| |

সম্পদশালী ও ক্ষমতাসীনদের অর্থ পাচারের নথি ফাঁস

আপডেটঃ 2:01 pm | April 04, 2016

Ad

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পানামার আইনি প্রতিষ্ঠান মোসাক ফোনসেকা’র এক কোটি দশ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয়ে যাবার পর বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানটি তার মক্কেলদের অর্থ পাচার ও ট্যাক্স ফাঁকিতে কী ধরনের সহায়তা করেছে নথিগুলোতে তার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

গোপনীয়তা রক্ষাকারী হিসেবে পৃথিবী জুড়ে সুনাম রয়েছে মোসাক ফোনসেকা’র। এটি পানামার একটি আইনি প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকেই সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে ওই ১ কোটি ১০ লাখ নথিপত্র। এই নথিগুলোই প্রমাণ দিচ্ছে যে, মোসাক ফোনসেকা তার মক্কেলদেরকে অর্থ পাচার, ট্যাক্স ফাঁকি এবং বিভিন্ন রকম নিষেধাজ্ঞাকে ফাঁকি দিতে এই আইনি প্রতিষ্ঠানটি তার মক্কেলদেরকে আইনি পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মোসাক ফোনসেকা বলছে, কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই গত ৪০ বছর ধরে তারা এ ধরনের কাজ করে আসছে। এ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কখনোই কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

ফাঁস হওয়া ওই নথিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর নানান দেশের রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা বিভিন্ন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে নিজেদের দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করছেন ও কৌশলে সেগুলো গোপন রেখেছেন। নথিগুলোতে মোট ৭২ জন বর্তমান ও সাবেক সরকার প্রধানের নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, সৌদি বাদশাহ,  আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর গুননালাউগসন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বশির আল আসাদ, মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক, লিবিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান মুয়াম্মার গাদ্দাফী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পরিবারের সদস্যরা।

ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস বা আইসিআইজে-এর ডিরেক্টর, জেরার্ড রাইল বলেছেন, গত ৪০ বছর ধরে মোসাক ফনসেকা তার দৈনন্দিন যে সকল কাজকর্ম করেছে সেগুলোর নথি রয়েছে এই ফাঁস হওয়া ডকুমেন্টগুলোতে। ইতিমধ্যে বিশ্বের ৭৮টি দেশ ওই নথিগুলো পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেছে। অর্থ পাচারের খবর ফাঁস হওয়ার পর আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্ডুর পদত্যাগের দাবি ওঠেছে।

ব্রেকিং নিউজঃ