| |

নান্দাইলের এমপি তুহিনের সুপারিশে জামাতের সেক্রেটারী বিস্ফোরক মামলার জেল ফেরত আসামীকে কাজী হিসাবে নিয়োগ দিলেন জেলা রেজিষ্টার

আপডেটঃ 9:51 pm | May 16, 2016

Ad

মো: নাজমুল হুদা মানিক: নান্দাইল উপজেলা জামাতের সেক্রেটারী বিস্ফোরক মামলার জেল ফেরত আসামীকে নান্দাইল পৌরসভায় নিকাহ রেজিষ্টার (কাজী) হিসাবে নিয়োগ দিলেন ময়মনসিংহ জেলা রেজিষ্টার বি.এম. মোসাদ্দেক হোসেন। মুক্তিযুদ্ধের স্বপরে শক্তি ও বর্তমান সরকার যখন স্বাধীনতা বিরোধী ও মানবতা বিরোধী দল জামাতকে নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহন করছেন ঠিক সেই সময়ে নান্দাইল উপজেলা পৌরসভার নিকাহ রেজিষ্টার (কাজী) হিসাবে নিয়োগ প্রদানের জন্য স্বাধীনতা বিরোধী জামাতের নান্দাইল উপজেলার সেক্রেটারী মো: শামসুদ্দিন এর আবেদন পত্রে সুপারিশ করেছেন নান্দাইলের আওয়ামীলীগের দলীয় এমপি ও নান্দাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন। সেই আবেদনে সুপারিশের প্রেেিত নান্দাইল উপজেলা জামাত সেক্রেটারী মো: শামসুদ্দিন কে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ প্রদান করেছেন জেলা রেজিষ্টার বি.এম. মোসাদ্দেক হোসেন। এ ব্যপারে জেলা রেজিষ্টারকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের রাগত স্বরে বলেন, জামাতের লোকজন কি চাকুরী পাবেনা। সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী সঠিক পদ্বতিতেই উক্ত নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, স্থানীয় এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন সুপারিশ করেছেন বিধায় আমি এ নিয়োগ দিয়েছি। তিনি এক পর্যায়ে বলেন, এ ব্যাপারে কোন নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি। প্রসংঙ্গত উল্লেখ থাকে যে, নান্দাইল পৌরসভার কাজী হুমায়ুন কবীর ২৮/০৪/২০১৬ ইং তারিখে মারা যান। সেই স্থানটি পুরনের জন্য নিয়ম অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউকে অস্থায়ী ভাবে দ্বায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। এ েেত্র ৯নং আচারগাঁও ইউনিয়নের কাজী মো: নুরুল ইসলামকে প্রথমে অতি: দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কাজী আওয়ামী ওলামা লীগের নেতা আতাউর রহমানকে নিয়োগ দেয়ার জন্য ডিও লেটার প্রদান করেন এমপি তুহিন। কাজী নুরুল ইসলামের বাড়ী পার্শবর্তী না হওয়ায় জেলা রেজিষ্টার অসম্মতি জ্ঞাপন করেন । এর পুর্বে ৫২১ নম্বর ডিও মুলে এমপি তুহিন নান্দাইল ইউনিয়নের ওলামালীগের সদস্য মাসুদ মিয়াকে শুন্যপদে নিয়োগের জন্য ২২/১২/১৫ইং তারিখে একটি ডিও প্রদান করেন। কিন্তু জেলা রেজিষ্টার বি.এম. মোসাদ্দেক হোসেন নান্দাইল উপজেলা জামাত সেক্রেটারী মো: শামসুদ্দিন এর আবেদনকৃত দরখাস্তে যাহাতে নান্দাইল এর এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিনের সুপারিশকৃত আবেদনটিকে আমলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ১০নং শেরপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ কর্মী কাজী আব্দুল হান্নান ও আচারগাঁও ইউনিয়নের নুরুল ইসলাম কে পাশ কাটিয়ে জামাতের সেক্রেটারী বিস্ফোরক মামলার ২নং আসামী মো: শামসুদ্দিন কে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগ প্রদান করেন। এই সমস্ত ঘটনাবলীতে প্রমানিত হয় যে বিশেষ কোন উদ্যেশ্যে অথবা জামাতকে পুর্নবাসনের অভিলাষ থেকেই  এ কাজটি করা হয়েছে। এ েেত্র এমপি তুহিনের সুপারিশটি উদ্যেশ্য হাসিলের পে সহায়ক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জামাতের বিরুদ্ধে কঠোর ভুমিয়ায় অবস্থান নিলেও এমপি তুহিনের সুপারিশে কাজীর নিয়োগ পেলেন জামাত সেক্রেটারী শামসুদ্দিন। অনুসন্ধানে জানাযায়, সরকারের প্রশাসনের ভিতরেও জামাত শিবিরের এজেন্টরা সুকৌশলে জামাত পুর্নবাসনের কাজটি চালিয়ে যাচ্ছে। কোন কোন েেত্র স্থানীয় এমপি ও সরকারী কর্মকর্তারা দলীয় নেতাদের ব্যবহার করে স্বার্থ হাছিলের চেষ্টা করছে। খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নান্দাইল মডেল থানার ৩২ নম্বর মামলার ১৯০৮ ধারায় বিস্ফোরক আইন (সংশোধানী) ২০০২ সনের ৩/৪/৬ ধারায় রুজু করা বিস্ফোরক মামলার ২নং আসামী নান্দাইল উপজেলা জামাতের সেক্রেটারী মো: শামসুদ্দিনকে কাজী হিসাবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। যা স্বাধীনতাকামী মানুষের মাঝে ােভের সৃষ্টি করে। নান্দাইলের বিভিন্ন স্তরের জনগন নিন্দা ও ঘৃনা জানায়। সেই সাথে জেলা কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক ও আওয়ামীলীগের এমপি আনোয়ারুল আবেদীন তুহিনকে এধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য নান্দাইলবাসী আহবান জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ