| |

বৈশাখী আনন্দে মেতেছে ময়মনসিংহ নগরবাসী

আপডেটঃ 3:43 pm | April 15, 2016

Ad

মো: মেরাজ উদ্দিন বাপ্পি :
শিশু-কিশোরদের কলকাকলি আর বৃদ্ধ সবার সরব পদচারণায় লোকারণ্য হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহ শহরের জয়নুল উদ্যান তথা সাহেব পার্ক ও বিপিন পার্ক। ব্রক্ষপুত্রের তীরঘেঁষে গড়ে উঠা ২ কিলোমিটার ব্যাপী লম্বা পর্যটন ও বিনোদনের এ স্পট দুটি বৈশাখের প্রথম দিন থেকেই ছিল পরিপূর্ণ।
এছাড়া শহরে প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে নির্মল আনন্দের পরশ পেতে ব্রক্ষপুত্রের তীরঘেঁষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক, আ¤্রপল্লী ও বিনার উদ্যানে ছিল বিনোদন প্রিয় মানুষের ঢল। সেখানে মানুষজন ছুটেছেন বিনোদনের ভিন্ন আমেজ পেতে। ময়মনসিংহ শহরের বাইরে ফুলবাড়ীয়ায় আলাদ্দিন পার্ক, ভালুকার হবিরবাড়ীতে অবস্থিত তেপান্তর শুটিং স্পট, লাবণী সুটিং র্স্পট, পালগাঁও জাতীয় উদ্যান, প্যারাডাইস পিকনিক র্স্পট, হাজির রাজার, হরিটেজ পার্ক ও ত্রিশালের কবি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত পর্যটন এলাকাগুলোয়ও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।
ময়মনসিংহ শহরের শুম্ভুগঞ্জ এলাকায় ব্রক্ষপুত্র নদের ওপর সেতুতেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। মুক্তাগাছায় সংস্কারকৃত জমিদারবাড়িতেও কিছু দর্শনার্থী ঈদের ছুটিতে বেড়াতে এসেছেন।

ময়মনসিংহ শহরের জয়নুল উদ্যানে শুক্রবার বিকেলে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঘুরতে এসেছেন শহরের শানকি পাড়া এলাকার বাসিন্দা মনির তিনি বলেন, ময়মনসিংহের বিনোদনকেন্দ্র বলতেই এখন এ পার্কটিই সবার পছন্দ। গাছ আর নদী এ দুয়ে সবুজ শ্যামল ছায়াপথে প্রকৃতির কাছে আসা মানুষের জন্য ভালো লাগার নান্দনিক দিক ও সুযোগ রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদছোঁয়া জয়নুল উদ্যানে। এখানে রয়েছে চিড়িয়াখানা। নান্দনিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আছে ফোয়ারা, ব্যায়ামাগার। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে স্পেশাল রাইড।
শিশুদের চিড়িয়াখানায় নানা প্রজাতির পশুপাখির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে নিয়ে অনেক বাবা-মা সন্তানদের দিয়ে চিড়িয়াখানা ঘুরছেন। ময়ূরের পেখম তোলা দেখায় মুগ্ধ শিশু, বৃদ্ধ থেকে যুবক-যুবতীরা। বিনোদনপিপাসু সবার চোখে-মুখে নির্মল আনন্দের উচ্ছ্বাস।

DSC_0051
জয়নুল উদ্যানের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ব্্রহ্মপুত্র নদ। বৈশাখের ছুটিতে বিনোদনপিয়াসীদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে শহরের কংগ্রেস জুবলী রোডের বিপিন পার্ক।
বৈশাখী দিন থেকে এ পর্যন্ত এ পার্কেও ছিল নানা বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড়। পার্কের মাঝখানে বসানো ঝর্ণায় রয়েছে ৯ ফুট উঁচু তিনটি কোরাল মাছ। ফাইবারের তৈরি এ দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর মধ্য দিয়ে নতুন অস্তিত্ব পাওয়া এ পার্কে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত শিশু-কিশোর ও অভিভাবকদের পদচারণায় মুখর থাকে।
পার্কের ভেতরের স্টিলের পাইপের সীমানা প্রাচীর, পাকা স্ট্যাপের হাঁটার পথ, ফুলের বাগান, ঝর্ণা আর পরিবেশ দৃষ্টিনন্দন। এছাড়া পার্কের ভেতর একাধিক ফাস্টফুড়ের দোকান, শতাধিক স্টল পর্যটকদের জন্য খাওয়া ও কেনাকাটার সুযোগ করে দিয়েছে।
এ দুটি পার্কে বিনোদন পেতে শহরের বাইরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন। বৈশাখের ছুটিতে মন ভরে বিনোদন করার জন্য এ দুটি স্থানকে বেছে নিয়েছেন ময়মনসিংহবাসী।

ব্রেকিং নিউজঃ