| |

‘মানুষের রক্তের প্রতি আমার অদ্ভুত আকর্ষণ’

আপডেটঃ 8:30 pm | April 07, 2016

Ad

ফিচার ডেস্ক : রক্তচোষা বা ভ্যাম্পায়ার হচ্ছে লোককাহিনির একটি ভৌতিক চরিত্র যে কি না জীবিত প্রাণীর রক্ত খেয়ে বাঁচে। এরা না-জীবিত না-মৃত। ভ্যাম্পায়ার নিয়ে লেখা হয়েছে অনেক গল্প-উপন্যাস, তৈরি হয়েছে সিনেমা। ভ্যাম্পায়ার নিয়ে বাম স্ট্রোকারের ড্রাকুলা উপন্যাসটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, এমনকি এই শতাব্দীতেও এই জনপ্রিয়তা ম্লান হয়নি এতটুকুও। বলা হয়ে থাকে ভ্যাম্পায়ার তার শিকার ধরে রাতের বেলা। মুখের দু পাশ থেকে বেরিয়ে থাকা শ্বাদন্ত শিকারের গলায় ফুটিয়ে পান করে নেয় তার শরীরের সব রক্ত। ফলাফল অসহায় শিকারটির মৃত্যু। এ তো গেল কল্পনার ভ্যাম্পায়ারের কথা। বাস্তবে যদি এমন কোনো ভ্যাম্পায়ারের মুখোমুখি পড়ে যান তখন কেমন লাগবে? বিশ্বাস হচ্ছে না? কি মনে হচ্ছে? কল্পনার ভৌতিক চরিত্র বাস্তবে কেমন করে আসবে?

বাস্তবে এমনই এক ভ্যাম্পায়ারের সন্ধান পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে। মিশেল নামের এই মহিলার কাছে রক্ত পান করা নেশার মতো। ২৯ বছর বয়সী মিশেল সপ্তাহে ৩৬ লিটার শূকর ও গরুর রক্ত পান করেন। এমনকি এই ৭ দিনের মধ্যে একদিন তার মানুষের রক্ত চাই চাই-ই। এই রক্তপিপাসু নারী কল্পনাকেও হার মানিয়েছেন। তাই ক্যালিফোর্নিয়াবাসী মিশেলের নাম দিয়েছে ভ্যা¤পায়ার লেডি। মিশেল ক্যালিফোর্নিয়ার শহরতলিতে বাস করেন। তিনি একজন উল্কিশিল্পী। তার সবচেয়ে প্রিয় পানীয় হলো ব্লাডি মেরি নামে এক ধরনের কড়া মদ। মিশেল এই মদের সঙ্গে সাধারণত রক্ত মিশিয়ে পান করেন। ভয়ংকর বিষয় হলো, পানের জন্য মিশেলের প্রথম পছন্দ মানুষের রক্ত।

তবে সেটি সবসময় পাওয়া সম্ভব হয় না বলে সাধারণত শূকরের রক্ত পান করেন তিনি। সেই টিনএজ বয়স থেকেই মিশেল রক্ত পান করা শুরু করেছেন। যখন থেকে তিনি এই অভ্যাস শুরু করলেন তখন থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার লিটারের মতো রক্ত নাকি পান করে ফেলেছেন। তবে আশার কথা হলো, তিনি এই রক্তপিপাসা মেটাতে এখন পর্যন্ত নিজেকে বা অন্য কাউকে আঁচড়ে কিংবা কামড়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেননি। এই অদ্ভুত নেশা সম্পর্কে মিশেল জানান, ‘মানুষের রক্তের প্রতি আমার অদ্ভুত আকর্ষণ রয়েছে। তবে সেটি সবসময় পাওয়া যায় না বলে আমি প্রতি সপ্তাহে ৩৬ লিটার শূকরের রক্ত পান করি।’ মিশেলের দেওয়া তথ্য মতে, গত দশ বছরে তিনি যে পরিমাণ রক্ত পান করেছেন তা দিয়ে কমপক্ষে ২৩টি বড় বাথটাব কানায় কানায় ভর্তি করা যেত। মিশেল আরও বলেন, ‘আমি এমনভাবে এটি গ্রহণ করি যেমন করে নেশা পেলে মানুষ সিগারেট পান করে।

আমি পড়ার সময়, আরাম করার সময়, এমনকি ছবি আঁকার সময়ও রক্ত পান করি। এটি অনেকটা ঠা-া অবস্থায় গরম মদ পান করার মতো। আমি এই রক্ত এবং ব্লাডি মেরি (ফলের রস সহযোগে বানানো এক ধরনের কড়া মদ) মিশিয়ে পান করি। এর জন্য আমি সাধারণত শূকর ও গরুর রক্ত ব্যবহার করি। এটি পান করতে একটু নোনতা তবে স্বাদ একদম ওয়াইনের মতোই। তবে আমি যতদূর সম্ভব মানুষের রক্ত পানেরই চেষ্টা করি।’ তবে মিশেল অবশ্য নিজেকে ভ্যা¤পায়ারের কাতারে ফেলতে রাজি নন। তার ভাষ্যমতে, তিনি শুধুই এমন এক নারী যিনি কেবল রক্ত পান করতে খুব ভালোবাসেন। কিন্তু কথা হলো মানুষের রক্ত পান কোথায় মিশেল? সপ্তাহে একদিন তিনি তার বন্ধু জনির হাত থেকে কখনো ৩০ সেকেন্ড, কখনো বা পাঁচ মিনিট ধরে তাজা রক্ত চুষে খান। অবশ্য এর আগে তিনি অন্য লোকের কাছ থেকেও রক্ত পান করতেন। তবে এতে এইডসসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থাকায় এখন খুব কাছের বন্ধু ছাড়া তিনি আর কারো কাছ থেকে রক্ত নেন না।

মিশেল যখন কিশোরী সে সময় হঠাৎ করে ডিপ্রেশনে ভোগা শুরু করেন। একদিন তার হাত কেটে যাওয়ায় সেখান থেকে চুইয়ে চুইয়ে রক্ত পড়ছিল। তিনি তখন কিছুটা রক্ত চেটে খেয়ে ফেলেন আর অনুভব করেন তার ভালো লাগছে। তখন থেকেই এই অদ্ভুত নেশা শুরু। মিশেলের মা তার এই অভ্যাসের কথা জানতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি মিশেলকে ভালো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বলেন। মিশেলের মা তাকে বলেন, ‘আমি কখনোই তোমাকে ভালোবাসা বন্ধ করতে পারব না শুধুমাত্র এই জন্য যে, তোমার কিছু অদ্ভুত অভ্যাস আছে।

ব্রেকিং নিউজঃ