| |

লবণ আল্লাহ প্রদত্ত একটি বিচিত্র নেয়ামত

আপডেটঃ 3:54 am | April 07, 2016

Ad

লবণ আল্লাহ প্রদত্ত একটি বিচিত্র নেয়ামত। যে কোন খাবার সুস্বাদু হওয়া অনেকাংশে লবণের উপরই নির্ভর করে। এটি খাদ্যে ব্যবহৃত এক প্রকারের দানাদার পদার্থ। এর মূল উপাদান হলো (NaCl) বা সোডিয়াম ক্লোরাইড। লবণ প্রাণীর জীবনধারণের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান। লবণের স্বাদকে মৌলিক স্বাদের একটি বলে গণ্য করা হয়।

লবণ আল্লাহ প্রদত্ত একটি বিচিত্র নেয়ামত। যে কোন খাবার সুস্বাদু হওয়া অনেকাংশে লবণের উপরই নির্ভর করে। এটি খাদ্যে ব্যবহৃত এক প্রকারের দানাদার পদার্থ। এর মূল উপাদান হলো (NaCl) বা সোডিয়াম ক্লোরাইড। লবণ প্রাণীর জীবনধারণের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান। লবণের স্বাদকে মৌলিক স্বাদের একটি বলে গণ্য করা হয়। এটি পৃথিবীর সর্বত্র খাদ্য প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়াও লবণ প্রাচীন কাল থেকেই মাছ, চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যাদি সংরক্ষণের জন্য প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

পরিচিত : লবণ একটি পানিগ্রাহী পদার্থ। এটি একটি খনিজদ্রব্যও। বৈজ্ঞানিক নাম : সোডিয়াম ক্লোরাইড (sodium chloride)। দেখতে দানাদার। বর্ণ : সাদাটে। খাদ্য প্রস্তুতির একটি অপরিহার্য উপাদান। লবণের স্বাদ না থাকলে কোন খাবারই খাওয়ার উপযুক্ত হয় না। প্রকারভেদ : মানুষের খাদ্যে বিভিন্ন ধরণের লবণ ব্যবহার করা হয়। যেমন অপরিশোধিত সৈন্ধব লবণ (sea salt), পরিশোধিত খাবার লবণ, আয়োডিনযুক্ত লবণ, বিট লবণ বা সুলেমানি লবণ (এক প্রকারের সোডিয়াম সালফেট সমৃদ্ধ খনিজ লবণ) ইত্যাদি।

উৎস ও উৎপাদন : সমূদ্রের পানি থেকে অথবা খনি থেকে লবণ আহরণ করা হয়। সমূদ্রের লোনা পানি ফুটিয়ে বাষ্পীভূত করে লবণ উৎপাদন করা হয়। এছাড়া লবণাক্ত কূপ অথবা লবণাক্ত হ্রদের পানি থেকেও লবণ আহরণ করা হয়ে থাকে। লোনা পানির পাশাপাশি পাথুরে খনি হতেও লবণ আহরণ করা হয়। প্রকৃতিতে অপোরিশোধিত লবণ পাওয়া যায়, যেমন সমুদ্রের পানি। রিফাইন বা পারিশোধন করে যে উপাদান পাওয়া যায় তাকে আমরা বলি খাবার লবণ। আর ইংরেজিতে একে বলে টেবিল সল্ট। এর সাথে আয়োডিন মিশিয়ে তৈরি করা হয় আয়োডাইজ সল্ট বা আয়োডিন লবণ। ২০০২ সালে বিশ্বে মোট ২১০ মিলিয়ন টন লবণ উৎপাদন করা হয়। শীর্ষ ৫ উৎপাদক রাষ্ট্র হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, (40.3 million tonnes), চীন (32.9), জার্মানি (17.7), ভারত (14.5), এবং কানাডা (12.3).।

প্রাপ্তিস্থান : বাংলাদেশ, পাকিস্থান, ভারত ও নেপালে লবনের খনি আছে।

ব্যবহার : লবণ না হলে আমরা খাদ্যখাবার খেতে পারি না। লবণ শরীরের জন্য খুব দরকারী একটা উপাদান। প্রত্যেক খাদ্যে লবণ দিতেই হয়। লবণ শুধু মানুষেরই নয় সব প্রাণীদেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সর্বোপরি লবণ ছাড়া খাবারের কথা ভাবাই যায় না। মানুষ খাবারের মধ্যে লবণ মিশিয়ে শরীরের প্রয়োজনীয় লবণ গ্রহণ করে। প্রাণীরাও তাদের শরীরের প্রয়োজনীয় লবণ নিজেদের খাবার থেকে জোগাড় করে নেয়। খাবারে লবণ না দিলে কোন খাবারই সুস্বাদু হয় না। সরাসরি খাদ্যখাবার ছাড়াও মানুষ নানাভাবে লবণ গ্রহণ করে। পানি, শাক সবজি, ফলমূল থেকেও পর্যাপ্ত লবণ গ্রহণ করে মানুষ। কিন্তু লবণ শুধু খাবারের স্বাদ ও গুণই বাড়ায় না। আরও অনেক কাজেই লাগে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই জিনিসটি।

শাকসবজি ধোয়া, কৃত্রিম ফুল ও পাতা পরিষ্কার, ফল ও সবজির দাগ দূর করা, তামা, পিতল, রুপা ইত্যাদি ধাতু পরিষ্কার, কাঠ পরিষ্কার, আসবাবপত্র পরিষ্কার, পিঁপড়া দূর করা, গাছের আগাছা দূর করা, দুধ ভালো রাখা, দুর্গন্ধ দূর করা– জুতো, শৌচাগার, ঘরের তাকের পুরোনো বা বাসি গন্ধ দূর করা ও দাঁত শক্ত করার কাজেও লবণ প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। লবণ খুব ভালো প্রিজারভেটিভও। অর্থাৎ লবন দিয়ে অনেকদিন খাবার সংরক্ষণ করা যায়। খাবার বা কোন কিছু অনেকদিন ঠিক রা‌খার জন্য তাতে লবণ মাখিয়ে নিলে সেটি অনেক দিন টিকে থাকে। তাতে সহজে পচন ধরে না।

অর্থনৈতিক তাৎপর্য : পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লবণশিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ফলে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর তত্বাবধানে লবণ শিল্পের ব্যপক উন্নয়ন ঘটছে। যার ধারাবাহিকতায় উপকূলীয় অঞ্চলের জনগোষ্টির আত্মকর্মসংস্থান এবং দেশে লবণ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বিসিক বিগত ১৯৬০ সাল হতে কক্সবাজার এলাকায় কাজ করে আসছে। লবণ শিল্প দেশের সর্ববৃহৎ শ্রম নিবিড় কুটির শিল্প। লবণ উৎপাদন থেকে মিল পর্যায়ে প্যাকেটজাত হওয়া পর্যন্ত এ শিল্পের সংগে প্রায় ০৫(পাঁচ) লক্ষ লোক জড়িত ও প্রায় ২৫(পচিঁশ) লক্ষ লোক নির্ভরশীল। জাতীয় অর্থনীতিতে এ শিল্প প্রতি বছর ১২০০ হতে ১৫০০ কোটি টাকার অবদান রাখে, যা ফিনিস গুডস হিসেবে প্রতিক্রয়াজাত হয়ে ৩০০০-৩৫০০ কোটি টাকায় দাড়াঁয়। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ইপসিক বর্তমান বিসিক সর্বপ্রথম উপকূলীয় অঞ্চলের মাত্র ৬০০০ একর জমি নিয়ে সৌর পদ্ধতিতে লবণ শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করে যা ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়ে ২০১৪-২০১৫ লবণ মৌসুমে লবণ চাষে আনীত জমির পরিমাণ ৫১,৯৭০ একর ।

কুরআনে লবন : লবণের মূল উৎস হল সমুদ্রের পানি। সমুদ্রের পানির থেকেই যে লবণ উৎপাদিত হয়, এসম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কারীমে ইঙ্গিত করেছেন। এরশাদ হয়েছে, “তিনিই সমান্তরালে দুই সমুদ্র প্রবাহিত করেছেন, এটি মিষ্ট, তৃষ্ণা নিবারক ও এটি ললবণাক্ত , বিস্বাদ; উভয়ের মাঝখানে রেখেছেন একটি অন্তরায়, একটি দুর্ভেদ্য আড়াল। সূরা ফুরকান, আয়াত : ৫৩।

হাদিসে লবণ : হাদিসেও লবণের বর্ণনা এসেছে। কখনো লবণের ঔষধি গুণ বর্ণনা করা হয়েছে। কখনো উদাহরণ পেশ করার জন্য হাদিসে লবণের আলোচনা এসেছে। এক হাদিসে এরশাদ হয়েছে, হযরত সা’দ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে কেউ মদিনাবাসীদের ওপর আগ্রাসী হয়ে আসবে সে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, যেমনিভাবে লবণ পানিতে মিশলে নিঃঅস্তিত্ব হয়ে যায়। বুখারি, ১৮৭৭। হুবহু একি আলোচনা ভিন্ন শব্দে মুসলিম শরিফের ১৩৮৬ নং হাদিসের বর্ণনায়ও এসেছে। অপর এক হাদিসে এসেছে, ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযূর সা.তাঁর অন্তিম অসুস্থতার সময়ে একদিন বের হলেন, মেম্বারের ওপরে গিয়ে বসলেন, আল্লাহ তায়ালার হামদ ও সানা বর্ণনা করলেন, অতঃপর বললেন, একসময় এমন আসবে যখন মানুষ অধিক হবে, অথচ দ্বিনের সাহায্যকারী এতো পরিমাণ কমে যাবে, খাবারের মধ্যে লবণ যত পরিমাণ থাকে। বুখারি, ৩৬২৮।

মাওলানা সাঈদ কাদির
সহকারী পরিচালক, মোহাম্মাদিয়া কওমী মাদরাসা, কোনাবাড়ি, গাজীপুর

ব্রেকিং নিউজঃ