| |

বিদায় প্রিয় খোকন!

আপডেটঃ 1:38 pm | April 05, 2016

Ad

শিল্প ও বিনোদন প্রতিবেদক : জীবদ্দশায় তিনযুগেরও বেশি সময় বিএফডিসিতে কাটিয়েছেন গুণী নির্মাতা শহিদুল ইসলাম খোকন। কাজ থাকুক বা না থাকুক এফডিসিতে প্রতিদিনই একবার ঢুঁ মারতেন তিনি। কখনো লাইট ক্যামেরা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতেন। একটু অবসর পেলে চা খেতেন। আড্ডা দিতেন। মাতিয়ে রাখতেন চারপাশ। চিরচেনা এফডিসির প্রতিটা ইট তাকে চেনে। এবার শেষবারের মতো এফডিসিতে গেলেন। কিন্তু চুপচাপ, নিরব। মুখে কোন কথা নেই। কখনো আর কথা বলবেনও না। শেষ বারের মতো তাকে বিদায় জানাতে সহকর্মীরা ভিড় করেছিলেন বিএফডিসি প্রাঙ্গনে। কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি আর নেই।

এটিএম শামজুজ্জামান যেমনটি বললেন, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে খোকন চলে গেছে। সে তার কাজের মধ্য দিয়ে বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে।

তিনি আর বলেন, খোকন যে চিন্তা চেতনা থেকে কাজ করতো তা অনেকেই করতে পারবে না। কিন্তু তার দেখানো পথে কাজের চেষ্টা করতে পারবে।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, আশি-নব্বই-এর সময়ে প্রখ্যাত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন খোকন। তার হাত ধরেই অনেক কলাকুশলী এ জগতে এসেছেন।

তিনি আরো বলেন, আজকে যখন চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তখন তাকে হারাতে হলো। তাই নতুন প্রজন্মের কলাকুশলীদের তার কাজ দেখতে হবে। সেখান থেকে শিখে এ শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে এতে হবে।

ওমর সানি বলেন, মৌসুমি তার সর্বাধিক ছবির হিরোইন। সেই সুবাদে খোকন ভাইয়ের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল আমাদের। তার কাজ খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।

খোকনের স্মৃতিচারণ করে ওমর সানি আরো বলেন, খোকন ভাই মারা যাওয়াতে আমি বিস্মিত হইনি। তিনি এর মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছেন।

বেশ  ক’জন তারকা তাকে বিদায় জানাতে হাজির হলেও হালের অনেক জনপ্রিয় তারকারাদেরই দেখা যায়নি। এ বিষয়ে খানিকটা ক্ষোভ ঝরল চিত্রনায়ক রুবেলের মুখে, সকাল থেকেই সবগুলো গণমাধ্যমে খোকন ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ এসেছে। কিন্তু অনেক তারকাই এখানে অনুপস্থিত। অন্য কারো ক্ষেত্রে এটা হলে মেনে নেওয়া যায় কিন্তু খোকন ভাইয়ের ক্ষেত্রে মেনে নেওয়া যায় না।’

আনোয়ারা বলেন, খোকন ভাই আর আসবেন না। তিনি আমাদের রেখে চলে গেছেন। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।

স্মৃতিচারণ করে আরো বলেন, খোকন ভাইয়ের কাছ থেকে মাঝেমধ্যে পান খেতাম। তার কাছে সবসময় মিষ্টি পান থাকতো। আমি মাঝেমধ্যে জিজ্ঞেস করতাম এত পান আপনি কোথায় পান? তিনি হেসে বলতেন-মুন্সিগঞ্জ ও কক্সবাজার থেকে পান আনি।’

খোকনের ছেলে হৃদয় ইসলাম জানালেন,  আমার বাবা আজকে চলে গেছেন। তিনি শুধু নির্মাতা ছিলেন না একজন অভিনেতাও ছিলেন। তিনি যে ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন তার চিকিৎসা নেই। তারপর তিনি অনেক দিন সকলের দোয়ায় বেঁচে ছিলেন। তার অবর্তমানে তার জন্য সকলে দোয়া করবেন।

এসময় আরওউপস্থিত ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ফরিদুর রেজা সাগর, সোহেল রানা, কাজী হায়াৎ, আমজাদ হোসেন, আনোয়ারা, আলমগীর, মুশফিকুর রহমান গুলজার, সোহনুর রহমান সোহান, রুবেল, আলী রাজ, মিজু আহমেদ, ওমর সানী, ড্যানি, সাইমনসহ অনেকে। উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

বিএফডিসিতে তার দ্বিতীয় জানাজা শেষ হয় বিকাল ৫টা ২৪ মিনিটে। এরপর উত্তরা কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে। এর আগে দুপুরে উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টর মসজিদে শহীদুল ইসলাম খোকনের প্রথম জানাজা হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ