| |

পাচার হওয়া ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনলো র‌্যাব

আপডেটঃ 2:06 pm | April 04, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ : দক্ষিণ আফ্রিকায় পাচার হওয়ার পর মুহিত মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র‌্যাব)। এ ঘটনায় সজিব ও বেলায়েত নামে আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের দু’জনকে আটক করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর ওয়ারীতে র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, আটককৃতরা দক্ষিণ আফ্রিকা ও মোজাম্বিকায় মানবপাচার এবং জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করতো।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘মুহিতের মা আনোয়ারা বেগম র‌্যাবের কাছে একটি অভিযোগ দেন। তদন্ত দেখা যায়, রাজধানীর খিলগাঁও থানার পশ্চিম নন্দীপাড়া এলাকায় কয়েকজন দালাল লোকজনকে শ্রমিক হিসেবে বিদেশে পাঠানোর নামে পাচার করে আসছে। ৩০ মার্চ রাতে ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে সজিব ও বেলায়েতকে আটক করা হয়।’

তিনি জানান, আটকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মোজাম্বিকে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত। তাদের চক্রের মূলহোতা কিরণ। বিদেশে পাচার হওয়া মুহিত সম্পর্কে তারা জানায়, মুহিত বর্তমানে পাকিস্তানি এবং আফ্রিকান মানবপাচারকারী চক্রের নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থান করছে।

আটকদের মাধ্যমে পাকিস্তানি চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, মুহিত পাকিস্তানি চক্রের নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ আফ্রিকায় দূতাবাসের পার্শ্ববর্তী এলাকায় আফ্রিকান লোকদের কাছে জিম্মি আছে। এরপর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকায় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুহিতের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে তাকে উদ্ধার করে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সহায়তা চাওয়া হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ মুহিতের বিষয়ে খোঁজ করলে পাকিস্তান মানবপাচারকারী চক্র নিয়ন্ত্রিত আফ্রিকান নাগরিকরা মুহিতকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ মুহিতকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে দেশে পাঠিয়ে দেয়।

মুহিত ২ এপ্রিল রাতে ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজের বিমানে আবুধাবি হয়ে বাংলাদেশ এসে পৌঁছান। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে রোববার মুহিতকে র‌্যাব-৩ এর কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয় এবং মুহিতের মা-বাবাকে বিষয়টি জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে মুহিতকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে অজানা অনেক তথ্য।

জানা যায়, মুহিতের বাড়ি ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার মৃগী গ্রামে। তিনি একজন রাজমিস্ত্রী। সজিবের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং একপর্যায়ে সজিব মুহিতকে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বলে, বিদেশে গিয়ে প্রতিমাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পাবে। বিদেশ যাওয়ার জন্য তাকে ৭ লাখ টাকা দিলে সজিব মুহিতের বিদেশ যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেবে।

মুহিত তার কাছে এতো টাকা নেই বলে জানালে সজিব তাকে বলে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার পর ২ লাখ এবং বাকি ৫ লাখ টাকা তার (সজিব) ভাই বেলায়েতের দোকানে কাজ করে পরিশোধ করতে হবে। মুহিত সজিবের এ কথায় রাজি হয়। পরে তাকে বিদেশ পাঠানো হয়।

তাকে খাবার না দিয়ে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করা হতো। তার পরিবারের কাছে ফোন করে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরো বলেন, সম্প্রতি সময়ে বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকের সুনাম ও চাহিদার প্রেক্ষিত বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ জনশক্তি রপ্তানি হচ্ছে। এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু দালাল চক্র এদেশের সাধারণ জনগণকে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠানোর নামে পাচার করে দিচ্ছে। পাচারের শিকার সাধারণ জনগণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বনে-জঙ্গলে কিংবা কারো কাছে জিম্মি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করে। এদের অনেকেই নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। ভাগ্য প্রসন্ন হলে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরত আসে।

ব্রেকিং নিউজঃ