| |

অটো পাইলটের ট্রাকে ইউরোপ ভ্রমণ

আপডেটঃ 3:48 pm | April 07, 2016

Ad

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : হাইওয়েতে প্রায়ই দেখা যায় রাস্তার পাশে ট্রাক পার্কিং করে চালক ঘুমিয়ে নিচ্ছেন। কেননা, দূরের পথ পাড়ি দিতে গেলে চালকের চোখে-মুখে ক্লান্তি নামে। তাই সড়কের পাশে ট্রাক পার্কিং করে চালক বিশ্রাম নিয়ে নেন। গত বছর মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডেইমলারের সহযোগিতায় বানায় অটো পাইলট ট্রাক। হাইওয়েতে চলন্ত গাড়িতেই চালক বিশ্রাম নিতে পারেন এই গাড়ি গুলোতে।

বিমানের মতো এই গাড়িগুলোতেও রয়েছে অটো ড্রাইভ সিস্টেম। এই সিস্টেমে গাড়ির সেন্সরগুলো কার্যকর থাকে এবং ক্যামেরা ও সেন্সরের সাহায্যে গাড়ি নিজে নিজেই চলবে।

সম্প্রতি মার্সিডিজ বেঞ্জের তিনটি ট্রাক অটো পাইলটের সাহায্যে সারা ইউরোপ ঘুরেছে।

অটো পাইলট সিস্টেমের ট্রাকগুলো যাত্রা শুরু করে স্টাটগার্ড থেকে। যাত্রা শেষ হয় রোটারডামে। এর মধ্যে পাড়ি দেয় ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ। নেদারল্যান্ড সরকার কর্তৃক আয়োজিত ইউরোপিয়ান ট্রাক প্লাটুনিং চ্যালেঞ্জ ২০১৬ তে মার্সিডিজ বেঞ্জ তাদের নির্মিত অটো পাইলটের গাড়িগুলোর কার্যক্ষমতা প্রদর্শন করে সারা ইউরোপে। নতুন এই ট্রাকগুলো তেল সাশ্রয়ী এবং ১০ শতাংশ পর্যন্ত পরিবেশ বান্ধব।
মার্সিডিজের প্রতিবেদন অনুসারে, তিনটি ট্রাকের মধ্যে প্রথমটির তুলনায় পরের দুটি ট্রাকের তেল সাশ্রয় হয়েছে বেশি। কারণ তিনটি ট্রাক একই লাইনে পরিচালিত হয়েছে। প্রতিটি ট্রাক শক্তি ব্যয় করে বাতাসের বিরুদ্ধে সামনে এগিয়ে গিয়ে। এখানে প্রথম ট্রাককে যতটুকু বাতাসের সাথে লড়তে হয়েছে, সেন্সর থাকার কারণে অন্য দুইটি ট্রাকে ততটা বাতাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়নি। যার কারণে তাদের ফুয়েল কম খরচ হয়েছে।

মানুষের মতই অটো পাইলটের ট্রাকগুলোও নিয়ন্ত্রণে ছিল পারদর্শী। কারণ, স্লিউ সেন্সরের মাধ্যমে আলোর গতির মতো দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারে অটো পাইলট সিস্টেম। উদাহরণস্বরুপ, একজন মানুষের রাস্তার অবস্থা অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে সময় লাগে ১.৪ সেকেন্ড। মার্সিডিজ বেঞ্জের হাইওয়ে পাইলট কানেক্ট সিস্টেমের লাগে মাত্র .১ সেকেন্ড।

এই ট্রাকগুলো ওয়াই ফাই সংযোগের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। এছাড়াও এদের রয়েছে ভেহিকেল টু ভেহিকেল (ভিটুভি) যোগাযোগ মাধ্যম। তাই শুধু গাড়িগুলো নিজেদের সামনের পথ ও আসে পাশেই দেখে না। এরা নিজেদের সেন্সরগুলো পরস্পরকে দেখতে এবং তথ্য আদান প্রদান করতেও ব্যবহার করে।

যাত্রাপথে এই ট্রাকগুলো ক্লান্তি দুর করবে এবং ড্রাইভারের শারীরিক কার্যক্ষমতা ঠিক রাখবে। এই ট্রাকগুলো পরিচালনা খরচও কম। হাইওয়েতে চলাচলের জন্য এই ট্রাকগুলো বেশ ফলপ্রসু।

ব্রেকিং নিউজঃ