| |

৭১ সালে বড়কালীবাড়ি মন্দির এলাকায় স্বাধীনতায় নিহতদেরকে আগামি প্রজন্মের কাছে স্বরনীয় করে রাখতে স্বৃতিফলক স্বাপন করেন মেয়র টিটু

আপডেটঃ 2:13 am | April 06, 2016

Ad

প্রদীপ ভৌমিক : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী ঢাকা শহরের রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রাবাস, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত শাখারি পট্রি সহ সারা দেশে শুরু করে বাঙ্গালি জাতীর ন্যায় সংগত অধীকার জোর করে দাবিয়ে রাখার জন্য নির্মম হত্যাকান্ড। তার এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সর্বত শুরু হয খুন, অগ্নি সংযোগ সহ নির্বিচারে গুলি করে বাঙ্গালি হত্যার উৎসব। ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, পুলিশ, ইপিআর ও ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের বীর সৈনিকেরা শুরু করে বর্বর পাকিস্থানিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে বাঙ্গালি জাতী দলমত নির্বিশেষে ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে স্বাধীনতার যুদ্ধ। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম দিকে ময়মনসিংহে স্বাধীনতা যুদ্ধাদের আধিপত্য থাকলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যে পাক সেনাবাহীনি দখল করে নেয় ময়মনসিংহ শহর সহ তার আশপাশ এলাকা। সেই সময় কিছু অবাঙ্গালী বিহারি ও পাকিস্থানিদের স্থানীয় দালাল মুসলিমলীগ, জামাত সমর্থক বাঙ্গালী কুলাঙ্গার পাকিস্থানি সৈন্যদের সহায়তায় সংখ্যালঘূ সম্প্রদায় সহ আওয়ামীলীগ ও স্বাধীনতাকামি নাগরিকদের হত্যা, তাদের বাড়িঘড় লুট, দখল ও নারী ধর্ষনের মত ঘৃন্য কাজ শুরু করে ময়মনসিংহ শহরে। এমনি অবস্থায় ময়মনসিংহ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের শ্রী শ্রী জয় কালী মাতার মন্দির ও তৎসংলঙ্ন এলাকায় হত্যা করে নিরিহ ১৩ জন বাঙ্গলীকে। এই হত্যা কান্ডে জড়িত ছিল কিছু অবাঙ্গালী বিহারি ও স্থানীয় মুসলিমলীগ সমর্থীত পাকিস্থানি দালালরা।
মুক্তির সোপান তলে জীবনদানকারী সেই বীরদের স্বরনীয় করে রাখতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এপ্রজন্মের তরুন মুক্তিযোদ্ধা জেলা আওয়ামীলীগের সম্মানীত সদস্য ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটু নিহতদের স্বরনে স্বৃতি ফলক স্বাপন করেন শ্রী শ্রী জয় কালী মাতার মন্দির প্রাঙ্গনে। স্বাধীনতা যুদ্বের সময় নিহত সেই সব হতভাগ্যদের নাম সংগ্রহ করার কাজে সহায়তা করেন স্বানীয় বাসিন্দা খগেশ সরকার। স্বৃতি ফলক স্বাপনের সময় মুক্তিযুদ্ধের সময় নিহত সেই সমস্ত মানুষদের পরিবারবর্গ ও উত্তরাধীকারিদের যারা বর্তমানে জীবিত অছেন তাদেরকেও সম্মাননাও দেয়া হয় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। স্বৃতি ফলক স্বাপন ও সম্মাননা অনুষ্ঠানটি করার পুর্ব পর্যন্ত এ প্রজন্মের অনেকেই জানতনা যে এই সমস্ত ব্যাক্তিরা মুক্তিদযুদ্ধের সময় নিহত হয়েছিলেন।
মেয়র টিটুর এ ধরনের একটি উদ্যোগকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানায় ৯ নং ওয়ার্ডের স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী জনগন সাথে সাথে কৃতঙ্গতা জানায় এপ্রজন্মের তরুন মেয়র মো: ইকরামুল হক টিটুকে।
পাকবাহীনি ও তাদের দোসরদের দ্বারা যারা নিহত হয়েছিলেন তৎকালীন সময়ে বড় কালিবাড়ি মন্দির ও তৎসংলগ্ন এলাকায় তাদের নাম……………….
১/ কালিপদ চক্রবর্তী(টিক্কি ঠাকুর) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ব চলাকালিন সময়ে শ্রী শ্রী কালি মাতা মন্দিরের  পুরহীত ছিলেন দুস্কৃতিকারীরা তাকে মন্দিরের ভিতরে গুলি করে হত্যা করে। ২/ ক্ষীতিশ চন্দ্রপাল (ব্যাবসায়ী), ৩/ প্রদ্যুন্ন চক্রবর্তী মায়ের মন্দিরে উনি ভোগ সামগ্রি বিক্রি করতেন, ৪/ অন্যদা সংকর রায়, ৫/ ঘেতু সরকার কাষা ও পিতলের সামগ্রী নির্মানের কারিগর ছিলেন, ৬/ কার্তিক ঘেষ মহুরি হিসাবে কর্মরত ছিলেন, ৭/ সুধাংসু মোহন সরকার রেষন ডিলার ছিলেন, ৮/ মরন সরকার ফেরিওলা, ৯/ অজিত দত্ত, ১০/ মহেন্দ্র তেলী, ১১/ শংকর তেলী, ১২/ বসন্ত চক্রবর্তী চাবিক্রেতা, ১৩/ নগেন্দ্র চন্দ্র নাগ ফল বিক্রেতা।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নিহত উল্লেখ্যিত ব্যাক্তিবর্ঘের পরিবারকে ন্বাধীনতার পরথেকে অদ্যাবধী কোন প্রকার রাষ্টিয় স্বীকৃতি প্রদান ও সাহায্য করা হয়নাই।

ব্রেকিং নিউজঃ