| |

শেখ জামালকে উড়িয়ে ফাইনালে ঢাকা আবাহনী

আপডেটঃ 9:13 pm | May 03, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ : গ্রুপ পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। এ গ্রুপ থেকে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই জয়, একটিতে ড্র। দুই গ্রুপ মিলে সর্বোচ্চ ১৩ পয়েন্ট নিয়েই স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের সেমিতে উঠে এসেছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি। কিন্তু ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে সেই শেখ জামাল ঢাকা আবাহনীর কাছে এমন নতী স্বীকার করবে তা ভাবেনি কেউ। মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম সেমিফাইনালে শেখ জামালকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে ঢাকা আবাহনী। সানডের হ্যাটট্রিকসহ চার গোলের সুবাদে ঢাকা আবাহনী জিতেছে ৬-০ ব্যবধানে।

ক্লাবের ইতিহাসে এমন বাজে পরাজয়ের স্মৃতি নেই শেখ জামালের। এর আগে শেখ জামালের বড় পরাজয়ের রেকর্ড ছিল ৫-০ গোলে। ২০১০ সালে সেই হারও ছিল ঢাকা আবাহনীর সঙ্গে। এবার স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে বড় পরাজয়ের তিক্ত স্মৃতির স্বাক্ষী হয়ে রইল ধানমন্ডির ক্লাবটি। অন্যদিকে নতুন মৌসুমে নিজেদের ভালোমতোই জানান দিল ঢাকা আবাহনী। সেমিতে আবাহনীর দারুণ এই জয়ের কৃতিত্ব অবশ্য দুই বিদেশীর। নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে চিজোবা করেছেন হ্যাটট্রিকসহ চার গোল। বাকি দুই গোল করেছেন আর্সেনালের সাবেক ইংলিশ ফুটবলার লি টাক।

অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধ এমন গোল বন্যার আভাস দেয়নি। আবাহনীর আধিপত্য থাকলেও এই অর্ধে শেখ জামালও বেশকিছু আক্রমণ করেছে। তবে প্রথমার্ধে গোল পায়নি কোন দলই। প্রথমার্ধে গোলশূন্য ম্যাচটির দ্বিতীয়ার্ধে দেখা মিলবে ছয়টি গোলের, তা ছিল অনুনমিত।

তবে প্রথমার্ধেই গোল পেতে পারত ঢাকা আবাহনী। ছয় মিনিটেই লিটাকের পাসে দক্ষতার সঙ্গে শেখ জামালের বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন সানডে চিজোবা। তবে গোলরক্ষককে একা পেয়েও প্লেসিং করতে পারেননি। ১২ মিনিটে লিটাকের পাস থেকে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করেন চামারা। ৩৬ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিল শেখ জামাল। তবে আবাহনীর গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি শেখ জামালের হাইতিয়ান অধিনায়ক ওয়েডসন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই শেখ জামালের দুঃস্বপ্নের শুরু। ৪৭ মিনিটে আবাহনীর হয়ে গোল উৎসবের সূচনা করেন ইংলিশ ফুটবলার লি আন্দ্রেই টাক। প্রথম গোল অবশ্য পেনাল্টি থেকে। বক্সের মধ্যে আবাহনীর চামারাকে ফেলে দেন শেখ জামালের এক ডিফেন্ডার। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে দক্ষতার সঙ্গে গোল করেন লিটাক (১-০)।

৫০ মিনিটে আবারো গোল। এবারও লিটাক। সানডের পাস থেকে বক্সের মধ্যে জটলার মধ্যে শুয়ে পড়ে গোল করেন তিনি (২-০)।৬০ মিনিটে নিজের গোলের সূচনা করেন সানডে চিজোবা। মাঝ মাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত প্লেসিং (৩-০)। এর মিনিট চারেক পরই দ্বিতীয় গোল করেন সানডে। স্কোর বেড়ে তখন ৪-০।

সানডের সামনে তখন হ্যাটট্রিকের সুযোগ। সেটা এসেও যায় ৮১ মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে জুয়েল রানার দুর্দান্ত ক্রস, সানডের বুলেট গতির হেড। পূর্ণ হয় সানডের হ্যাটট্রিক। স্কোর বেড়ে তখন ৫-০। নিশ্চিত পরাজয় দেখছে তখন শেখ জামাল। সবাই প্রত্যাশা করেছিল, হয়তো শেষের দিকে হলেও একটি গোল পরিশোধ করতে পারবে তারা। কিন্তু না, উল্টো আরও একটি গোল হজম করে শেখ জামাল। তাও মিনিট দুয়েক পরই। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে সানডের বাঁকানো শট আশ্রয় নেয় শেখ জামালের জালে।

শেষ অবধি ৬-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ঢাকা আবাহনী। আর বাজে পরাজয়ে বিধ্বস্ত হয়ে মাঠ ছাড়ে দেশের অন্যতম সেরা ক্লাবের তকমা পাওয়া শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।

ব্রেকিং নিউজঃ