| |

চট্রগ্রামে ছাত্রলীগ নেতা রনি গ্রেপ্তার: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ

আপডেটঃ 3:28 am | May 09, 2016

Ad

আলোকিত ময়মনসিংহ ডেস্ক: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনিকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যেমে দুই বছরের সাজা দিয়ে রোববার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে রনিকে গ্রেপ্তার করায় প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় সহ ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের অনেকেই রনির গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ করছেন।
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম তার ফেইসবুকে লিখেন…….‘‘ক্ষমা চাই রনির বাবা মা র কাছে। আগে যদি জানতাম তাহলে রনি কে নেতা বানাতাম না অন্তত ওকে জেল হাজতে যেতে হতোনা। রনি যে বড্ড বেমানান মেজবান ভিত্তিক রাজনীতির সাথে আগে বুঝিনি। রনির তুলনা রনি নিজেই। ক্ষমা করে দিস…..
আজকের পরে আর কোন ছাত্রলীগের বড় নেতাদের বিরক্ত ও করবোনা ছাত্রলীগ নিয়ে আর লিখবোও না ভূলে যাই যে আমি সাবেক……। ভালো থাকার চেষ্টা করুন তৃণমূলের কর্মীরা ¯্রােতের সাথে গা ভাসিয়ে নইলে পরিনতি রাজু অথবা রনির মতোই হইতোবা হবে।
ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির উপ সম্পাদক জসিম উদ্দিন আকন্দ রনি তার ফেসবুক স্টেটাসে লিখেন….. নুরুল আজিম রনি আমার ছাত্রলীগের ভাই, আমি আমার ভাইয়ের নি:শর্ত মুক্তি চাই।
নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী তার নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্টেটাস’টিতে তিনি বলেন … যে দৃশ্য গুলো কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না-পারব না।
ইতিহাস বলে ছাত্রলীগের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ
যখন রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ছিল,প্রতিযোগিতা ছিল প্রয়োজন ছিল ছাত্রলীগ,অবদানে ছাত্রলীগ, দু:সময়ে ছাত্রলীগ, ত্যাগ তিতিক্ষায় ছাত্রলীগ, আন্দোলনে ছাত্রলীগ, রাজপথে ছাত্রলীগ, সংগ্রামে ছাত্রলীগ অন্যায় অপকর্মের প্রতিবাদে ছাত্রলীগ, আবেগে ছাত্রলীগ, অগ্নি পরীক্ষায় ছাত্রলীগ, নির্বাচনে প্রয়োজন ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগের একজন সাবেক কর্মী হিসেবে দু:সময়ে যার অবদান সেই রনির সাথে এমন স্পর্ধিত আচরন এবং তার দন্ডিত হওয়া মেনে নিতে পারলাম না।
অশুভ ¯্রােতের সাথে গা না ভাসানোর কারনে যার/যাদের ব্যক্তি আক্রোশের জঘন্য ষড়যন্ত্রের শিকার ও ভুক্তভোগী আজ রনি সেই বেঈমান/দের শাস্তির মুখোমুখী করা হউক ও অবিলম্বে আইনী প্রক্রিয়া করে রনিকে মুক্তি দেয়া হউক।
ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: রকিবুল ইসলাম রকিব তার ফেইসবুকে লিখেন……. বাপ চাচারা সাত ভাই, বাপ না থাকলে কেউই নাই, আপনিই তো বলেছিলেন ছাত্রলীগ এতিমদের সংগঠন, সত্যিই ভাই আপনি বিহীন আমরা শুধু এতিমইনা আমরা বর্তমানে অনাথও বটে। আর যেহেতু আমরা যানি আমরা এতিম তবে এটা মেনে নেওয়াই শ্রেয়। বুঝতে হবে ঘাবরাইলে চলবে না – চিনির স্বাদ কি গুরে মিটে…….??
আমি রকিব অকপটে স্বীকার করি….ছিলই না কিছুই আমার হারাবোই বা কি…? আর যা পেয়েছি, তা তো আপনিই গোবর থেকে তুলে এনে নাম দিয়েছেন পদ্ম’। আপনি ই এতিমদের শিখিয়েছেন সাদা কে সাদা আর কালো কে কালো বলতে, তবে কিসের অনুকূল আর প্রতিকূল..!! হারানোর ভয় নাই কোন, ভয় শুধু এটাই – আপনার দেওয়া শিক্ষা না যানি কোন দিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে হারিয়ে যায়….. !!! মমতাময়ী মা’ দেশরতœ শেখ হাসিনার বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিদ্রঃ আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এতিমবৃন্দ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ তীব্রতর হচ্ছে। সারাদেশ থেকেই প্রতিবাদ হচ্ছে জনপ্রিয় এই ছাত্রনেতার গ্রেপ্তারে।
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুর সোয়া ১২টায় মির্জাপুর ইউনিয়নের সাত নম্বর ভোটকেন্দ্র ছইল্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাকে আটক করে নির্বাচনে দায়িত্বরত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাকে হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, রনির বিরুদ্ধে ইউপি নির্বাচনে প্রভাববিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ