালনোট প্রস্তুতকারী ও ভেজালবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানেও উল্লেখযোগ্য সফলতা রয়েছে।

র‌্যাব সদর দফতরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ২০ মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ১৭৬ জঙ্গি নেতা ও সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এছাড়া সারাদেশে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ৩৯৪ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত ৫৯ হাজার ২৫৬ জন, চরমপন্থী ৪২৬ জন, জলদস্যু ১১২ জন, বনদস্যু ৫৩ জন, জালনোট প্রস্তুতকারী ১ হাজার ৭২০ জন, চাঁদাবাজ ২ হাজার ৬৮৩ জন, ছিনতাইকারী ও মলম পার্টি ৪ হাজার ৬৬৩ জন, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ী ৪৮৮ জন, প্রত্নসম্পদ চুরি সংক্রান্ত ৪৪০ জন, ভিডিও পাইরেসি ব্যবসায়ী ২ হাজার ৩২২ জন, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি ২৬৪ জন, নারী ও শিশু পাচার সংক্রান্ত ৩০৬ জন, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৬৬২ জন, প্রতারণা সংক্রান্ত ২ হাজার ৬০৫ জন এবং অপহরণ সংক্রান্ত ২ হাজার ৭৮ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

প্রতিষ্ঠার থেকে এ পর্যন্ত ১২ বছরে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের ১ হাজার ১৭৬ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এর মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র ৬১১ জন সদস্য রয়েছে। এছাড়া জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমান অস্ত্র-গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি উদ্ধার করে র‌্যাব।  এর মধ্যে গ্রেনেড ও ককটেল ৩৩৫টি, অস্ত্র (বিভিন্ন প্রকার) ৯৬টি, গোলাবারুদ (বিভিন্ন প্রকার) ৪ হাজার ৯২৮ রাউন্ড, বিস্ফোরক (বিভিন্ন প্রকার) ১ হাজার ৯৮৩ কেজি, গ্রেনেড বডি ৬২৪টি, ডেটোনেটর (বিভিন্ন প্রকার) ৯ হাজার ১২৩টি এবং বিপুলসংখ্যক সাংগঠনিক বই-সিডি-লিফলেট-পোস্টার উদ্ধার করা হয়।

বিভিন্ন সময়ে র‌্যাব’র অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ৯ হাজার ৩৯৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ১২ হাজার ৫২৫ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আর গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয় ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৬ রাউন্ড। বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয় ৪৪১টি, যার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ও ট্যাংক বিধ্বংসী বিস্ফোরকও রয়েছে।

প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই র‌্যাব মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এতে মাদক সংক্রান্ত ৫৯ হাজার ২৫৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। মাদকের ভয়ার থাবা থেকে দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করতে প্রতিদিনই মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে র‌্যাব। এতে হেরোইন ৪৪৪ কেজি, ফেনসিডিল ২৮ লাখ ৪১ হাজার ৬৯৩ বোতল, ইয়াবা ট্যাবলেট ১ কোটি ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ২৫০ পিস, বিপুল পরিমানে দেশি-বিদেশি মদ-গাঁজা উদ্ধার এবং ধ্বংস করেছে সংস্থাটি।

ছিনতাইকারী, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি বিরোধী ২ হাজার ১৯৬টি অভিযানে র‌্যাব সদস্যরা মোট ৪ হাজার ৭৬৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে অপরাধের বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।

এছাড়া ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি বিরোধী ১৭২টি অভিযানে মোট ২৬৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। মুচলেকা মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয় ৫৪ জনকে এবং ৩১৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

ব্রেকিং নিউজঃ