| |

গরু বাঁচাবে, না কৃষক বাঁচাবে ভারত?

আপডেটঃ 1:26 am | March 31, 2016

Ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতে জবাইয়ের উদ্দেশ্যে গরু বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় দারিদ্র্যের তীব্র হুমকিতে পড়েছে দেশটির সবচেয়ে ধনী রাজ্য মহারাষ্ট্রের কয়েক লাখ কৃষক। রাজ্যের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ার সাথে সাথে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রতিও এদের অসন্তোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হিন্দু ধর্মে গরুকে পবিত্র প্রাণি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই ঐতিহ্যগতভাবেই ভারতের অনেক রাজ্যে গরু জবাই করায় নিষেধাজ্ঞা আছে। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় গরুর মাংস রপ্তানিকারক দেশটিতে এ ব্যাপারে জবরদস্তি আগে তেমন একটা ছিল না। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের মতো কয়েকটি রাজ্য গরু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বিস্তৃত করে ষাঁড় ও বাছুরকেও এর আওতায় নিয়ে আসে। নিষেধাজ্ঞা মানতে বাধ্য করতে হিন্দু স্বেচ্ছাসেবীরা গরু বিক্রেতাদের ওপর হামলাও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী ও হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ভারতে সনাতন ধর্মের বিশ্বাস জোরদার করতে শুরু করার পরই কঠোর আইন প্রণয়ন শুরু হয়। ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হিন্দু হওয়ায় বিষয়টি সহজই হয়। কিন্তু দেশটির সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, যাদের মধ্যে ১৮ কোটি মুসলমান রয়েছে, এসব আইন প্রয়োগ জোরদার করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

গরুর মাংস নিষিদ্ধ করার ফলাফলও নেতিবাচক হয়ে দেখা দিচ্ছে। সারা ভারতে গরুর দাম কমে গেছে। মাংস রপ্তানি এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ১৩ শতাংশ কমে গেছে। এ সময় ভারতের লোকসানে লাভ হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী মাংস রপ্তানিকারক দেশ ব্রাজিলের।

পরপর দুই বছর ধরে চলা খরা ও অকাল বৃষ্টিপাতের কারণে ফসল মার খেয়ে লাখ লাখ কৃষক দিশেহারা। চলমান তীব্র খরায় পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে উঠেছে। গোয়ালে থাকা গরুকে খাওয়ানোর মতো খাবার বা পানি কিছুই নেই। আগে এই অবস্থায় গরুগুলোকে বিক্রি করে নগদ কিছু পেয়ে কোনোমতে দিন চালানো যেতো। কিন্তু এখন তাও সম্ভব হচ্ছে না। গরু বিক্রি করতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে গ্রামের গরিব কৃষকদের।

ঐতিহ্যগতভাবে খরার বছরে সাধারণত কৃষকরা গরু বিক্রি করে দিতো। মুসলিম কসাইরাই সাধারণত এসব গরুর ক্রেতা ছিল। বর্ষাকালে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর আয় বাড়লে কৃষকরা আবার গরু কিনে নিতো। এভাবেই চলে আসছিল। কিন্তু এ চক্র ভেঙে গেছে। জুনে বপনের নতুন মওসুম শুরু হবে, কিন্তু বীজ ও সার কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ কৃষকের হাতে নেই। খরা কবলিত মহারাষ্ট্রের মারাঠা এলাকায় কৃষকের আত্মহত্যার হার চলতি বছরে এরই মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

মহারাষ্ট্রের একটি গরুর হাটে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুটি ষাঁড় নিয়ে বিক্রি করার জন্য বসে আছেন রেভাজি চৌধুরী। কিন্তু কোনো ক্রেতা নেই। নিজের গরুর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রেভাজির প্রশ্ন, আমি আশ্চর্য হয়ে ভাবি, সরকার কাকে বাঁচাতে চায়-আমাদের না গরুদের?

ব্রেকিং নিউজঃ