| |

৫ থেকে ৭ দিনে পরীক্ষা শেষের পরিকল্পনা সরকারের

আপডেটঃ 2:43 pm | April 03, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ : নিজের শিক্ষা জীবনের কথা স্মরণ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘আমাদের সময় পাঁচ থেকে সাত দিনে সব পরীক্ষা শেষ হয়ে যেতো। সকালে একটা পরীক্ষা বিকেলে আরেকটা, মাঝখানে এক ঘন্টার বিরতি। আর এখন একটি বিষয়ের পরে দুইদিন গ্যাপ পেয়েও অভিভাবকরা বলে আরো একদিন গ্যাপ পেলে ভাল হতো।’

রোববার রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের উত্তরে- শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন।

সকালে পরীক্ষা শুরুর পর সোয়া ১০টার দিকে পরীক্ষা পরিদর্শণে আসেন। রীতি ভেঙে নিজের দেয়া কথা রক্ষা করেছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের যেন ডিস্টার্ব না হয়, এজন্য হলের বাইরে বারান্দা ধরে হেঁটে বেড়িয়েছেন মন্ত্রী। কখনও জানালার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে দেখেছেন পরীক্ষার্থীদের। কখনো দরজার সামনে দাঁড়িয়েছেন। কর্তব্যরত শিক্ষকদের ডেকে জানতে চেয়েছেন হাল-হকিকত।

এসময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষা তিন মাস ধরে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার পর দুই মাসের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় ফলাফলের জন্য। তারপর ভর্তি হয়ে নতুন ক্লাসে অধ্যায়ন শুরু করতে প্রায় বছরখানেক কেটে যায়। এবিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কী ভাবছে?’

জবাবে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা নেয়ার ফলে পরীক্ষার্থীদের উপর অনেক প্রেসার পড়ে। তাদের শিক্ষা জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। আমরা পরিকল্পনা করছি যাতে পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্য সবগুলো পরীক্ষা নেয়া যায়। এতে করে পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকবে না। সময়ও নষ্ট হবে না। একটু সময় লাগবে। তবে আমরা আশাবদী প্রক্রিয়াটা চালু করতে পারবো।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর গত বছরের তুলনায় শিক্ষার্থী বেড়েছে প্রায় দেড় লাখ। এ থেকে বোঝা যায় ঝরে পড়ার হার  কোমছে। শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল করছে। আশা করছি সামনে আরও এ হার বাড়বে।’

প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দারা মাঠে কাজ করছে। ফেসবুক থেকে শুরু করে সমস্ত ইলেট্রিক মিডিয়াতে বাড়তি নজরদারি করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি কেউ গুজবও ছাড়ায় তাকেও শাস্তি দেয়া হবে। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেল ও ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা। তাছাড়া আমাদের এ আইন করার পর থেকে প্রশ্ন ফাঁস তো দূরের কথা গুজব ছড়ানোরও চেষ্টা করে না।’

এর আগে শিক্ষমন্ত্রী সকাল ১০টা ৮ মিনিটে পরীক্ষার কেন্দ্রের মূল ফটক দিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। পরে তিনি কলেজটির ৯ নম্বর ভবনের তিন তলায় গিয়ে বারান্দা থেকেই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা পরিদর্শন করেন।

পরীক্ষা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিদেরকে পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশ না করার বিষয়ে বলেন, ‘গত কয়েকবছর ধরে খেয়াল করছি একসঙ্গে এত মানুষ পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করলে পরীক্ষার্থীদের সমস্যা হয়। তাই এখন থেকে আমি আর পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশ করবো না।’

এ বছর দেশের আটটি সাধারণ, মাদ্রাসা, কারিগরিসহ ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন মোট পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬২৮। যা গত বছরের চেয়ে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৪৪ জন বেশি। সময়সূচি অনুযায়ী তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে আগামী ৯ জুন। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা ১১ জুন শুরু হয়ে ২০ জুন শেষ হবে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ